kalerkantho


প্রগ্রামিং প্রতিযোগিতা

চাই আদর্শ ল্যাব, দক্ষ প্রশিক্ষক

১ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চাই আদর্শ ল্যাব, দক্ষ প্রশিক্ষক

২০১৯ সালের জন্য এসিএম-আইসিপিসির ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার একটি মুহূর্ত

অঙ্কের খেলা প্রগ্রামিংয়ে অন্যান্য দেশের মেধাবীদের সঙ্গে অংশ নিচ্ছে বাংলাদেশের তরুণরাও। বিশ্ব প্রগ্রামিংয়ের মর্যাদাপূর্ণ আসর এসিএম-আইসিপিসিতে বাংলাদেশের ফল মাঝারি। যথাযথ কিছু উদ্যোগে পাল্টে যেতে পারে শিক্ষার্থীদের ফলাফল। প্রশিক্ষক ও অতীতে ভালো ফল করা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত জানাচ্ছেন ইমরান হোসেন মিলন

 

একটি আদর্শ প্রগ্রামিং ল্যাব কেমন হওয়া উচিত? এমন প্রশ্নের জবাবে এসিএম-আইসিপিসি ২০১৮ আয়োজনে ওয়ার্ল্ড ফাইনালে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থী কাজী নাঈম বলেন, প্রগ্রামিংয়ের জন্য ‘আদর্শ ল্যাব’-এর মানদণ্ড নির্ধারণ করা কঠিন। সাধারণত প্রগ্রামিং করার জন্য মোটামুটি কনফিগারেশনের কম্পিউটার এবং ভালো ইন্টারনেট সংযোগ থাকলেই হয়। তবে সবচেয়ে বড় বিষয় পরিবেশ। তিনি বলেন, বাইরের দেশে প্রগ্রামিংয়ের জন্য বড় বড় আর আধুনিক সব ধরনের সুবিধাযুক্ত ল্যাব থাকে। সেখানে কম্পিউটার সিস্টেম, ক্লাসরুমের আদলে বোর্ড, খাবার-পানি, চা-কফিসহ ল্যাবে রাতে থাকার ব্যবস্থা—সবই। কারণ প্রগ্রামিং করার জন্য মূল বিষয়টি হচ্ছে আমি কতটা সময় দিতে পারছি।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী বলেন, প্রগ্রামিং করতে হলে ল্যাবের গুরুত্ব আছে। আমরাও একটি ল্যাবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। তবে সেটাকে একেবারে আদর্শ ল্যাব বললে ভুল হবে। সেখানে কয়েকটা কম্পিউটার আর ইন্টারনেট সংযোগ ছিল। কিন্তু এর বাইরেও শিক্ষার্থীদের আরো অনেক সুবিধা দরকার।

শাবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জুবায়ের আরাফ। তিনি ২০১৯ সালের জন্য এসিএম-আইসিপিসির ঢাকা অঞ্চলের প্রতিযোগিতার বিজয়ী। প্রগ্রামিংয়ের ‘আদর্শ’ ল্যাবের সংজ্ঞা তাঁর কাছে ভিন্ন। তাঁর মতে, কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ তো প্রাথমিক এবং অপরিহার্য বিষয়। কিন্তু আদর্শ প্রগ্রামিং ল্যাবের প্রধান বিষয় হওয়া উচিত ২৪ ঘণ্টাই প্রবেশাধিকার। আমার হয়তো রাত ৩টায় মনে হয়েছে এটা করা দরকার। আমি তখনই যেন ল্যাবে বসতে পারি। এমন হতে পারে, শিক্ষার্থীরা সেখানে দু-তিন-চার দিন কাটিয়ে দিতে পারে শুধু প্রগ্রামিং করেই। এর জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা থাকতে হবে। হয়তো মন চাইতে পারে এখন একটু জিরিয়ে নেওয়া যাক, সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের খেলার ব্যবস্থাও থাকতে পারে ল্যাবে। 

শাবিপ্রবির কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম কাজ করেন প্রগ্রামিংয়ের প্রশিক্ষক হিসেবে। তাঁর দৃষ্টিতে বাংলাদেশ প্রগ্রামিংয়ে মাঝারি থেকে এক ঝটকায় সামনের সারিতে উঠে আসতে পারে। এর জন্য প্রয়োজন দক্ষ প্রশিক্ষক।

তিনি বলেন, ‘আমরা সারা দেশ থেকে প্রগ্রামিং করা শিক্ষার্থী বাছাই করে নিয়েই ছুটে যাই বড় আসরে। কিন্তু অন্যান্য দেশ কখনোই এমন করে না। স্কুল পর্যায় থেকেই তারা মানসম্মত ল্যাব ও দক্ষ প্রশিক্ষক পায়। প্রতিযোগিতার আগে তারা নির্বাচিতদের নিয়ে বুটক্যাম্প করেন। এর সবকিছুই হয় ল্যাবে। তাদের ল্যাব সক্ষমতাও যথেষ্ট। ভালো ফল করতে হলে বাংলাদেশেও দক্ষ প্রশিক্ষক দিয়ে ল্যাবে বুটক্যাম্প পরিচালনা করতে হবে।

তাহমিদ রাফি দীর্ঘদিন ধরে প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করছেন দ্বিমিক কম্পিউটিংয়ে। তথ্য-প্রযুক্তি বিভাগ, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, বেসিস বিআইটিএম, বিডিওএসএনের বিভিন্ন প্রগ্রামিং আয়োজনে নির্দেশক ও প্রশিক্ষক হিসেবেও কাজ করেন তিনি। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই শিক্ষার্থী জানান, প্রগ্রামিং শেখার এবং ভালো ফল করার জন্য অবশ্যই ল্যাব গুরুত্বপূর্ণ। সে ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ল্যাবের পরিবেশ। এ ক্ষেত্রে শিক্ষার্থী কোনো সমস্যা সমাধান করতে ব্যর্থ হলে প্রশিক্ষক সেটা বুঝিয়ে দেবেন। ক্লাসরুমের মতোই সব ব্যবস্থা থাকতে হবে সেখানে। থাকতে হবে প্রগ্রামিং সম্পর্কিত যথেষ্ট বই-গাইড।  

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ অনেক বছর ধরেই প্রগ্রামিং প্রতিযোগিতাগুলোতে মেন্টর হিসেবেও কাজ করে আসছেন। গত এসিএম-আইসিপিসিতে তাঁর তত্ত্বাবধানেই বাংলাদেশ দল বিশ্ব আসরে যায়।

প্রগ্রামিংয়ের জন্য আদর্শ ল্যাব কেমন হতে পারে? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সাদামাটা ল্যাব হলেও প্রগ্রামিং করা যায়। আহামরি কিছু প্রয়োজন নেই। মোটামুটি মানের কম্পিউটার ও ইন্টারনেট সংযোগ থাকা দরকার। দরকার একটা ভালো পরিবেশ, যেখানে যেকোনো সময় শিক্ষার্থীরা কাজ করতে পারবে। তবে মূল যেটা দরকার তা হলো, এই ল্যাবগুলো শুধু বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে নয়, অবশ্যই সেই ল্যাব স্কুল-কলেজ পর্যায়েও থাকতে হবে। তা ছাড়া শক্ত ভিত দেওয়া যাবে না বলেও জানান তিনি।

   

দরকার প্রশিক্ষক

অধ্যাপক মোহাম্মদ কায়কোবাদ, সাইফুল ইসলামসহ অন্যান্য প্রশিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা মনে করেন, দেশে আরো ভালো মানের প্রশিক্ষক দরকার। তাঁদের ভাষ্য, রাশিয়া বা অন্য দেশগুলো ভালো করার অন্যতম কারণ হচ্ছে তাঁদের প্রশিক্ষক ভালো। আমাদের যারা বিভিন্ন সময় ভালো ফল করছে তাদের বেশির ভাগকেই আমরা দেশে রাখতে পারি না। ফলে চর্চার জায়গাটা অপরিপক্ব থেকে যায়। আর প্রগ্রামিংয়ের জন্য যখন আদর্শ ল্যাবের কথা আসবে, সেখানে প্রশিক্ষক অবশ্যই ওপরের দিকেরই দরকার।



মন্তব্য