kalerkantho


ভার্চুয়াল নগরে প্লট আছে

৩ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ভার্চুয়াল নগরে প্লট আছে

নগরটির অস্তিত্ব শুধু ভার্চুয়াল রিয়ালিটিতে। তবে প্লট বেচাকেনায় লেনদেন হচ্ছে বাস্তব মুদ্রা। রিয়েল এস্টেট ব্যবসার অভিনব এই ধারণাটি দিয়েছে আর্জেন্টিনার উদ্যোগ ‘ডিসেন্ট্রাল্যান্ড’। বিস্তারিত জানাচ্ছেন মিজানুর রহমান

 

ভিআর হেডসেটের ব্যবহার এত দিন শুধু গেইমেই আটকে ছিল। প্রযুক্তিটি নিয়ে নতুন সম্ভাবনা দেখাল আর্জেন্টিনার ‘ডিসেন্ট্রাল্যান্ড’। প্রতিষ্ঠানের নামেই অনলাইনে একটি কৃত্রিম শহর তৈরি করেছে তারা। যেখানে মানুষ কৃত্রিম জমি কিনতে পারবে, সেই জমির ওপর যা ইচ্ছা তা নির্মাণ করতে পারবে। ‘ডিসেন্ট্রাল্যান্ড’ ধীরে ধীরে জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে। প্রতিদিন লেনদেন হচ্ছে মিলিয়ন ডলারের। জমি হাতবদল করে হাজার হাজার ডলার আয় করছেন অনেকে।

 

যা হচ্ছে এই শহর ঘিরে

ফেইসবুক গেইম ‘সিটিভিল’ খেলেছেন যাঁরা তাঁরা বিষয়টা বুঝবেন সহজেই। সিটিভিলের মতো ডিসেন্ট্রাল্যান্ডেও জমি কেনা যায়।  তবে এই শহরটি ত্রিমাত্রিক। এখানে প্রতিটি প্লট ১০ বর্গমিটার। বাস্তব নগরের মতো আছে সুপরিকল্পিত নকশা। অবস্থানভেদে প্লটের দাম ভিন্ন ভিন্ন। চাহিদার ওপর নির্ভর করে দামও বাড়ে-কমে জমির।

এই কৃত্রিম বিশ্বে ভূমি কেনাবেচার জন্য ‘মানা’ নামে ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহার করা হয়। এর আছে বাস্তব ডলার মূল্য। ডিসেন্ট্রাল্যান্ডের কার্যক্রম ও জনপ্রিয়তার ওপর ভিত্তি করে এই মুদ্রার মান ওঠানামা করে। এই পুরো কৃত্রিম বিশ্বে ঘুরে বেড়ানো যাবে শুধু ভিআর হেডসেট মাথায় দিয়ে।

 

সম্ভাবনা

প্রযুক্তিটি এমন সময়ে এসেছে যখন প্রচলিত সামাজিক মাধ্যম অনেকটা মূলধারা হয়ে পড়ছে। সোশ্যাল মিডিয়া প্রযুক্তিতে নতুন কিছু আসা এখন সময়ের দাবি।

যাঁরা ডিসেন্ট্রাল্যান্ডে প্লট কিনছেন তাঁরা মনে করেন এই প্রযুক্তির সোশ্যাল মিডিয়াকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রয়েছে। বর্তমানে যেভাবে একটি ফেইসবুক প্রফাইল খুলছেন ঠিক তেমনি ডিসেন্ট্রাল্যান্ডে একটি জমি কিনে বাড়ি তৈরি করতে পারবেন। যেখানে আপনার বন্ধুরা বেড়াতে আসতে পারবে, আলাপ আলোচনা করতে পারবে। গেইমিং রুমে গিয়ে দুজন খেলতে পারবে গেইম।

সঙ্গে রয়েছে হাজার হাজার ডলার আয় করার সুযোগ, যা বর্তমানে প্রচলিত সোশ্যাল মিডিয়ায় নেই। ধরা যাক, আপনি একজন শিল্পী। আপনি একটি জমি কিনে সেটিকে আর্ট গ্যালারি বানালেন। প্রদর্শন বাবদ নিতে পারবেন কয়েক ‘মানা’। এভাবে আপনার উপার্জন শুরু হবে।

‘জমির’ হাতবদল আরেক এক উপায়। প্রতিনিয়ত এখানে জমির দাম বাড়ছে-কমছে। কম দামে কিনে বেশি দামে বিক্রির সম্ভাবনাও আছে এখানে।

ভার্চুয়াল রিয়ালিটি যত জনপ্রিয় হবে তত অনলাইনেও ছড়িয়ে পড়বে সামাজিক শ্রেণীকরণ। এখানে নিজেকে আলাদা করতে আপনার প্রয়োজন হবে আলাদা কিছু। ডিসেন্ট্রাল্যান্ডের মাধ্যমে কৃত্রিম জগতে নিজেকে আলাদা করার সুযোগ থাকছে। অনলাইনে সামাজিক মর্যাদার একটি ফ্যাক্টর হতে পারে এটি।

 

আছে ঝুঁকিও

এরই মধ্যে ডিসেন্ট্রাল্যান্ডে জমি বেচাকেনার মাধ্যমে অনেকেই হাজার হাজার ডলার কামাচ্ছেন। টেক ব্লগারদের ধারণা, যখন অনেক মানুষ এই কৃত্রিম পৃথিবীতে জড়িত হবে এবং আর্থিক আকার বাড়বে তখন এর কিছু সমস্যা দেখা দেবে।

বর্তমানে এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ থাকছে একটি কম্পানির হাতে। বিশাল আকারের এসব লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করার জন্য কোনো আইনও নেই। কৃত্রিম এই দুনিয়ায় বড় বিনিয়োগে তাই আছে ঝুঁকি। যেকোনো সময় নতুন কোনো প্রযুক্তি এসে কাঁপিয়ে দিতে পারে এই নগর।



মন্তব্য