kalerkantho

পবিত্র কোরআনের আলো । ধা রা বা হি ক

মুসা (আ.)-এর সহকর্মী হিসেবে তাঁর ভাই হারুন (আ.)

২৩ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



মুসা (আ.)-এর সহকর্মী হিসেবে তাঁর ভাই হারুন (আ.)

৫৩. আর নিজ অনুগ্রহে তার ভাই হারুনকে নবী বানিয়ে তাকে সাহায্যকারী বানিয়ে দিলাম। (সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ৫৩)।

তাফসির : মুসা (আ.) আল্লাহর কাছে চেয়েছিলেন তাঁর ভাই হারুনকে যেন তাঁর সহকর্মী হিসেবে মনোনীত করা হয় এবং তিনি যাতে তাঁর ঐশী দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সহযোগীর ভূমিকা পালন করতে পারেন। আল্লাহ তাঁর দোয়া কবুল করেন এবং হারুন (আ.) নবী হওয়া সত্ত্বেও সব সময় তাঁর ভাইয়ের সেবা করেছেন। এ থেকেই বোঝা যাচ্ছে, নবী-রাসুলরা নিজেদের নাম-যশের জন্য নয়, বরং ঐশী দায়িত্ব পালনের জন্য পরস্পরকে সহযোগিতা করেছেন।

যখন মুসা (আ.) তাঁর নির্ধারিত সময় পূর্ণ করার জন্য তুর পাহাড়ে যাওয়ার মনস্থ করলেন তখন তিনি তাঁর ভাই হারুন (আ.)-কে তাঁর অনুপস্থিতিতে বনি ইসরাঈলদের পরিচালনা করার জন্য স্থলাভিষিক্ত করেন। তিনি তাঁকে অসিয়ত করেন হেদায়েত ও সংশোধনের কাজ অব্যাহত রাখার জন্য। এবং তিনি ফিতনা-ফ্যাসাদ সৃষ্টিকারীদের পথ থেকে দূরে থাকতে বলেন। এটি ছিল নিছক সতর্কতা ও উপদেশমূলক কথা, অন্যথায় হারুন (আ.) নিজেও অত্যন্ত সম্মানিত নবী ছিলেন।

এতে প্রমাণিত হয়, যেকোনো কাজের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি প্রয়োজনে অন্যত্র গেলে সেই কাজের ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো লোক নিয়োগ করে যাওয়া কর্তব্য। রাসুল (সা.) মদিনার বাইরে গেলে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সাহাবিকে খলিফা নিযুক্ত করতেন। একবার তিনি আলী (রা.)-কে এবং অন্যবার আবদুল্লাহ বিন উম্মে মাকতুম (রা.)-কে মদিনার খলিফা বানিয়েছেন।

তাফসিরবিদ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, হারুন (আ.) মুসা (আ.) থেকে চার বছরের বড় ছিলেন। মুসা (আ.) মহান আল্লাহর দরবারে এই মর্মে ফরিয়াদ করেছেন, যেন তাঁর ভাইকে নবী মনোনীত করা হয়। বিষয়টি পবিত্র কোরআনেও এসেছে। মুসা (আ.) তাঁর দোয়ায় বলেছেন, ‘(হে আমার রব) আমার জন্য আমার স্বজন থেকে একজন সাহায্যকারী বানিয়ে দাও—আমার ভাই হারুনকে। তার মাধ্যমে আমার শক্তি সুদৃঢ় করো। আর তাকে আমার কাজে অংশীদার করো, যাতে আমরা বেশি পরিমাণে তোমার পবিত্রতা ও মহিমা ঘোষণা করতে পারি। তুমি তো আমাদের সম্যক দ্রষ্টা।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ২৯-৩৪)

মহান আল্লাহ মুসা (আ.)-এর এই ফরিয়াদ কবুল করে নিয়েছেন। এ বিষয়ে পরের আয়াতে এসেছে, ‘তিনি (আল্লাহ) বলেন, হে মুসা, তুমি যা চেয়েছ, তা তোমাকে দেওয়া হলো।’ (সুরা : ত্ব-হা, আয়াত : ৩৬)

তবে এখানে একটি বিষয় পরিষ্কার হওয়া দরকার। বিষয়টি হলো, মুসা (আ.) আল্লাহর নবী ও রাসুল ছিলেন। তাঁর ওপর তাওরাত কিতাব নাজিল করা হয়েছে। তাঁকে নতুন শরিয়ত দেওয়া হয়েছে; কিন্তু হারুন (আ.) শুধু নবী ছিলেন। তিনি রাসুল ছিলেন না। তাঁর ওপর কোনো কিতাব নাজিল করা হয়নি, বরং তিনি মুসা (আ.)-এর অনুসারী ও সহকর্মী ছিলেন।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

মন্তব্য