kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে গোসল

৯ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে গোসল

১৭. অতঃপর সে [মারিয়াম (আ.)] তাদের সঙ্গে পর্দা করল। পরে আমি তার কাছে আমার রুহ [জিবরাইল (আ.)]-কে পাঠিয়েছি। সে তার কাছে পূর্ণ মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করল। [সুরা : মারিয়াম, আয়াত : ১৭, (প্রথম পর্ব)]।

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, মারিয়াম (আ.) তাঁর পরিবারবর্গ থেকে পৃথক হয়ে পূর্ব দিকে এক স্থানে আশ্রয় নিয়েছেন। আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, মারিয়াম (আ.) যখন নির্জনে অবস্থান করেন তখন তিনি পরিবারবর্গের সঙ্গে পর্দা করেছেন। আশরাফ আলী থানভি (রহ.) তাঁর তাফসিরগ্রন্থ ‘বয়ানুল কোরআন’-এ উল্লেখ করেছেন, মারিয়াম (আ.) গোসল করার জন্য পরিবারবর্গ থেকে আলাদা হয়েছেন। পরে তিনি মানুষের দৃষ্টির আড়ালে গোসল করার লক্ষ্যে পর্দা দিয়ে পুরো জায়গা ঢেকে দেন। এ সময় তাঁর কাছে মহান আল্লাহর ফেরেশতা জিবরাইল (আ.) মানবাকৃতিতে আত্মপ্রকাশ করেছেন। এখানে দুটি বিষয় লক্ষণীয়। এক. গোসলের সময় করণীয়। দুই. পর্দার বিধান।

গোসল সম্পর্কে মারিয়াম (আ.)-এর ঘটনা থেকে জানা যায় যে গোসল অন্য মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে করা উচিত। প্রশ্ন হলো, মানুষের দৃষ্টিসীমার বাইরে গোসল করলেও সে ক্ষেত্রে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার বিধান কী? বিবস্ত্র হয়ে অজু বা গোসল করা সম্পর্কে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি হলো, প্রয়োজন ছাড়া বাথরুমে বিবস্ত্র হয়ে গোসল করা উচিত নয়। হাদিসে এ ব্যাপারে নিরুৎসাহ করা হয়েছে। সুতরাং তা পরিহার করা উচিত। এক হাদিসে এসেছে, মুয়াবিয়া বিন হাইদা (রা.) থেকে বর্ণিত, একবার রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, তুমি তোমার স্ত্রী ও তোমার দাসী ছাড়া অন্যদের কাছ থেকে তোমার লজ্জাস্থান সর্বদা হেফাজত করো (অর্থাৎ ঢেকে রাখো)। আমি বললাম, হে আল্লাহর রাসুল! যদি কোনো ব্যক্তি কোথাও একাকী থাকে! (তখনো কি তা ঢেকে রাখতে হবে?)। তিনি বলেন, অবশ্যই। কেননা আল্লাহকে অধিক লজ্জা করা উচিত। (তিরমিজি, হাদিস : ২৭৬৯)।

তবে কেউ যদি কোনো কারণে বিবস্ত্র হয়ে অজু বা গোসল করতে চায়, তাহলে লোকচক্ষুর আড়ালে করলে এর অবকাশ আছে। বিশেষত, স্বামী ও স্ত্রী একসঙ্গে গোসল করার কথা হাদিসে এসেছে। মহানবী (সা.) তাঁর স্ত্রী মাইমুনা (রা.) ও আয়েশা (রা.)-এর সঙ্গে একত্রে গোসল করা সহিহ বুখারি ও মুসলিম দ্বারা প্রমাণিত। এ বিষয়ে কেউ কেউ মুসা (আ.)-এর বিবস্ত্র হয়ে গোসল করার ঘটনাও প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন। সুতরাং এ বিষয়ে অবকাশ থেকে যায়, যদিও এটি সুন্নত নয় এবং অপছন্দনীয় কাজ। এখানে স্মরণীয় যে বিবস্ত্র হয়ে অজু বা গোসল করলে অজু হওয়া না হওয়া এবং গোসল হওয়া না হওয়ার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই। অজু ও গোসলের অঙ্গ পরিপূর্ণভাবে ধৌত হয়ে গেলে বিবস্ত্র থাকলেও অজু ও গোসল হয়ে যাবে।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ



মন্তব্য