kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

পাপীদের ধ্বংসের জন্য নির্দিষ্ট ক্ষণ আছে

১০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



পাপীদের ধ্বংসের জন্য নির্দিষ্ট ক্ষণ আছে

৫৯. সেসব জনপদের অধিবাসীদের আমি ধ্বংস করেছিলাম, যখন তারা সীমা লঙ্ঘন করেছিল। তাদের ধ্বংসের জন্য আমি স্থির করেছিলাম এক নির্দিষ্ট ক্ষণ। (সুরা : কাহফ, আয়াত : ৫৯)

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, পাপাচারের দরুন মহান আল্লাহ দ্রুত পাকড়াও করেন না। তিনি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তাদের সংশোধিত হওয়ার সুযোগ দেন। এর অর্থ এই নয় যে পাপাচারের দরুন দুনিয়ায় আজাব আসে না, বরং পাপীরা কখনো কখনো দুনিয়ায়ই ভয়াবহ আজাবের সম্মুখীন হয়। এ বিষয়ে আলোচ্য আয়াতে বলা হয়েছে, বহু জাতি অতিক্রান্ত হয়েছে, যাদের পাপাচারের কারণে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তাদের নামনিশানা ও আবাসস্থলও পৃথিবীতে অবশিষ্ট নেই। যেমন—আদ জাতি, সামুদ জাতি, মাদিয়ানের অধিবাসী ও লুত (আ.)-এর জাতির একসময় পৃথিবীতে প্রভাব-প্রতিপত্তির অন্ত ছিল না। গায়েগতরে ও শক্তিমত্তায় তারা বর্তমানের লোকদের চেয়ে অনেক এগিয়ে ছিল। কিন্তু অব্যাহত পাপাচারের কারণে তাদের সমূলে ধ্বংস করে দেওয়া হয়।

এ আয়াত বর্তমানের পাপীদের জন্য সতর্কবার্তা যে অতীতের পাপীরা বর্তমানের পাপীদের চেয়ে অধিক শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও যেহেতু আজাব থেকে রেহাই পায়নি, বর্তমানের পাপীরাও রেহাই পাবে না। তবে একটি বিষয় আগের জাতির চেয়ে ব্যতিক্রম, সেটি হলো মহান আল্লাহ মহানবী (সা.)-এর উম্মতকে সমূলে ধ্বংস করবেন না বলে ওয়াদা করেছেন। তাই এই উম্মতের পাপীদের ওপর বিচ্ছিন্নভাবে আজাব এলেও তাদের সমূলে ধ্বংস করা হবে না।

এক শ্রেণির মানুষের বদ্ধমূল ধারণা হলো, পাপের সাজা শুধু পরকালেই দেওয়া হয়। অথচ কোরআন-হাদিসের বহু স্থানে এসেছে, পাপাচারের শাস্তি দুনিয়ায়ও ভোগ করতে হয়। এক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, ‘(পরকালের) গুরু শাস্তির আগে (দুনিয়ায়ও) তাদের আমি লঘু শাস্তি আস্বাদন করাব, যাতে তারা (হেদায়েতের পথে) ফিরে আসে।’ (সুরা : সাজদা, আয়াত : ২১)। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘তোমাদের যে বিপদাপদ ঘটে, তা তো তোমাদের কৃতকর্মেরই ফল।’ (সুরা : শুরা, আয়াত : ৩০)

দেখা যায়, ছোট ছোট ভুলের জন্যও অনেক সময় বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। আর বড় বড় পাপী-তাপী-অপরাধীকেও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হয়। সে শাস্তি মানুষের মাধ্যমেও হতে পারে আবার প্রাকৃতিক নিয়মেও হতে পারে। নুহ (আ.)-এর গোটা জাতিকে এমন প্লাবন ঘিরে ধরেছিল, যা থেকে তারা পাহাড়েও নিরাপদ থাকতে পারেনি। আদ জাতির ওপর উপর্যুপরি আট দিন প্রবল ঝড়-ঝঞ্ঝা বয়ে যায়। ফলে তাদের একটি প্রাণীও বেঁচে থাকতে পারেনি। সামুদ জাতিকে বিকট আওয়াজে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। লুত (আ.)-এর জাতির পুরো বস্তি উল্টে দেওয়া হয়েছে। এসব তাদের পাপের পার্থিব শাস্তি।

স্মরণ রাখতে হবে, বিপদাপদ সব সময় আজাব হিসেবে আসে না। কখনো কখনো তা পরীক্ষার উপকরণ হিসেবে আসে। বিপদাপদের মাধ্যমে ঈমানদারদের পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি করা হয়। এই সূত্রে নবী-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম ও ওলি-আউলিয়ার জীবনে বিভিন্ন দুর্ভোগ দেখা যায়। কিন্তু তাঁরা বরাবরই প্রশান্তচিত্তের অধিকারী। সর্বাবস্থায় তাঁরা আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ



মন্তব্য