kalerkantho


ট্রাম্পের ভোট কেড়ে নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা

ই জে ডিয়োন জুনিয়র

১৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



‘আমি মনে করি, কাজের মর্যাদার ওপরই সব কিছু নির্ভর করে’—নিজ শহরতলি শেভিতে বসে এক সাক্ষাৎকারে বলছিলেন ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেরোড ব্রাউন। তিনি বলেন, মানুষ খুব ভোরে ওঠে এবং কঠোর পরিশ্রম করে। এগিয়ে যাওয়ার জন্য আমরা তাদের কাছ থেকে যা আশা করি তা-ই করে। তবে কাজ নিয়ে রিপাবলিকান বা ডেমোক্র্যাটদের কাছ থেকে যথেষ্ট প্রশংসা পায় না তারা।

ব্রাউনের অতি পছন্দের এবং অতি ব্যবহৃত বিষয় এটি। তিনি নিজেকে শ্রমিক ডেমোক্র্যাট হিসেবে দেখতেই বেশি পছন্দ করেন। দেশের মধ্য পশ্চিমাঞ্চলে বিশেষ করে ওহাইওতে ২০১৬ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ব্রাউনের দলের যে রাজনৈতিক ভরাডুবি ঘটেছে, তারও একটি প্রতিক্রিয়া এটি।

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতির এক লাইনের সত্যটি হচ্ছে, ইলেকটোরাল কলেজের তৎপরতা। একে রাজনীতির সর্বশেষ বাক্যও বলা যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের যা করতে হবে তা হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের গ্র্যান্ড ওল্ড পার্টির (জিওপি) দিক থেকে শ্বেতাঙ্গ শ্রমজীবী শ্রেণির মনোযোগ ঘুরিয়ে দিতে হবে। ট্রাম্প জোটের স্থায়িত্ব পরীক্ষায় এ বছরের গ্রাউন্ড জিরো হচ্ছে ওহাইও।

ব্রাউনের পুনর্নির্বাচনের লড়াইয়ে শ্রমিক শ্রেণির প্রতি এই আবেদন কাজে দিচ্ছে। ২০১২ সালে বারাক ওবামা তিন পয়েন্ট বেশি ভোট পেয়ে জয়ী হন। পরের দফায় প্রতিদ্বন্দ্বীর সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যবধান ছিল আট পয়েন্ট। গত মাসে করা তিনটি জরিপে দেখা গেছে, ব্রাউন তাঁর রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী জেমস বি রেনাচ্চির চেয়ে ১৩ থেকে ১৮ পয়েন্টে এগিয়ে আছেন। এর অর্ধেক ব্যবধানে ব্রাউন জয় পেলেও ট্রাম্পের ভোটারদের ঘাঁটিতে ভাঙন ধরানো সম্ভব হবে।

বাস্তবতা হচ্ছে, ব্রাউন যখন গত রবিবার ডেমোক্রেটিক দলের রাজ্য সম্মেলনে কথা বলছিলেন, তখন তাঁর বক্তব্যে সবচেয়ে বেশি হাততালি পড়ে যখন তিনি বলছিলেন, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি পদে তিনি ব্রেট কাভানার বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন। রিপাবলিকানরা যদি কাভানাপন্থী আবেগ তাদের ঘাঁটিতে ছড়িয়ে দেওয়ার  চেষ্টা করত, তাহলে এই সম্মেলনস্থলেই ডেমোক্র্যাটরা তাদের দেখিয়ে দিতে পারত যে ক্রিস্টিন বেন্টসি ফোর্ডের কাভানাবিরোধী অভিযোগ কতটা ক্ষোভ তৈরি করেছে।

ফোর্ডের সঙ্গে রিপাবলিকানরা যে আচরণ করেছে, তার জন্য ব্রাউন তাদের কঠোর সমালোচনা করেন। জানান, শুরু থেকেই তিনি কাভানাবিরোধী ছিলেন। কারণ সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি পদে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোনীত এই ব্যক্তি ক্রেতাদের বিপরীতে ওয়াল স্ট্রিটকে সমর্থন দিয়ে গেছেন। এ ছাড়া রোগী নয়; বরং স্বাস্থ্য বীমা কম্পনিগুলোর প্রতিই কাভানার সমর্থন ছিল বলেও অভিযোগ করেন ব্রাউন।

ব্রাউন অবশ্য দুর্ঘটনাবশত স্বাস্থ্য বীমা কম্পানিগুলোর উদাহরণ টানেননি। এ বছর ওয়াইওর আরেকটি বড় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী রিচার্ড করড্রে লড়বেন রিপাবলিকান অ্যাটর্নি জেনারেল মাইক ডিওয়াইনের বিরুদ্ধে। ডিওয়াইন অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার অন্যতম বাদী। অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্ট ওবামার স্বাস্থ্যসেবা বীমা বা ওবামাকেয়ার নামেই বেশি পরিচিত।  

এই আইন বাতিল হলে বেআইনিভাবে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন, তাঁদের বীমার সুরক্ষা বাতিল হয়ে যেতে পারে। ডিওয়াইন এখন বলার চেষ্টা করছেন যে তিনি এই সুরক্ষার পক্ষে। তবে এক সাক্ষাৎকারে করড্রে বলেন, ‘মানুষ এখন বুঝতে শুরু করেছে বিষয়টি কতটা ঝুঁকির মুখে এবং এই সুরক্ষা না থাকলে আপনি যখন অসুস্থ হবেন, তখন এর অর্থ কী দাঁড়াবে।’ তিনি আরো বলেন, রিপাবলিকানরা এখন তাদের অবস্থান পাল্টানোর পথ খুঁজছে।

করড্রের সবচেয়ে মজার বিজ্ঞাপনগুলোর মধ্যে একটিতে ভালো বেতনের চাকরির জন্য কাজের প্রশিক্ষণের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। এখানে তিনি সরাসরি ট্রাম্পের ভোটের ঘাঁটি লক্ষ্য করে তাঁর যুক্তি তুলে ধরেছেন, ‘মধ্যবিত্তের অংশ হওয়ার জন্য আপনার কলেজের ডিগ্রির কোনো প্রয়োজন নেই।’ এটাকেই ডেমোক্রেটিক দলের নতুন মন্ত্র বলে ধরে নেওয়া যেতে পারে।

জরিপে দেখা গেছে, গভর্নর পদে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে। এ ক্ষেত্রে সম্প্রতি জিওপি নিয়ন্ত্রিত আইনসভায় দুর্নীতির কেলেঙ্কারি থেকে লাভবান হতে পারেন করড্রে। এ ছাড়া ট্রাম্পের সমর্থক ও করড্রের আজীবন সমালোচক বর্তমান গভর্নর জন কেসিচের মধ্যে যে বিরোধ রয়েছে, তা থেকেও করড্রে ফায়দা লুটতে পারেন।

মেয়াদের সীমাবদ্ধতার কারণে কেসিচ সরে যাচ্ছেন। এই রাজ্যে ডিওয়াইন পরিচিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। রিপাবলিকানরা এমনিতেই এ রাজ্যে ভালো করে। ডেমোক্র্যাটদের জন্য যে বছরগুলো ভালো যায়, সেগুলোতেও রিপাবলিকানরা বিপর্যয়ের মুখে পড়েনি। তবে ব্রাউন ও করড্রে দুজনই জানেন, তাঁদের শ্রমিকপন্থী এই অবস্থান বহু ট্রাম্প সমর্থককেই দলে টানবে। কারণ যে সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্প তাঁদের দিয়েছিলেন, তার প্রায় কিছুই পূরণ করতে পারেননি তিনি।

 

লেখক : সাংবাদিক, রাজনৈতিক ভাষ্যকার এবং ওয়াশিংটন পোস্টের উপসম্পাদকীয় নিবন্ধের রচয়িতা

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

 



মন্তব্য