kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো । ধারাবাহিক

কিয়ামত বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই

১৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



কিয়ামত বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই

২১. এভাবে আমি (মানুষকে) তাদের বিষয়ে জানিয়ে দিলাম, যাতে তারা জানতে পারে যে আল্লাহর ওয়াদা সত্য এবং কিয়ামত বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। যখন তারা তাদের কর্তব্যের বিষয়ে নিজেদের মধ্যে বিতর্ক করছিল তখন অনেকে বলল, তাদের ওপর এক স্মৃতিসৌধ নির্মাণ করো। তাদের প্রতিপালক তাদের বিষয়ে ভালো জানেন। তাদের কর্তব্য বিষয়ে যাদের মত প্রবল হলো তারা বলল, নিশ্চয়ই আমরা তাদের (কবরের) ওপর মসজিদ নির্মাণ করব। [সুরা : কাহফ, আয়াত : ২১ (প্রথম পর্ব)]

তাফসির : আগের আয়াতে বলা হয়েছিল, গুহায় আশ্রয় নেওয়া যুবকরা ৩০৯ বছর ঘুমানোর পর জেগে ওঠে। পরে ঘুমের সময় নিয়ে তাদের মধ্যে বিরোধ হয়। শত শত বছর ঘুমানোর পর তাদের এই জাগ্রত হওয়া কী বার্তা দেয়—আলোচ্য আয়াতে সে বিষয়ে বর্ণনা করা হয়েছে। এখানে বলা হয়েছে, এ ঘটনার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে কিয়ামত অনিবার্য সত্য বিষয়। এ বিষয়ে আল্লাহর প্রতিশ্রুতি অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

আসহাবে কাহফের প্রস্থানকালে অত্যাচারী বাদশাহ দাকিয়ানুসের রাজত্ব ছিল। তার মৃত্যুর পর কয়েক শতাব্দী অতিবাহিত হলে শহরের ওপর সত্যপন্থী তাওহিদবাদী লোকদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়। তাদের বাদশাহ ছিলেন একজন সৎ ব্যক্তি। তাঁর নাম ‘বাইদুসিস’। তাঁর শাসনামলে আসহাবে কাহফের নিদ্রা ভঙ্গ হয়। তারা তাদের ‘তামলিখা’ নামক এক ব্যক্তিকে খাদ্য আনার জন্য বাজারে প্রেরণ করে। সে দোকানে পৌঁছে খাবার ক্রয় করে। অতঃপর খাবারের মূল্য হিসেবে ৩০০ বছর আগের বাদশাহ দাকিয়ানুসের আমলে প্রচলিত মুদ্রা বের করে। দোকানদার বিস্ময়ে তার দিকে তাকিয়ে থাকে। প্রশ্ন ছুড়ে দেয়—এ মুদ্রা কোথায় পেলে? এগুলো কোন আমলের? পরে সে তা অন্য দোকানদারকে দেখায়। সবাই বলল, এ ব্যক্তি কোথাও প্রাচীন ধনভাণ্ডার লাভ করেছে। সে অস্বীকার করে বলল, ‘আমি কোনো ধনভাণ্ডার পাইনি। এটা আমার নিজের মুদ্রা।’ দোকানদাররা তাকে গ্রেপ্তার করে বাদশাহর সামনে হাজির করে। খোঁজখবর নিয়ে বাদশাহ নগরবাসীদের এক বিরাট দল নিয়ে গুহায় গমন করেন। গুহার নিকটবর্তী হয়ে তামলিখা বলল, ‘আপনারা একটু থামুন। আমি সঙ্গীদের প্রকৃত ব্যাপারটি জানিয়ে দিই যে এখন বাদশাহ তাওহিদবাদী। সাধারণ মানুষও আল্লাহর একত্ববাদে বিশ্বাসী।’ কথা অনুযায়ী তামলিখা গুহায় পৌঁছে সঙ্গীদের আদ্যোপান্ত ঘটনা বর্ণনা করে শোনায়। অতঃপর তারা গুহায় ফিরে যায়। বেশির ভাগ বর্ণনা মতে, তামলিখা যখন সঙ্গীদের সব বৃত্তান্ত অবহিত করে তখনই সবার মৃত্যু হয়ে যায়। বাদশাহর সঙ্গে তাদের সাক্ষাৎ হয়নি। এ অবস্থায় শহরবাসীর একাংশ গুহাবাসীর স্মৃতি ধরে রাখার জন্য সেখানে একটি স্মৃতিসৌধ নির্মাণের ইচ্ছা প্রকাশ করে। কিন্তু ঈমানদাররা দেখলেন, মৃত্যু-পরবর্তী জীবনে মানুষের আবার জীবিত হওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য এটি একটি জলজ্যান্ত উদাহরণ। তাই তারা বিষয়টিকে মানুষের স্মরণে রাখার জন্য গুহাবাসীদের কবরের পাশে একটি মসজিদ নির্মাণের ঘোষণা দেন।

 

গ্রন্থনা : মুফতি কাসেম শরীফ

 



মন্তব্য