kalerkantho


পবিত্র কোরআনের আলো। ধারাবাহিক

কাজকর্মে মানুষ অভ্যাস ও প্রথার অনুসরণ করে

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কাজকর্মে মানুষ অভ্যাস ও প্রথার অনুসরণ করে

৮৪. বলে দাও, প্রত্যেকে নিজ নিজ স্বভাব-প্রকৃতি অনুযায়ী কাজ করে থাকে। একমাত্র তোমাদের রবই ভালো জানেন কে সরল-সঠিক পথে আছে। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৮৪)

তাফসির : আগের আয়াতে মানবচরিত্রের দ্বৈত দিক সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছিল। আলোচ্য আয়াতে মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি সম্পর্কে বর্ণনা করা হয়েছে। এ আয়াতের মূলকথা হলো, মানুষ স্বভাব, অভ্যাস, পূর্বপুরুষের রীতি অনুযায়ী চলে। প্রত্যেকে অভ্যাস ও প্রথা অনুযায়ী কাজকর্ম করে থাকে। এ বক্তব্যের মাধ্যমে হুঁশিয়ার করে দেওয়া হয়েছে যে মন্দ পরিবেশ ও অসৎ সঙ্গ থেকে দূরে থাকা জরুরি।

মানবজীবনে আদর্শ বন্ধু নির্বাচন একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই বন্ধু নির্বাচনে সতর্কতা অবলম্বন অতি জরুরি। যে কাউকে বন্ধু বলা যায় না, বন্ধু বানানো যায় না। সত্যবাদী, নামাজি, দ্বিনদার ও পরোপকারী ব্যক্তিকে বন্ধু হিসেবে নির্বাচন করা উচিত। কোরআনে বন্ধু নির্বাচনের দিকনির্দেশনা ঘোষিত হয়েছে এভাবে, ‘তুমি নিজেকে ধৈর্যসহ তাদের সংসর্গে আবদ্ধ রাখবে, যারা সকাল-সন্ধ্যায় তাদের পালনকর্তাকে তাঁর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে আহ্বান করে। আর তুমি পার্থিব জীবনের সৌন্দর্য কামনা করে তাদের থেকে নিজের দৃষ্টি ফিরিয়ে নেবে না। যার মনকে আমার স্মরণ থেকে অবচেতন করে দিয়েছি, যে নিজের প্রবৃত্তির অনুসরণ করে এবং যার কার্যকলাপ হচ্ছে সীমা অতিক্রম করা, তুমি তার আনুগত্য কোরো না।’ (সুরা : কাহাফ, আয়াত : ২৮)

ভালো ও অসৎ বন্ধু জীবনকে কতটা প্রভাবিত করতে পারে, রাসুল (সা.) তা উপমার মাধ্যমে দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘ভালো ও অসৎ বন্ধু মিশক (সুগন্ধি) বহনকারী ও হাপরে ফুঁকদাতা (কামার) ব্যক্তির মতো। মিশক বহনকারী ব্যক্তির অবস্থা এমন যে সে হয়তো এ মিশক তোমাকে উপহার দেবে অথবা তুমি তার থেকে তা ক্রয় করবে কিংবা তুমি তার থেকে এর সুঘ্রাণ লাভ করবে। আর হাপরে ফুঁকদাতা ব্যক্তি হয়তো তোমার কাপড় জ্বালিয়ে দেবে কিংবা তুমি তার কাছ থেকে দুর্গন্ধ পাবে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

জাগতিক জীবনে কোনো মানুষই বন্ধুর সাহচর্য বা প্রভাব থেকে মুক্ত নয়। অনুকূল পারিপার্শ্বিকতা ও সৎ বন্ধুর সাহচর্যে মানুষ মর্যাদার উচ্চাসনে অবগাহন করতে পারে। আবার প্রতিকূল পারিপার্শ্বিতা ও দুষ্ট প্রকৃতির বন্ধুর সংস্রব মানুষকে ধ্বংসের অতল গহ্বরে তলিয়ে দিতে পারে। এ কথার প্রতিধ্বনি মহানবী (সা.)-এর বাণীতে জাজ্বল্যমান। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘মানুষ তার বন্ধুর ধর্ম (স্বভাব-চরিত্র) দ্বারা প্রভাবিত। সুতরাং সে কার সঙ্গে বন্ধুত্ব করছে তা যেন অবশ্যই যাচাই করে নেয়।’ (তিরমিজি)

মুমিনরা একে অন্যের বন্ধু। মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক কেমন হওয়া উচিত তার একটি চমৎকার উদাহরণ দিয়েছেন মহানবী (সা.)। তিনি বলেছেন, ‘মুমিনরা পারস্পরিক দয়া, ভালোবাসা ও সহানুভূতির ক্ষেত্রে একটি দেহের মতো। যখন দেহের কোনো একটি অঙ্গ কষ্ট অনুভব করে তখন তার জন্য গোটা দেহই অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়ে থাকে।’ (বুখারি ও মুসলিম)

গ্রন্থনা : মাওলানা কাসেম শরীফ



মন্তব্য