kalerkantho


আবার হবে ব্রেক্সিট গণভোট!

অনলাইন থেকে

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ব্রিটেন গণভোটের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেয় ২০১৬ সালে। তার পর থেকেই পরাজিত পক্ষের অতি আশাবাদী লোকজন আবারও একই ধরনের গণভোট আয়োজনের ব্যাপারে চেষ্টা-তদবির চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ এমন যুক্তি দেখাচ্ছে যে ব্রেক্সিটপন্থীরা প্রচার চালানোর সময় মিথ্যা বলেছে। নির্বাচনের আইনও ভেঙেছে তারা (গত ১৭ জুলাই নির্বাচন কমিশন ‘ব্রেক্সিটপন্থীদের ৬১ হাজার পাউন্ড অথবা ৮০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তারা বুঝেশুনে অতিরিক্ত খরচ করেছে।) আবার অনেকে বলছে, জনগণকে চূড়ান্ত চুক্তির ব্যাপারে মতামত দেওয়ার সুযোগ দেওয়া উচিত। কারণ ব্রেক্সিটপন্থীরা জনগণকে যে ঝকঝকে ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখিয়েছিল তার সঙ্গে চূড়ান্ত চুক্তির সাদৃশ্য সামান্যই থাকবে।

দ্বিতীয়বার ভোটাভুটির ভাবনা অবশ্য সব সময়ই ছিল। এখন তা আরো জোরদার হয়েছে। আইনানুসারে টেরেসা মের সরকার পার্লামেন্ট সদস্যদের সম্মতি ছাড়া কোনো ব্রেক্সিট চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে পারবে না। কয়েক সপ্তাহ ধরে যা চলছে তাতে একটি বিষয় স্পষ্ট, পার্লামেন্ট কোনো চুক্তি মেনে নিতেই রাজি নয়। বিরোধী লেবার পার্টি চুক্তির জন্য ছয়টি প্রস্তাব দাখিল করেছে, যা পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় এগুলো পাস হওয়ার কোনো সম্ভাবনাই নেই। রক্ষণশীল দলের মধ্যেও বিদ্রোহ চলছে। এ সপ্তাহে টোরি দলের রক্ষণশীল ব্রেক্সিটপন্থীরা কাস্টমসের নীতি কঠোর করতে সরকারকে বাধ্য করেছে। এর পরই চিকিৎসানীতি শিথিল করতে সরকারের ওপর চাপ দেন দলের বাকি সদস্যরা। চলমান পরিস্থিতিতে ব্রেক্সিটের বিষয়ে যে চূড়ান্ত চুক্তি হবে এমনটা মেনে নেওয়া কঠিন। সে ক্ষেত্রে ব্রিটেন হয়তো আগামী বছর ২৯ মার্চ কোনো চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বের হয়ে আসতে বাধ্য হবে।

ওয়েস্টমিনস্টারের অনেকেই এখন ভাবছেন, এই অচলাবস্থা ভাঙার একমাত্র পথই হচ্ছে আবারও জনগণের কাছে ফিরে যাওয়া। তারই একটি মাধ্যম আবারও নির্বাচন। ব্রেক্সিট পরিকল্পনার মূল অংশগুলোর বিষয়ে একমত হতে না পারলে গ্রীষ্মেই এ নিয়ে ভোট হতে পারে বলে টোরি এমপিদের ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার। তবে মে কি নির্বাচনের ঝুঁকি নেবেন? সমীক্ষায় দেখা গেছে, লেবার পার্টি টোরিদের চেয়ে সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছে।

স্পষ্ট জবাব পেতে দ্বিতীয়বার ভোটাভুটির প্রয়োজন হতে পারে।  গত ১৬ জুলাই মের মন্ত্রিসভার সাবেক এক সদস্য জাস্টিন গ্রিনিং তিনটি পথ রেখে নির্বাচনের প্রস্তাব দেন—ইইউতে থেকে যাওয়া, মে ব্রাসেলস থেকে যে চুক্তিই আনেন তা মেনে নেওয়া অথবা চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বের হয়ে আসা।

ভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে বাস্তবিক কিছু সংকট রয়েছে। পার্লামেন্টে গণভোট আয়োজনের ব্যাপারে আইন পাস করতে হবে। কাজটি সহজ হবে না। লেবার পার্টি ভোটে রাজি নয়। স্কটিশ জাতীয়তাবাদীদের অবশ্য ভোটে সম্মতি আছে। লিবারেল ডেমোক্র্যাটরাও রাজি। মে এ ধরনের প্রস্তাব শুনেই উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে প্রধানমন্ত্রী দুই বছর আগে আগাম নির্বাচনের প্রস্তাবও উড়িয়ে দিয়েছিলেন। পরে তিনি আগ্রহের সঙ্গেই নির্বাচন করেছেন।

নতুন গণভোট আয়োজনের ক্ষেত্রে হাতে সময়ও খুব বেশি নেই। পার্লামেন্টে ভোটের বিল পাস করতেই সাত মাস লেগে যায়। সে প্রক্রিয়াকে কিছুটা গতিশীল করা যেতে পারে। সে ক্ষেত্রে ইইউর কাছ থেকে ব্রিটেনকে আরো কিছু সময় চাইতে হবে। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইউরোপিয়ান কমিশনের চার্লস গ্র্যান্ট মনে করেন, ইইউ হয়তো এই প্রস্তাবে রাজি হবে। তিনি আশা করেন, আগামী বছর মে মাসে ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ভোট হওয়ার আগেই এ বিষয়টির নিষ্পত্তি হয়ে যাবে।

এর সবই যদি সময়মতো হয়ে যায়, তাহলে প্রশ্ন ওঠে ব্যালটে কী থাকবে? ব্রিটেনে কখনোই একাধিক বিষয় নিয়ে গণভোট হয়নি। গ্রিনিং এ বিষয়ে বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে বিষয়টি খুব একটা অপরিচিত নয়। এর আগে ফিনল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ায় এ ধরনের ভোট হয়েছে।

যদিও ভোট আয়োজন নিয়েই এখনো অনেকের মধ্যে তীব্র দোলাচল রয়েছে। কারণ গণভোটের ফলে ব্রিটেনের ইইউতে থেকে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এমন বিবেচনায় সংগঠনটি চুক্তির জন্য ব্রিটেনকে আর ছাড় নাও দিতে পারে। কারণ ব্রিটেনের থেকে যাওয়াই ইউরোপীয় ইউনিয়নের কাছে বেশি পছন্দনীয়। 

আবার ‘কোনো চুক্তি ছাড়াই’ ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার বিষয়টি ব্যালটে রাখাও কম ঝুঁকিপূর্ণ নয়। জেপি মর্গানের ম্যালকম বার বলেন, কোনো চুক্তি ছাড়াই সংগঠন থেকে বের হয়ে আসা পরিস্থিতিকে আরো অবনতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।

ব্রাসেলস আলোচনা এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। আশঙ্কা ক্রমেই প্রবল হচ্ছে যে কোনো চুক্তি ছাড়াও বের হয়ে আসতে পারে ব্রিটেন। মে গত দুই বছর ধরে বলে চলেছেন, ‘বাজে চুক্তির চেয়ে কোনো চুক্তি না হওয়াই ভালো।’ বাস্তবেই তাহলে চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়বে ব্রিটিশ জনগণ।

সূত্র : দি ইকোনমিস্ট

ভাষান্তর : তামান্না মিনহাজ

 



মন্তব্য