kalerkantho


মনের কোণে হীরে-মুক্তো

রক্তে অশ্রুতে চিহ্নিত হলো সীমান্তরেখা

ড. সা’দত হুসাইন

১০ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



রক্তে অশ্রুতে চিহ্নিত হলো সীমান্তরেখা

সামাদ ভাই আমার প্রিয় ব্যক্তিত্ব। যেহেতু বয়সে সিনিয়র, তাই মুরব্বিস্থানীয়।  আমরা যে বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে প্রথম বর্ষ বিএ অনার্সে ভর্তি হই, সামাদ ভাই ও তাঁর সতীর্থরা সে বছর মাস্টার্স ফাইনাল দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেরিয়ে যাচ্ছেন, সময় ১৯৬৩ সাল। এসএম হলের আবাসিক ছাত্র হিসেবে অবস্থান করে তাঁরা ফাইনাল পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষার পরও  অল্প কিছুদিন তাঁরা হলে অবস্থান করছিলেন। এ সময় হল সংসদের নির্বাচনের ব্যস্ততা চলছিল। ফরাস ভাই (ড. ফরাসউদ্দিন) ছিলেন আমাদের দল ইপসু থেকে ভিপি প্রার্থী, সামাদ ভাই একই দলের সিনিয়র সদস্য। নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে, বিশেষ করে নির্বাচনী সভায় তাঁর সরব উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। এ সময় নেতা-অনুসারীদের মধ্যে পরিচিতি ঘটে, ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সবাই একই লক্ষ্যে অর্থাৎ নির্বাচনে জয়ের লক্ষ্যে কাজ করে। আজ থেকে ৫৫ বছর আগে আমরা তেমনিভাবে কাজ করেছিলাম। ফরাস ভাই বিপুল ভোটে জয়ী হয়েছিলেন।

সামাদ ভাই হল ত্যাগ করে গেলেন। পরীক্ষার ফল ভালো হওয়ায় কয় মাসের মধ্যে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে প্রভাষক হিসেবে যোগ দিলেন, আমাদের সম্পর্ক আরো ঘনিষ্ঠ হলো; সামাদ ভাই শিক্ষক, আমরা ছাত্র। এ সময় সামাদ ভাই দেশের সুপরিচিত লেখক। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের সবচেয়ে মর্যাদাবান সাময়িকী সমকালে তাঁর লেখা বের হতো। সমকালের সম্পাদক ছিলেন সুসাহিত্যিক সিকান্দার আবু জাফর। সমকালের লেখকরা তো বটেই, পাঠকরাও নিজেদের দীপ্তিমান বোদ্ধা মনে করতেন। ফলত কিছুটা উন্নাসিকতার ভাব তাঁদের মধ্যে লক্ষ করা যেত। বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাদের সার্কেলের অনেকে সমকালের নিয়মিত পাঠক ছিলেন। লেখক হিসেবে সামাদ ভাইকে আমরা বিশেষভাবে সম্মান করতাম।

দুই বছরের মাথায় সামাদ ভাই সিএসপি হয়ে গেলেন। একই বছর অর্থনীতি বিভাগের আরো একজন শিক্ষক, ড. মহিউদ্দীন খান আলমগীর (সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) সিএসপি হয়েছিলেন। লাহোর সিভিল সার্ভিস একাডেমিতে ট্রেনিং শেষ করে সামাদ ভাই বগুড়া, চুয়াডাঙ্গা ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন জেলা, মহকুমা ও অধিদপ্তরে চাকরি করেছেন। এ সময় তিনি অনিয়মিত লেখক ছিলেন, তবে আমার সঙ্গে তাঁর নিয়মিত পত্র যোগাযোগ হতো। একসময় সামাদ ভাই লেখা বন্ধ করেছিলেন। আমার দৃষ্টিতে তাঁর শেষ লেখাটি ছিল ‘মাজান চুঙ্গি’। চার বছর পর ১৯৬৯ সালে আমিও সিএসপি ক্যাডারে যোগ দিলাম। এবার সহকর্মী হিসেবে সামাদ ভাইয়ের সঙ্গে আমার দেখা। তিনি তখন লাহোরে খাদ্য বিভাগে কর্মরত। এরই মধ্যে তিনি লেখালেখি বন্ধ করে পুরোমাত্রায় সিএসপি অফিসার হয়ে গেছেন। সিএসপি চাকরির এমন একটা মোহিনী শক্তি ছিল যে এ চাকরিতে যোগ দেওয়ার প্রথম কয়েক বছরে ক্যাডার অফিসাররা অন্য কোনো সুকুমার কাজ করার জন্য উৎপহ বোধ করতেন না। ক্যাডারের নির্দিষ্ট কাজ ও কর্মপরিবেশ তাঁদের সদা ব্যাপৃত রাখত।

চাকরিজীবনের একেবারে শেষভাগে এসে সামাদ ভাই আবার লেখালেখি শুরু করেন। যেহেতু মুক্তিযুদ্ধে সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন, তাই মুক্তিযুদ্ধের ওপর তিনি একটি তথ্যবহুল গুরুত্বপূর্ণ বই লেখেন, যা পাঠক মহলে সমাদৃত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে তিনি তাঁর পুরনো ধারা অর্থাৎ ছোটগল্প রচনায় ফিরে গেছেন। সম্প্রতি তিনি ছোটগল্পের একটি সংকলন প্রকাশ করেছেন, যার শিরোনাম হচ্ছে ‘ধুন্দি’। এটি সংকলনে অন্তর্ভুক্ত একটি গল্পেরও নাম। আজকের নিবন্ধের উদ্দেশ্য এ বইয়ের পর্যালোচনা (Received) নয়। সেটি হয়তো অন্য সময়ে করা যাবে। এ লেখার উপজীব্য হচ্ছে ১৯৪৭ সালে দেশ তথা ভারত বিভাগের ফলে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান পরিবারগুলোর মাতৃভূমি ত্যাগ করে পূর্ববঙ্গে অভিবাসী হওয়ার ঝক্কি-ঝামেলা ও মানসিক যন্ত্রণা তুলে ধরা।

দেশ বিভাগের বেশ কয়েক বছর পর ১৯৫১ সালে আমি নোয়াখলী জেলার সদর দপ্তর মাইজদী কোর্টের বাসায় থাকা শুরু করি। মা তখনো শহরে আসেননি, আমাদের গ্রামের বাড়িতে থাকেন। এখানে এসে আমি হরিনারায়ণপুর  হাই স্কুলে ভর্তি হই, আমাদের বাসা ছিল লইয়ার্স কলোনিতে। এ পাড়ায় মাত্র দু-তিনটি হিন্দু পরিবার ছিল। এর মধ্যে একজনের ছিল কাছারিঘর। একটি পরিবারের প্রধান ছিলেন আইনজীবী। বাকি পরিবারটি ছিল নিতান্তই নিম্নবিত্ত, মনে হয় অন্য কারো বরাদ্দ করা প্লটে ঘর বানিয়ে বসবাস করছিল। আমাদের স্কুলের পাশে ছিল সম্ভ্রান্ত হিন্দু পরিবারের বসবাস। পাড়ার নাম ছিল ‘গুপ্তাংক’। পাশাপাশি আরো দুটি স্কুল ছিল। নাম কল্যাণ হাই স্কুল ও বঙ্গ বিদ্যালয়। হরিনারায়ণপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন হালিম সাহেব, তবে এখানে বেশ কয়েকজন হিন্দু শিক্ষক ছিলেন। কল্যাণ স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন প্রফুল্ল কুমার ভট্ট, যাঁকে শহরের লোকজন পি কে ভট্ট হিসেবে জানত। এ স্কুলের বেশির ভাগ শিক্ষক ছিলেন হিন্দু ধর্মাবলম্বী। তাঁরা প্রায় সবাই শহরের অভিজাত শ্রেণির লোক। শিক্ষক হিসেবেও তাঁদের বেশ  নাম-সুনাম ছিল। চলনে-বলনে তাঁরা ছিলেন বেশ পরিপাটি। শুনেছি, তাঁদের দু-একজন স্বদেশি আন্দোলনের নেতা ছিলেন। গুপ্তাংকে কয়েকজন আইনজীবী বাস করতেন। তাঁদেরও বেশ নামডাক ছিল।

কয়েক মাস পরপরই আমরা শুনতে পেতাম অমুক উকিল, অমুক শিক্ষক গোপনে ভারতে চলে গেছেন। যত দূর মনে পড়ে, সন্তোষ স্যার দর্শনা বর্ডারে আটক হয়েছিলেন। কয়েক দিন পর তিনি ফেরত এসেছিলেন, পরে আবার সুযোগ বুঝে চলে যান। এমনিভাবে দেখতাম বাড়িঘর ছেড়ে বনেদি হিন্দু পরিবার ভারতে চলে গেছে, কয় দিন পর দেখতাম কোনো মুসলমান পরিবার সে বাড়িতে বসবাস করা শুরু করেছে। হিন্দু পরিবারটি কোথায় কোন জায়গায় নতুন বাস গড়েছে, তা কেউ বলতে পারত না অথবা বলত না। আমরা বুঝতাম যে তারা আর ফেরত আসবে না। তাদের বাড়িতে মুসলমান পরিবারটি স্থায়ীভাবে বসবাস করবে; হিন্দু বাড়িটি তারা কিনে নিয়েছে। নিশ্চয় খুব কম দামে।

আমি কোনো মুসলমান পরিবারকে দেশত্যাগ করতে দেখিনি। দেখার কথাও নয়, নিজের দেশ পূর্ববঙ্গ ছেড়ে মুসলমানদের পশ্চিমবঙ্গে বা ভারতে যাওয়ার কারণ ছিল না। সুতরাং কেউ যায়নি। ভারত থেকে আসা কোনো মুসলমান পরিবার নোয়াখালী শহরে আসেনি। এত প্রত্যন্ত অঞ্চলে তাদের আসার কথা নয়। আমি তাই স্কুলজীবনে কোনো মুসলমান মুহাজির দেখিনি। শহরে-গ্রামে আমরা সবাই স্থানীয় বাসিন্দা। হিন্দু পরিবার যারা পূর্ববঙ্গে রয়ে গিয়েছিল তাদের সঙ্গে আমরা মিলেমিশে ছিলাম। ঢাকায় এসে কলেজে ভর্তি হওয়ার পর আমি কিছু ছাত্রকে দেখতে পেলাম, যারা বিহার থেকে আসা মুহাজির। তারা বাংলায় কথা বলে, তবে উর্দুর টান রয়েছে। তাদের সঙ্গে আমাদের পরিচয় যেমন ভাসা ভাসা, সম্পর্কও তেমনি হালকা-পাতলা। আমরা কখনো তাদের বাসায় যাইনি; তারা কোথায় থাকে তা-ও ভালো করে জানতে পারিনি। সত্যি কথা হচ্ছে জানতে চাইনি। আর ওপার থেকে আসা কোনো বাঙালি পরিবারের ছেলের সঙ্গে কলেজজীবনে আমার পরিচয় হয়নি। আমার যারা বন্ধুবান্ধব, পরিচিতজন—সবাই পূর্ববঙ্গের অধিবাসী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর অল্প কজন সতীর্থ ও সিনিয়র ছাত্রের সঙ্গে পরিচয় হলো, যাদের পরিবার পশ্চিমবঙ্গ থেকে পূর্ববঙ্গে এসে বসবাস শুরু করেছে। তারা প্রায় সবাই পুরান ঢাকার অধিবাসী। শুনতে পেতাম ‘এক্সচেঞ্জ’ করে পুরান ঢাকায় হিন্দুর বাড়িতে বাস গড়েছে; বিনিময়ে পশ্চিমবঙ্গে নিজেদের বাড়িঘর, জোতজমি হিন্দু পরিবারকে লিখে দিয়েছে। যেহেতু দেশান্তরিত হিন্দু পরিবারের বাসা পুরান ঢাকায় ছিল, তাই পশ্চিমবঙ্গ থেকে আসা অনেক মুসলমান পরিবার পুরান ঢাকায় বসবাস করছে। সামাদ ভাইদের পরিবার বাস করছে ৪৯ ভজহরি স্ট্রিটে। সামাদ ভাইয়ের মুখে ঠিকানাটা বহুবার শুনে এটি আমার মুখস্থ হয়ে গেছে। সুযোগ পেলেই সামাদ ভাই পরিতৃপ্তির সঙ্গে এ ঠিকানা আওড়াতেন। সামাদ ভাইয়ের বর্তমান ঠিকানা বারিধারা আবাসিক এলাকায়। এ বাসায় আমি বহুবার গেছি। বাড়ি নম্বর ও রাস্তার নম্বর খুব কাছাকাছি হওয়ায় মাঝেমধ্যে বাসার ঠিকানা গুলিয়ে ফেলি। পুরান ঢাকায় সামাদ ভাইয়ের বাসায় আমি কখনো যাইনি। কিন্তু তাঁর ঠিকানা বলতে কখনো ভুল হয়নি। ৪৯ ভজহরি স্ট্রিট। ইংরেজিতেই বেশি উচ্চারিত হতো, ‘ফরটি নাইন ভজহরি স্ট্রিট’।

সামাদ ভাই সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ‘ধুন্দি’ নামে ছোটগল্পের একটি সংকলন। গল্পগুলো খুবই সুখপাঠ্য। একবার পড়া শুরু করলে শেষ না করে ওঠা যায় না। এ লেখায় অবশ্য আমি বইটির সাহিত্য-মাধুর্য বর্ণনা করতে যাচ্ছি না। যে বিষয়টি আমাকে আকৃষ্ট করেছে, তার চেয়েও বড় কথা, ভাবাবেগে আপ্লুত করেছে, তা হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের বাস্তুত্যাগী মুসলমান পরিবারের সীমান্ত অতিক্রম ও পূর্ববঙ্গে বসতি স্থাপন। আগেই বলেছি, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে এ পরিবারের সন্তানদের সঙ্গে আমার পরিচয় ঘটে। সামাদ ভাই তাঁদের একজন। আরো যাঁদের চিনেছি তাঁরা হলেন আহবাব ভাই (পরবর্তীকালে সিএসপি সচিব), খালেদ রব, জাকির ভাই (হাইকোর্টের বিচারপতি), মঞ্জুর ইলাহী শিল্পপতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা। জাতীয় পর্যায়ে প্রসিদ্ধ ব্যক্তিদের মধ্যে ছিলেন বিচারপতি সাত্তার, আবুল হাসেম, জহির উদ্দিন, খান বাহাদুর নাজির উদ্দিন, আবদুল গণি হালদার প্রমুখ। আমি কোনো দিন জানতে চাইনি তাঁদের পরিবার পশ্চিমবঙ্গে কোথায় থাকত, কখন কিভাবে তাঁরা জন্মভূমি ছেড়ে পূর্ববঙ্গে চলে এলেন। জন্মভূমি ছাড়ার আগ মুহূর্তে তাঁদের বা তাঁদের অভিভাবকদের কেমন লেগেছিল। পূর্ববঙ্গে এসে বসবাস করতে গিয়ে তাঁদের কী অসুবিধা হয়েছিল। এমন সব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা বোধ হয় উচিত ছিল। আমি জিজ্ঞেস করিনি। স্বাভাবিকভাবে মেলামেশা করেছি। পূর্ববঙ্গে অন্য বন্ধুবান্ধব ও পরিচিতজনদের চেয়ে তাঁদের আলাদা মনে হয়নি। শুধু এটুকু মনে আছে, তাঁরা শুদ্ধ বাংলায় কথা বলতেন। উচ্চারণে কোনো ‘বাঙ্গাল’ বা গ্রাম্য টান ছিল না।

‘ধুন্দি’তে পশ্চিমবঙ্গের মুসলমান পরিবারের স্বাধীনতা-উত্তর (১৯৪৭ সাল) টানাপড়েন, অস্বস্তি, অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা এবং সর্বোপরি চেনা পরিবেশ, চেনা মানুষ, আত্মীয়স্বজন, বন্ধুবান্ধব ছেড়ে নতুন দেশ, নতুন লোকালয়ের উদ্দেশে যাত্রার হৃদয়বিদারক কাহিনি পাকা মুনশিয়ানায় সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। যে অঞ্চলের মুসলমান পরিবারের দেশত্যাগের কাহিনি বিধৃত হয়েছে তা হলো বর্ধমান ও রাঢ় অঞ্চল। এ অঞ্চল সম্পর্কে আমার জ্ঞান সীমিত। মুক্তিযুদ্ধের সময় সরকারি কাজে আমি বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের প্রায় প্রতিটি জেলায় গেছি। আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরাও বাদ ছিল না। কিন্তু বর্ধমান, বীরভূম, হুগলি, বাঁকুড়া এসব জেলায় যাওয়া হয়নি। এখানকার নদী, পাহাড়ি অঞ্চল, রাঙামাটির কথা গল্পে, কবিতায়, গানে শুনতে পেয়েছি। মায়ের কাছে দ্রুত পৌঁছার তাগিদে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর দামোদর নদী সাঁতরে পার হয়েছিলেন, এটি ছোট বয়সের বইতে পড়া; কিন্তু দামোদরের বন্যার বর্ণনা এর আগে পড়িনি। দামোদরও যে একটি উন্মত্ত নদ, ‘ধুন্দি’ পড়ে তার সম্পর্কে আমার স্বচ্ছ ধারণা হয়েছে।

১৯৪৭ সালের এক গভীর রাতে স্বৈরাচারীচক্রের কলমের আঁচড়ে যে যোগান্ত-বিয়োগান্ত নাটক মঞ্চস্থ হয়েছিল, তার ভুক্তভোগী হয়েছিল উপমহাদেশের শত লক্ষাধিক পরিবার। আমরা এর খণ্ডিত রূপ দেখতে পেয়েছি। যেমন আমি স্কুলজীবনে দেখেছি হিন্দু পরিবারের পূর্ববঙ্গ ত্যাগ, ঢাকায় এসে হাটবাজারে দেখতে পেয়েছি বিহারি মুহাজির, বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে দেখতে পেয়েছি পশ্চিমবঙ্গ থেকে বাস্তুচ্যুত বাঙালি মুসলমান পরিবারের সন্তানদের। ‘ধুন্দি’ পড়ে জানতে পেরেছি তাদের অভিভাবকদের সম্পর্কিত নানা কাহিনি। রেলস্টেশনে বিদায় দিতে এসে আত্মীয়স্বজনের সজল চোখে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থাকা। ওপাশে ভারত-পাকিস্তান সীমান্তেও ঝরেছিল অনেক রক্ত, মঞ্চস্থ হয়েছিল অনেক হৃদয়বিদারক করুণ নাটক (Tragedy)। অশ্রুতে সিক্ত হয়েছিল ধূলিধূসর শুকনো ভূমি।

এককথায় রক্ত-অশ্রুতে চিহ্নিত হয়েছিল দুই দেশের সীমান্তরেখা। 

লেখক : সাবেক মন্ত্রিপরিষদসচিব ও পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যান



মন্তব্য