kalerkantho


কোরিয়া উপদ্বীপে শীতের অলিম্পিকে উষ্ণতার হাওয়া!

চোই সাং-হুন

৪ জানুয়ারি, ২০১৮ ০০:০০



কোরিয়া উপদ্বীপে শীতের অলিম্পিকে উষ্ণতার হাওয়া!

উত্তর কোরীয় নেতার বার্ষিক ভাষণের পর প্রেক্ষাপট বিবেচনায় নিয়ে দক্ষিণ কোরিয়া তার অবস্থান ব্যক্ত করেছে। আগামী সপ্তাহে দুই কোরিয়ার মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সীমান্ত আলোচনার প্রস্তাব করেছে দক্ষিণ কোরিয়া। উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর ভাষণে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা নিরসনের জন্য সংলাপের প্রস্তাব করেন। শীতকালীন অলিম্পিকে তাঁর দেশের অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথাও জানান। একই সঙ্গে এ কথাও বলেন যে তাঁর অফিসকক্ষে হাতের কাছেই ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ রয়েছে।

কিমের পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের হুমকির জবাব দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার রাতে টুইটারে কিমের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাঁরও ‘নিউক্লিয়ার বাটন’ রয়েছে এবং তা উত্তর কোরিয়ার বাটনের চেয়ে অনেক বেশি সক্ষম ও কার্যকর। ওই দিন সকালে টুইটারে তিনি বলেন, দুই কোরিয়ার আলোচনায় বসার খবর স্বস্তিদায়ক; কিন্তু ঘটনাটি সম্ভবত ঘটবে না।

হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি সারাহ হুকাবি স্যান্ডার্স বলেছেন, কোরীয় উপদ্বীপকে পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করতে উত্তর কোরিয়ার ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যাপারে তাদের নীতিতে কোনো পরিবর্তন ঘটবে না। একই দিনে জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত নিকি হ্যালি দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার বিষয়টিকে বলতে গেলে নাকচই করে দেন। তিনি বলেন, উত্তর কোরিয়ার সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র যদি বাতিল করা না হয়, তাহলে এই আলোচনাকে গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেওয়া হবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র হিদার নাওয়ার্ট বলেন, দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার বিষয়টিকে সমর্থন করা যায় কি যায় না, ভেবে দেখছে ট্রাম্প প্রশাসন। তিনি বলেন, দুই কোরিয়ার আলোচনার বিষয়টি একান্তই তাদের নিজস্ব ব্যাপার। তবে কিম যদি মনে করে থাকেন, এই আলোচনার মাধ্যমে তিনি যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার সম্পর্কে ভাঙন ধরাবেন, তাহলে বলতে হয়, এ কৌশল কোনো কাজে লাগবে না। তাঁর উদ্দেশ্য সফল হবে না।

উত্তর কোরিয়ার বিষয়ে দক্ষিণ কোরিয়ার মূল দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি (একত্রীকরণ বিষয়ক মন্ত্রী) চো মিয়ং-গিওন দুই কোরিয়ার মধ্যে আলোচনার প্রস্তাব করেন। আগামী মঙ্গলবার সীমান্তবর্তী পানমুনজমে এই আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে। এ বিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, উভয় পক্ষ খোলা মনে আলোচনা করবে বলে তাঁর আশা। উত্তর কোরিয়া যদি সম্মত হয়, তাহলে দুই বছরের মধ্যে প্রথম দ্বিপক্ষীয় আলোচনার সূত্রপাত হবে।

দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা মনে করছেন, এর ফলে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা কমানোর সম্ভাবনা তৈরি হবে। এর ফলে যুদ্ধের আশঙ্কা কমবে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, দুই কোরিয়ার মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নের এই আকস্মিক উদ্যোগ দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কে ক্ষত সৃষ্টি করবে। মিয়ং-গিওন অবশ্য বলেছেন, তাঁরা এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন।

প্রসঙ্গত, পানমুনজম দুই কোরিয়ার মধ্যে সংযোগের মূল মাধ্যম। সেখানে দুই পক্ষ টেলিফোন হটলাইনে আলোচনা বা যোগাযোগ করে। কিন্তু ২০১৬ সালের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট পার্ক গিউন-হি (পরে অভিশংসিত) উত্তর কোরিয়ার কায়েসং শহরে যৌথ উদ্যোগের একটি শিল্প কমপ্লেক্স বন্ধ করে দেওয়ার পর এই হটলাইন এখন পর্যন্ত ব্যবহার করেনি পিয়ংইয়ং। দুই কোরিয়ার মধ্যে সর্বশেষ আলোচনা হয়েছিল ২০১৫ সালের ডিসেম্বরে। গত মঙ্গলবার চো মিয়ং-গিওন হটলাইন সক্রিয় করার জন্য উত্তর কোরিয়ার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে আলোচ্য বিষয়গুলো নির্ধারণ করে নেওয়া যায়।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন তাঁর ভাষণে শীতকালীন অলিম্পিকে অংশগ্রহণের ইচ্ছার কথাও বলেছেন। আগামী ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ কোরিয়ার পিয়েওনচাং শহরে এই আসর বসবে। আলোচনা ও সম্পর্ক পুনরুদ্ধার করতে গিয়ে বেশ কয়েক দফায় বাধাগ্রস্ত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে ইন। কিমের ইচ্ছা তাঁর সামনে অচলায়তন ভাঙার সুযোগ এনে দিয়েছে। তিনি অলিম্পিকে অংশগ্রহণের জন্য আগেই কিমকে আমন্ত্রণ জানিয়ে রেখেছেন। তিনি মনে করেন, এতে কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা কমতে পারে।

বেশ কয়েক মাস প্রেসিডেন্ট মুনকে আমলে না নেওয়ার চেষ্টা করেছেন কিম। তিনি মুনকে ‘মার্কিন চাটুকার’ আখ্যা দিয়েছেন। তবে ‘নিউ ইয়ার’-এর ভাষণে পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন তিনি। মুনের আহ্বানকে স্বাগত জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্ট মুন উত্তর কোরিয়ার সদিচ্ছা প্রকাশকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। শীতকালীন অলিম্পিক আসরকে সম্পর্কোন্নয়নের ক্ষেত্রে পরিণত করতে চান তিনি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের এই নিরিখে দ্রুত প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

লেখক : নিউ ইয়র্ক টাইমসের কোরিয়া প্রতিনিধি

সূত্র : নিউ ইয়র্ক টাইমস অনলাইন

ভাষান্তর : সাইফুর রহমান তারিক


মন্তব্য