kalerkantho


একাডেমির গল্প বাস্তব হবে মার্চে!

২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০



একাডেমির গল্প বাস্তব হবে মার্চে!

ক্রীড়া প্রতিবেদক : ফুটবল ফেডারেশন আর ফুটবল একাডেমির বন্ধনটা কখনো রাজযোটক হয়নি। একবার ৯ মাসের জন্য চালু হলেও বাকিটা সময়জুড়ে বাফুফের একাডেমি এক কাল্পনিক বিষয়। নতুন ঘোষণায় সেই ফুটবল একাডেমি শুরু হবে আগামী মার্চে।

বাফুফের চলমান প্রতিভা অন্বেষণ উপলক্ষে গতকাল ছিল এক সংবাদ সম্মেলন। সেখানে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন বলেছেন, ‘এক মাস ধরে দেশব্যাপী প্রতিভাবান ফুটবলার বাছাই হয়েছে। আশা করি, স্বচ্ছতার সঙ্গেই হয়েছে। যাদের আমরা বাছাই করব, তাদের মেডিক্যাল পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এবং পরিবারের সঙ্গে কথা বলে আগামী মার্চে একাডেমি শুরু করব।’ কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক খেলা ছাড়া প্রতিভা অন্বেষণের উদ্যোগ মোটেও আধুনিক উপায় নয়। ফুটবলবিশ্বে এর চলও খুব নেই। এর পরও বাফুফে মান্ধাতা আমলের রীতিতে চলে এবং গত ২৬ জানুয়ারি থেকে শুরু করে প্রতিভা অন্বেষণ। অনূর্ধ্ব-১৫ ও অনূর্ধ্ব-১৮ বয়সভিত্তিক বিভাগে ফুটবলার বাছাই করেছে। ফেডারেশনের দাবি অনুযায়ী, প্রায় ১৬ হাজার ফুটবলার থেকে বাছাই করে ঢাকায় এনেছে ২৭৫ জনকে। সেখান থেকে দুই বিভাগে ৩৫ জন করে ৭০ জন ফুটবল প্রতিভা বাছাই করেছে। তাদের নিয়েই চালু করবে একাডেমি।

২০১৫ সালে সিলেট বিকেএসপিকে বাফুফের একাডেমিতে রূপ দেওয়া হয়েছিল। সেখানকার খেলোয়াড়দের দিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-১৬ জিতেছিল বাংলাদেশ এবং তার পরপরই বন্ধ হয়ে যায় ওই একাডেমি। সাকল্যে চলেছিল ৯ মাস। একাডেমির গল্প আবার প্রবলভাবে ফেরে গত আগস্টে কাঠমাণ্ডুতে বাংলাদেশের কিশোরদের সাফ অনূর্ধ্ব-১৫ শিরোপা জেতার পর। বিজয়ীরা দেশে ফেরার পর উজ্জীবনী ভাষণে বাফুফের বড় কর্তারা খেলোয়াড়দের সামনে এগোনোর প্রেরণা জোগান। গত ৫ নভেম্বর এই ফুটবলারদের বেতন কাঠামোয় আনার ঘোষণার পাশাপাশি দুই দিনের মধ্যে সিলেট বিকেএসপিতে ট্রেনিংয়ে পাঠানোর কথা বলেছিলেন বাফুফে সাধারণ সম্পাদক। যেন সিলেটের গাড়িতে তুলে দেওয়ার আনুষ্ঠানিকতাটাই বাকি। কিন্তু কয়েক দিনের মধ্যে সেই সিলেটযাত্রা বাতিল করে শুরু হয় একাডেমির নতুন গল্প। নতুন আলোচনা দানা বাঁধতে শুরু করে বাড্ডার বেরাইদে ফর্টিস গ্রাউন্ডকে ঘিরে। তার পাশে খেলোয়াড়দের আবাসনব্যবস্থা করার তোড়জোড়ও দেখা গিয়েছিল। সেই উদ্যোগ এখনো জারি আছে বলে বাফুফের দাবি।

অনেকে এটাকে আগামী ফুটবল নির্বাচনের কৌশল হিসেবে দেখলেও বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন এই আলোচনা উড়িয়ে দিয়ে বলছেন, ‘আমি নির্বাচনের জন্য ফুটবলের এই প্রতিভা অন্বেষণ করছি না। এই ফুটবলারদের ভালোভাবে গড়ে তোলা গেলে সামনে আন্তর্জাতিক ফুটবলে আমাদের ভালো করার সুযোগ আছে। তা ছাড়া আমি ফেডারেশনে না থাকলেও কোনো সমস্যা নেই। এই উদ্যোগে ফুটবলের উপকার হবে।’ ফুটবলের উপকারের ব্যাপারটা একটু দেরিতেই বুঝলেন তিনি! সভাপতির অবশ্য দাবি ভিন্ন, ‘খেলোয়াড় তুলে আনা ক্লাবগুলোর কাজ। তাদের অনেক বলার পরও তারা করছে না, তাই বাফুফেকে করতে হচ্ছে।’



মন্তব্য