kalerkantho



সানডের হ্যাটট্রিকে ফাইনালে আবাহনী

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সানডের হ্যাটট্রিকে ফাইনালে আবাহনী

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আবাহনী ম্যাচের শুরু থেকেই ভয়ংকর। একের পর এক আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়ছিল শেখ জামালের বক্সের ওপর। জামালও তো এমনি এমনি সেমিফাইনালে উঠে আসেনি, তারা লড়ছিল বুক চিতিয়ে। প্রথমার্ধটা গোলশূন্য রাখতে পারাটা তাই তাদেরই জয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই সেই বাঁধ ভেঙে যায় জটলার ভেতর থেকে মাসি সাইঘানি বল জালে ঠেললে। এরপর গোলের খেলাই হয় পুরো আধঘণ্টা। এর মধ্যেই সানডে চিজোবা হ্যাটট্রিক করে ফেলেন, শেখ জামালের দিদারুল আলম জোড়া গোল করেও দলকে সমতায় ফেরাতে পারেন না। শেষ পর্যন্ত ৪-২ গোলে ম্যাচ জিতে ফেডারেশন কাপে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে আবাহনী।

 

আগের দুইবার শিরোপাও জিতেছে তারা। এবার হ্যাটট্রিক শিরোপার হাতছানি আকাশি-নীলের সামনে। জামাল কোচ জোসেফ আফুসি কাল ম্যাচ শেষে হারটা মেনে নিয়েছেন এভাবে, ‘আমরা সেমিফাইনালে উঠে আসব, এটাই কেউ ভাবতে পারেনি। আজও আমার ফুটবলাররা দারুণ লড়াই করেছে। দু-একটি ভুলের কারণেই ম্যাচ জিততে পারিনি।’ রুবেলের কর্নারে মাসিহ আবাহনীকে এগিয়ে দেওয়ার পর দ্বিতীয় গোলটা আসে পেনাল্টি থেকে। পেনাল্টির সেই সিদ্ধান্ত নিয়ে অবশ্য বিতর্ক আছে। জামালের দুই ডিফেন্ডার শ্যামল মিয়া ও শওকত রাসেলের মাঝ দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় ভারসাম্য হারিয়েছেন সানডে। ডিফেন্ডারদের গায়েও লেগে থাকতে পারেন তিনি। পেনাল্টির সিদ্ধান্ত দেওয়াটা কঠিনই সে পরিস্থিতিতে। কিন্তু রেফারি বাঁশি বাজান আর তা থেকে সানডেই করেন তাঁর প্রথম গোল। ২-০তে এগিয়ে গিয়ে আবাহনীরও জয়ের আশা বাড়ে তাতে। ম্যাচের ১০ মিনিট বাকি থাকতে সেই ম্যাচ জমিয়ে তোলেন সাখাওয়াত হোসেনের বদলি নামা দিদারুল আলম। মিডফিল্ড থেকে পাঠানো একটা থ্রু পাস ধরে আবাহনীর দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্রথম গোল তাঁর। পরমুহূর্তেই অবশ্য সানডে ৩-১ করে ফেলেন ওয়ালি ফয়সালের ফ্রিকিকে মাথা ছুঁইয়ে। ম্যাচের চার মিনিট বাকি থাকতে আবার দিদারুল জটলার ভেতর থেকে বল আবাহনীর জালে পাঠান। কিন্তু দিনটা এদিন আকাশি-নীলেরই। নইলে বক্সের অনেক বাইরে থেকে নেওয়া সানডের গড়ানো শটটা ফেরাতে পারারই কথা জামাল গোলরক্ষককের। কিন্তু নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার যে ওখান থেকে শটটা নেবেন তা যেন বুঝতেই পারেননি নাঈম। অন্য প্রান্তে আস্থা নিয়ে খেলেছেন শহীদুল। ম্যাচের শুরুর দিকেই জামালের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লুসিয়ানো পেরেজের কোনাকুনি শট ফিরিয়েছেন তিনি দারুণ দক্ষতায়। সলোমন কিংসের বুলেট গতির ফ্রিকিকেও তিনি অবিচল।

এদিন পেরেস ফিনিশিংয়ে আরেকটু নিখুঁত হলে ম্যাচের শেষটা অন্য রকমই হতে পারত। দ্বিতীয়ার্ধে সেইনি বোজাংয়ের ক্রসে শহীদুলের হাতে বল তুলে দিয়েছেন তিনি। পরেরবার বোজাংয়ের ক্রসেই ভালো জায়গা থেকে বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি। আবাহনীও শুরুতে সুযোগ নষ্ট করেছে, বেলফোর্ট যেমন বক্সের ভেতর থেকেই উড়িয়ে মেরেছেন দুইবার। তপুর হেড গোললাইন থেকে সেভ হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে অরক্ষিত মাসির শট ফেরানোর মতো কেউ ছিলেন না পোস্টে। সানডের হ্যাটট্রিকে আছে ভাগ্যেরও সহায়তা। ম্যাচ শেষে বারবার করে সৃষ্টিকর্তার প্রতিই কৃতজ্ঞতা জানালেন এই নাইজেরিয়ান। হাইতিয়ান স্ট্রাইকার বেলফোর্ট দলে যোগ হওয়ায় দুজনের মধ্যে গোলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বেড়েছে। কিন্তু সানডে আগের মতোই নিজের সুযোগ কাজে লাগাতে সিদ্ধহস্ত। আবাহনীও সফল তাদের আক্রমণাত্মক ফুটবলে।



মন্তব্য