kalerkantho



কিংস-রাসেলে ব্যবধান কলিনড্রেস

২০ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



কিংস-রাসেলে ব্যবধান কলিনড্রেস

ছবি : লুৎফর রহমান

ক্রীড়া প্রতিবেদক : টুর্নামেন্টের সেরা দুটি দল আজ মুখোমুখি হচ্ছে। যারা কিনা অনায়াসে ফাইনালেও মুখোমুখি হতে পারত। ফেডারেশন কাপের সেই ফাইনালে ওঠার লড়াই আজ তাদের। বসুন্ধরা কিংস না শেখ রাসেল, কারা হবে আগামী শুক্রবার আবাহনীর প্রতিপক্ষ?

যে চারটি দল এএফসি লাইসেন্স করেছে তার একটি সাইফ স্পোর্টিং সেমির আগেই ঝরে গেছে। আজকের দুই প্রতিপক্ষ কিংস, রাসেল দুই দলের লক্ষ্য শুধু ফাইনালেই ওঠা নয়, শিরোপা জিতে এই মৌসুমে এএফসি কাপে খেলাও নিশ্চিত করতে চায় তারা। বসুন্ধরা কিংস তো প্রিমিয়ারে নাম লিখিয়েই ঘরোয়া সব শিরোপা জেতা আর সে এএফসি কাপে নিজেদের মেলে ধরার লক্ষ্যে ঢাকার ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা দল গড়েছে। বিশ্বকাপে খেলা ডেনিয়েল কলিনড্রেস সত্যিই যে মানে অনেক ধাপ এগিয়ে বাংলাদেশে খেলা ফুটবলারদের চেয়ে প্রতিটি ম্যাচে তা তিনি দেখিয়েছেন। শুরুর দিকে খেলা তৈরি এবং গোলের সুযোগ তৈরিতেই বেশি মনোযোগী দেখা গেছে। কোয়ার্টার ফাইনালে ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার মার্কোস ভিনিসিয়ারের অনুপস্থিতিতে দেখা গেল সেই স্ট্রাইকারের ভূমিকায়ও তিনি অসাধারণ। ঢাকার মাঠে ১৫ মিনিটের মধ্যে হ্যাটট্রিক করে নতুন রেকর্ড গড়েছেন। আজও মার্কোসের খেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। আজও কি গোলমুখী সেই কলিনড্রেসকেই দেখা যাবে? কোচ অস্কার ব্রুজন নিজের সেরা অস্ত্রকে নিয়ে কোনো সংশয়ে নেই, ‘গোল করা এবং করানোই কলিনড্রেসের মূল দায়িত্ব। সে ম্যাচ পরিস্থিতিটা বুঝতে পারে দারুণ। সে অনুযায়ী কখনো মিডফিল্ডে যোগ দেয়, কখনো ওপরে উঠে যায়। আশা করি আজ একই ধারাবাহিকতা নিয়ে ও খেলবে।’ এই এক ফুটবলারের সামর্থ্য আছে যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারিয়ে দেওয়ার। শেখ রাসেল কোচ সাইফুল বারীর তা অজানা নয়। ফাইনালে ওঠার লড়াইয়ে নামার আগে তিনি সতর্ক, ‘কলিনড্রেসের মতো ফুটবলার জায়গা পেলেই ভয়ংকর হয়ে উঠবে, এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের কাজ হবে ওকে যতটা সম্ভব আটকে রাখা।’

টুর্নামেন্টে এ পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি গোল করা দল যদি হয় বসুন্ধরা কিংস, তবে সবচেয়ে কম গোল হজম করা দলটির নাম কিন্তু শেখ রাসেল। কম গোল কি, তারা এ পর্যন্ত কোনো গোলই হজম করেনি, টানা তিন ম্যাচ ক্লিনশিট দলটির। এমন প্রতিপক্ষকে নিয়ে ব্রুজনকে তাই ভাবতেই হচ্ছে আলাদা করে, ‘ম্যাচটি সহজ হবে না আমাদের জন্য। একটা কঠিন গ্রুপ পেরিয়ে ভালোভাবেই আমরা নক আউট পর্বে এসেছি। তবে কালকের (আজ) প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ৯০ মিনিটই আমাদের সেরা ফুটবলটা উপহার দিতে হবে। এমন একটি দলের বিপক্ষে খেলতে নামছি, যারা এই টুর্নামেন্টে এখনো পর্যন্ত কোনো গোলই হজম করেনি। দল হিসেবেই দারুণ সংগঠিত ওরা, ডিফেন্ডাররাও খেলছে ধারাবাহিকতা নিয়ে। ওদিকে ওপরে গোল করার মতো ভালো মানের বিদেশিও আছে।’

মৌসুম শুরুর আগেই কিংস-শেখ রাসেল প্রস্তুতি ম্যাচ খেলেছে। কিংস ১-০তে জিতলেও সেই ম্যাচে রাসেলেরও কম দাপট ছিল না। বিশেষ করে তাদের নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার রাফায়েল ওদোয়িনকে সামলাতে বেগ পেতে হয়েছে কিংস ডিফেন্সকে। কিরগিজ ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার বখতিয়ার দুশোবেকভ অবশ্য তখনো দলে যোগ দেননি। ফেডারেশন কাপে তিনি ডিফেন্সকে যথেষ্ট সুরক্ষা দিয়েছেন। রাসেলের বিপক্ষে আজ আবার তাঁকে পাচ্ছে না কিংস। জাতীয় দলের হয়ে ম্যাচ খেলতে তিনি যে এখন জাপানে। তবে কিংসের বিকল্প অনেক। হোল্ডিং মিডফিল্ডারের ভূমিকায় মাশুক মিয়াও দুর্দান্ত খেলেছেন। কোয়ার্টার ফাইনালে দুই স্ট্রাইকার মার্কোস আর তৌহিদুল আলমকে একাদশের বাইরে রেখেই সেই ম্যাচ ৫-২ গোলে জিতেছে তারা। এই দলের বিপক্ষে সাইফুল বারী মনে করছেন, ‘ডিফেন্ডিংয়ে সামান্য ভুলে বড় খেসারত দিতে হবে।’ তবে প্রতিপক্ষকেও একইভাবে সতর্ক করেছেন তিনি, ‘ডিফেন্সে যারা যত কম ভুল করবে তাদেরই আসলে সুযোগ থাকবে এই ম্যাচে।’ ৪ ম্যাচে ১২ গোল করা কিংস ৫টা গোল হজমও করেছে এর মধ্যে। ডিফেন্ডিং নিয়ে ব্রুজনকে তাই সতর্ক থাকতেই হবে। তবে শেষ পর্যন্ত ব্যবধান গড়ে দিতে পারেন ওই কলিনড্রেস। তাঁর ওপর ব্রুজনের যেমন গভীর আস্থা, তেমনি বড় দুশ্চিন্তার নাম তিনি প্রতিপক্ষ কোচের কাছে। ফুটবল মাঠে তেমন ব্যক্তিগত ঝলক দেখতে যে মুখিয়ে নিরপেক্ষ দর্শকরাও।



মন্তব্য