kalerkantho



এসএ গেমসের তারিখ নিয়ে ধোঁয়াশা

অনিশ্চয়তায় প্রস্তুতি

১৬ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : দ্বাদশ এসএ গেমস শেষ হয়েছে তিন বছর হতে চলল। গুয়াহাটিতে গেমসের পতাকা তুলে দেওয়া হয়েছিল নেপালের কাছে। এ বছরই কাঠমাণ্ডুতে দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে বড় এ ক্রীড়া আসর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। কিন্তু কয়েক দফায় তারিখ পিছিয়ে সেই গেমস আগামী বছরও হবে কি না, তার নিশ্চয়তা নেই।

সর্বশেষ সিদ্ধান্ত ছিল আগামী বছরের মার্চে হবে এ আসর। সে অনুযায়ীই বাংলাদেশ প্রস্তুতি শুরুর তোড়জোড় শুরু করে, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন (বিওএ) প্রায় এক বছরের প্রশিক্ষণ পরিকল্পনা সাজিয়ে বাজেটও পাঠায় ক্রীড়া পরিষদে। সেই বাজেট অনুমোদনের প্রক্রিয়ার মধ্যেই মার্চে গেমস হওয়া নিয়ে আবার অনিশ্চয়তা দেখা দেয়। ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত নেপাল এই সময়ের মধ্যে তাদের অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত করতে পারবে না বলে সংশয় প্রকাশ করেন নেপাল অলিম্পিক কমিটিরই প্রধান জীবন রাম শ্রেষ্ঠা। ২০১৯-এর কোনো এক সময় তা হতে পারে বলে তিনি আশা দেখান। বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন যোগাযোগ করে জানতে পারে সেটা হতে পারে অক্টোবরে। কাল বিওএর উপমহাসচিব আশিকুর রহমান মিকু বলছিলেন, ‘আনুষ্ঠানিক কোনো পত্র যেহেতু আমরা পাইনি তাই অক্টোবরে ওই আসর শুরু হবেই—এমন জোর আমরা দিতে পারছি না।’

প্রস্তুতি পরিকল্পনায়ও তা বাদ সাধছে। ‘গেমস শুরুর তারিখ চূড়ান্ত নয় বলে আমরা বাজেট ছাড়ের ব্যাপারেও জোর করতে পারছি না মন্ত্রণালয়ে। তবে যদি অক্টোবরে গেমস হয়ই, তবে এখনই উপযুক্ত সময় আমাদের প্রস্তুতি শুরু করে দেওয়ার।’— বলেছেন মিকু, যিনি বিওএ’র ট্রেনিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট কমিটিরও প্রধান। গত ১ নভেম্বর থেকে ২০ সাঁতারু নিয়ে সাঁতার ফেডারেশন নিজেদের উদ্যোগেই সেই প্রস্তুতি শুরু করেছে। শ্যুটিং এবং আর্চারি এই দুটি খেলায় জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা প্রশিক্ষণে থাকেন প্রায় সারা বছরই। সেই হিসাবে বলতে গেলে তারাও আছে প্রস্তুতিতে। এর বাইরে অন্য ডিসিপ্লিনগুলোর অনেক কটিতেই গেমসের জন্য প্রাথমকি দল গড়া হয়েছে, কোনোটিতে প্রক্রিয়া চলছে। গেমসের তারিখ চূড়ান্ত না হওয়ায় এবং বিওএ থেকে অর্থ ছাড় না পাওয়ায় তারাও ঠিক ঝাঁপাতে পারছে না, ‘আর্চারি, শ্যুটিং ও সাঁতার নিজেদের অর্থায়নেই প্রস্তুতি শুরু করেছি। আমরা বলেছি টাকা পেলে তা সমন্বয় করে নেব। এর মধ্যে মাত্র দুই কোটি টাকা ছাড় হয়েছে বলে শুনেছি, তবে এখনো আমরা তা হাতে পাইনি।’

২৭টি ডিসিপ্লিনে হওয়ার কথা আগামী এসএ গেমস। সর্বশেষ গত জুলাইয়েই ক্রিকেট অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, বাদ পড়েছে হকি। ওই সভাতেই গলফে পেশাদারদের সুযোগ দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু এরপর আয়োজন নিয়ে আর কোনো অগ্রগতিই নেই। নেপাল থেকে সদস্য দেশগুলোতে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানোর কথা সেটি তারা পাঠায়নি, এর মধ্যেই জানা যায় তাদের প্রস্তুতির ঘাটতির কথা। বাংলাদেশের অ্যাথলেটরা মার্চে গেমস হবে ধরে নিয়ে অন্তত মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে ফেলেছিলেন। তাঁরাও এখন পড়ে গেছেন অনিশ্চয়তার মধ্যে। দক্ষিণ এশীয় গেমস আয়োজনে এই গড়িমসি অবশ্য নতুন নয়। দুই বছর অন্তর তা মাঠে গড়ানোর কথা থাকলেও সর্বশেষ দুটি আসর হয়েছে ৪ ও ৬ বছরের বিরতি দিয়ে। ত্রয়োদশ আসরের ভাগ্যে কী আছে কে জানে!



মন্তব্য