kalerkantho



জীবন বাঁচাতে অবসরে হেস্টিংস

১৫ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



জীবন বাঁচাতে অবসরে হেস্টিংস

ক্যারিয়ার এক যুগের। অদ্ভুত শারীরিক সমস্যাটা ধরে পড়েছে অবশ্য কিছুদিন আগে। বল করলেই ঝরছে রক্ত। আতঙ্ক নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান অস্ট্রেলিয়ান পেসার জন হেস্টিংস। অবাক সিডনির ডাক্তাররাও। ভারোত্তোলন বা বক্সিং করলে কিছু হয় না অথচ বোলিংয়ের সময় যত বিপত্তি। পরীক্ষা করে দেখা গেল বোলিংয়ের সময় ফুসফুসের রক্তনালি ফেটে রক্ত ঝরে এই পেসারের। এতে কাশির সঙ্গে বেরিয়ে আসত রক্ত। নাক-মুখ দিয়েও মাঝেমধ্যে বের হতো রক্ত। এমন হতে থাকলে মাঠে হতে পারত মৃত্যু। ডাক্তাররা অভয় না দেওয়ায় বাধ্য হয়ে ক্রিকেট থেকে অবসর নিয়ে ফেললেন ৩৩ বছর বয়সী এই পেসার।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ১ টেস্ট, ২৯ ওয়ানডে ও ৯টি টি-টোয়েন্টি খেলেছেন হেস্টিংস। টেস্টে ১, ওয়ানডেতে ৪২ আর টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৭ উইকেট। আইপিএল খেলেছেন কলকাতা নাইট রাইডার্স, কোচি টাস্কার্স আর চেন্নাই সুপার কিংসের হয়ে। বিগব্যাশে মেলবোর্ন স্টার্সের হয়ে খেলেছেন সাত মৌসুম। আগামী মৌসুমের জন্য যোগ দিয়েছিলেন সিডনি সিক্সার্সে। অবসরের সিদ্ধান্ত জানানোর সময় আবেগে গলা ধরে আসছিল তাঁর, ‘অনেক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে দীর্ঘস্থায়ী এই স্বাস্থ্য সমস্যার জন্য। রক্ত ঝরাটা কোনো ক্ষতি করছে কি না অথবা মাঠে নামলে আবারও রক্ত ঝরবে কি না জানি না আমি। ডাক্তাররা কোনো নিশ্চয়তা দিতে পারেনি। অনেকের শঙ্কা আবার মৃত্যু নিয়ে। আমার জন্য মোটেও ভালো ছিল না পরিস্থিতিটা। ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি আমি।’

ফুসফুস থেকে রক্ত ঝরার ব্যাপারটা অনেক আগে টের পেয়েছিলেন হেস্টিংস। চলছিল চিকিৎসাও। উন্নতি না হওয়ায় গত মাসে ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়ান অনির্দিষ্টকালের জন্য। এবার তো আতঙ্ক নিয়ে সরে যেতে হলো খেলাটা থেকেই, ‘খুবই ভয়ের ব্যাপারটা। ভারোত্তোলন বা বক্সিংয়ের সময় কিছু হয় না। শুধু বোলিংয়ে ল্যান্ডিংয়ের সময় ঝরে রক্ত। চাপ পেয়ে ফেটে যায় ফুসফুসের রক্তনালি। আর রক্ত বেরিয়ে আসত কাশির সঙ্গে। এমন আতঙ্ক নিয়ে ক্রিকেট খেলব কিভাবে।’

ক্রিকেট থেকে সরে দাঁড়িয়ে কী করবেন এখন? সংবাদমাধ্যমে নিজেকে জড়ানোর ইচ্ছেটা জানালেন হেস্টিংস, ‘গত চার-পাঁচ মাস খুব খারাপ কেটেছে আমার। চিকিৎসা চলতে থাকবে। আর পেশা হিসেবে আমি বেছে নেব মিডিয়াকে।’ হেস্টিংসের এভাবে সরে দাঁড়ানোয় হতাশা জানালেন অস্ট্রেলিয়ান পেসার পিটার সিডল, ‘এভাবে হেস্টিংসকে অবসর নিতে দেখে খুব খারাপ লাগছে। অবসর জীবন সুখের হোক বন্ধু।’ ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া



মন্তব্য