kalerkantho



অর্থসংকটেই শ্যুটিং পদকহীন

১৪ নভেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ক্রীড়া প্রতিবেদক : এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে পদক জেতার রেওয়াজ ভঙ্গ হয়েছে এবার। কুয়েত থেকে দুই শ্যুটার ফিরেছেন শূন্যহাতে।

এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপের একাদশ আসরে কুয়েতে খেলতে গিয়েছিলেন দুই কৃতী শ্যুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও শাকিল আহমেদ। গত গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে রুপাজয়ী দুই শ্যুটার। সুবাদে এ মুহূর্তে দুজনই দেশের সেরা শ্যুটার। কিন্তু এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপে গিয়ে তারা পারেননি সাফল্যের ধারা বজায় রাখতে। ১০ মিটার এয়ার রাইফেলের ফাইনালে উঠে বাকী ৬২৩.৪ স্কোর করে সপ্তম হয়েছেন। ১০ মিটার এয়ার পিস্তলে শাকিল ৫৬৭ স্কোর করে আছেন ত্রয়োদশ স্থানে। আন্তর্জাতিক আসরে তাঁর স্কোর বাড়লেও তিনি সন্তুষ্ট নন এই স্কোরে, ‘আমি আশা করেছিলাম আরো বেশি হবে। আরো ১০-১৫ স্কোর করা উচিত ছিল। কারণ ট্রেনিংয়ে আমার গড় স্কোর থাকে ৫৮০, কুয়েতে কম্পিটিশনের আগের দিনও আমার ৫৮০-এর ওপরে ছিল স্কোর। অন্তত আর ১০ স্কোর করতে পারলে ফাইনাল খেলতে পারতাম।’ এই ইভেন্টে সোনাজয়ী চীনা শ্যুটারের স্কোর ৫৭৮।

দুই সেরা শ্যুটারকে পাঠিয়েও এশিয়ান এয়ারগানে পদকহীন বাংলাদেশ। ‘আগের কম্পিটিশনগুলোতে আমরা অনেক শ্যুটার অংশ নিতাম, খেলতাম অনেক বেশি ইভেন্টে। যেমন ধরুন, আমাদের দুই ইভেন্টে দলগতে অংশ নিতাম। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে এবার আমাদের ফেডারেশন বড় দল পাঠাতে পারেনি। বড় দল গেলে অবশ্যই পদক আসত’—ফেডারেশনের অর্থসংকটের কথা বলেছেন শাকিল আহমেদ। দল বড় গেলে যে পদক নিশ্চিত হয়, সেটা আগেও দেখা গেছে। ২০১৬ সালে ইরানে অনুষ্ঠিত এশিয়ান এয়ারগান চ্যাম্পিয়নশিপের অর্জন ছিল দুটো রুপা। কোনোটিই সিনিয়র বিভাগে নয়। একটি মেয়েদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল যুব বিভাগের দলগতে, অন্যটি ছেলেদের ১০ মিটার এয়ার রাইফেল জুনিয়র বিভাগে। গতবার জাপানে অর্ণব শারার যুব বিভাগে রুপা জিতে বুয়েনস এইরেসে যুব অলিম্পিকের টিকিট পেয়েছিলেন। এবার অর্থসংকটের কারণে জুনিয়র ও যুব বিভাগের শ্যুটারদের কুয়েতে পাঠাতে পারেনি ফেডারেশন।

এই খেলাটা এমনিতেই অনেক ব্যয়বহুল। নিয়মিত ট্রেনিং ক্যাম্প ও আন্তজার্তিক আসরে নিয়মিত বড় দল পাঠাতে গেলে অর্থের জোর লাগে। গত দুই বছর ছিল সেই জোর, আগামী টোকিও অলিম্পিকে চোখ রেখে তারা শ্যুটারদের তৈরি করেছিল দুই ইউরোপিয়ান কোচের অধীন। সেই কোচদের বিদায় দিয়ে এখন সংকটের মধ্য দিয়েই যাচ্ছে শ্যুটিং। গত মাসে দুর্দান্ত রাইফেল কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেনকে বিদায় করে ব্যয় সংকোচন করেছে ফেডারেশন। কিন্তু ফেডারেশনের মহাসচিব ইন্তেখাবুল হামিদ অপু এভাবে ব্যয় সংকোচনের বিপক্ষে, ‘আন্তর্জাতিক আসরে শ্যুটিংই পারে পদক উপহার দিতে। তাই এই খেলার পেছনে সরকার ও অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের বিনিয়োগ করা উচিত। কোচহীন, ট্রেনিংহীন থাকা এবং আন্তর্জাতিক দল না পাঠিয়ে বসে থাকা তো কোনো কাজের কথা নয়।’



মন্তব্য