kalerkantho


ক্ষোভে চাকরি ছাড়লেন শ্যুটিং কোচ

২৪ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



ক্ষোভে চাকরি ছাড়লেন শ্যুটিং কোচ

ক্রীড়া প্রতিবেদক : আন্তর্জাতিক সাফল্য দিয়ে বিচার করলে ক্রিকেটের পরই থাকবে শ্যুটিং। আর এই শ্যুটিংয়ের সঙ্গ ত্যাগ করেছেন বিশ্বের অন্যতম সেরা রাইফেল কোচ ক্লাভস ক্রিস্টেনসেন। চুক্তি নবায়ন না করে এই ডেনিশ কোচ গত ১৮ তারিখ ফিরে গেছেন নিজের দেশে।

বাংলাদেশ শ্যুটিং স্পোর্ট ফেডারেশনের মহাসচিবও স্বীকার করেছেন কোচের চলে যাওয়ার কথা। ইন্তেখাবুল হামিদ অপু গতকাল বলেছেন, ‘এই কোচের সঙ্গে চার বছরের চুক্তি ছিল, তবে প্রতিবছর চুক্তি নবায়ন করার শর্ত ছিল। গত অক্টোবরে দ্বিতীয় বছর শেষ হওয়ার পর কোচ আর চুক্তি নবায়ন করতে চাননি। তিনি এখন ছুটিতে গেছেন; কিন্তু নানা কারণে আমরাও রাখতে পারছি না তাঁকে।’ ২০১৬ সালের অক্টোবরে এ মহাসচিবই ক্লাভস ক্রিস্টেনসেনকে বাংলাদেশের কোচ করে নিয়ে এসেছিলেন। ডেনিশ কোচকে কেন্দ্র করেই দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা সাজিয়েছিলেন। সেটা ২০২০ অলিম্পিকের পরিকল্পনা। পদক জেতা নয়, বাংলাদেশি শ্যুটারদের টোকিও অলিম্পিকে নিজের যোগ্যতায় খেলানোর স্বপ্ন দেখেছিলেন এই বিদেশি কোচ। এই স্বপ্ন মাটিচাপা দিয়ে দুই বছর শেষে তিনি চাকরি ছেড়ে ফিরে গেছেন নিজের দেশে।

ইন্তেখাবুল হামিদ অপুর চোখে এই ডেনিশ কোচ দুর্দান্ত, তাঁকে হারানোটা দারুণ এক ক্ষতি বাংলাদেশের রাইফেল শ্যুটিংয়ের জন্য। তিনি মনে করেন কোচ হারানোর পেছনে নিজেদেরও দায় আছে, ‘কোচ কিছু কোচিং প্রগ্রাম দিয়েছিলেন, সেগুলো আমরা নানা কারণে পারিনি। তিনি কয়েকটা গ্রুপে ট্রেনিং এবং বিদেশে ভালো টুর্নামেন্টগুলো নিয়মিত খেলার কথা বলতেন। আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোও আসলে ট্রেনিংয়ের অংশ। এগুলো আমরা পারিনি অর্থাভাব এবং কমিটির অন্যদের মতামতের ভিন্নতার কারণে। কিন্তু এটা স্বীকার করতে হবে, তাঁর মতো একজন কোচ আমরা চাইলেই পাব না।’

ডেনিশ রাইফেল কোচও যেন খুব অপমানিত হয়েছেন এখানে কাজ করতে গিয়ে। “এ বছর দু’বার আমাদের জুনিয়র ওয়ার্ল্ড কাপ শ্যুটিংয়ে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফেডারেশন সভাপতি দুটোতেই অংশগ্রহণ বাতিল করেছেন শেষ মুহূর্তে। অথচ যুব অলিম্পিকে যাওয়ার আগে এই দুটো আসরে অংশগ্রহণ খুব গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটা আমার জন্য খুব অপমানজনক এবং আমার তরুণ শ্যুটারদের প্রতিও খুব অন্যায় করা হয়েছে”, গতকাল ফোনে নিজের অন্তর্জ্বালার কথা বলেছেন ক্লাভস। কোচের এই অপমানে ফেডারেশন মহাসচিবের আক্ষেপ, ‘তাঁর কাছে টাকার চেয়ে বড় হলো সম্মান। আন্তর্জাতিক শ্যুটিং ফেডারেশনের ওয়েবসাইটে গেলে দেখবেন এই কোচের অবস্থান ৫ নম্বরে। অনেক ভালো মানের কোচের অধীনই ছিল আমাদের শ্যুটাররা। তার প্রেসক্রিপশন না মেনে শুধু রেজাল্ট চাইলে তো হবে না।’

এই ডেনিশ রাইফেল কোচের অধীন বাংলাদেশ দারুণ কিছু সাফল্যও পেয়েছে। ২০১৬ সালে দায়িত্ব নেওয়ার পর বছরের শেষভাগে এশিয়ান এয়ার গানে জুনিয়র বিভাগে রাব্বি-রিসালাত-রবিউল ও ইয়ুথ বিভাগে দিশা-জুঁই-শারমিন জুটি জেতে রুপা। পরের বছর ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে এই ১০ মিটার এয়ার রাইফেল ইভেন্টে আসে একটি সোনা ও একটি রুপা। সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে ২০১৭ সালের এয়ার গান চ্যাম্পিয়নশিপে অর্ণব শারারের রুপা জয়, যে পদক প্রথম কোনো বাংলাদেশি অ্যাথলেটের দুয়ার খুলে দিয়েছে যুব অলিম্পিকে। তারপর এ বছর দুটো গোল্ডকোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে আবদুল্লাহ হেল বাকী রুপা উপহার দিয়েছেন ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে।

এমন সাফল্যের পর তাঁকে ছাড়তে কষ্টই হয়েছে ইন্তেখাবুল হামিদ অপুর। মহাসচিব একটা বাজেট দিয়েছেন বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের কাছে। সেই বাজেট অনুযায়ী অর্থ বরাদ্দ পেলে আগামী বছর ৫টি আন্তর্জাতিক শ্যুটিং কম্পিটিশনে দল পাঠাতে পারবেন। একই সঙ্গে অলিম্পিক গেমসে কোটা প্লেস (সারাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন) পাওয়ার লক্ষ্যেও অবিচল থাকবে শ্যুটিং। তখন কোচকে সিদ্ধান্ত বদলের অনুরোধ জানাবেন অপু। কিন্তু ক্রিস্টেনসেন অদূর ভবিষ্যতের সে সম্ভাবনাও নাকোচ করে দিয়েছেন, ‘চাকরি ছাড়া খুব সহজ সিদ্ধান্ত নয়। মহাসচিবের সঙ্গে অনেক আলাপের পর এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছি। এটাই আমার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।’



মন্তব্য