kalerkantho


অন্যদের জন্য বড় সুযোগও

সামীউর রহমান   

১৯ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০



অন্যদের জন্য বড় সুযোগও

আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি ব্যাপারটা (সাকিব-তামিমের না থাকা)। আমি মনে করি এটা অন্যদের জন্য একটা সুযোগ। তারা যদি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে, তাতে বোঝা যাবে যে আমাদের দলের রিজার্ভ বেঞ্চটাও অনেক শক্ত। জায়গা নিয়ে যদি লড়াই থাকে, তাহলে ছেলেরা সব সময় সেটা পাওয়ার জন্য লড়াই করবে, যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্টিভ রোডস

স্টিভ রোডস বাংলাদেশের ক্রিকেটে হটসিটে বসেছিলেন জুন মাসের শুরুতে। অসহ্য গরমের মৌসুম শেষে হালকা শীত পড়তে শুরু করলেও রোডস এখনো ঘরের মাঠে একটি সিরিজেও দেখেননি বাংলাদেশ দলকে। যদিও এরই মাঝে ওয়েস্ট ইন্ডিজ-মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সফর ও এশিয়া কাপ—দুটি আয়োজনে দেখে ফেলেছেন শিষ্যদের। দেশের মাটিতে প্রথম সিরিজে তাঁর সামনে সম্ভাব্য দুর্বলতম প্রতিপক্ষ। এটা যদি মুদ্রার একটা পিঠ হয়, অন্যপিঠটা হচ্ছে বাংলাদেশ দলে নেই সেরা দুই ক্রিকেটার, দুই ম্যাচ উইনার। টানা চার দিন অনুশীলনের পর বিশ্রামের দিনটির আগে রোডস জানিয়ে গেলেন, সাকিব আল হাসান আর তামিম ইকবালের অনুপস্থিতি আসলে অন্যদের জন্য সুযোগ। যে সুযোগটা কাজে লাগাতে পারলে মিলতে পারে দীর্ঘ মেয়াদে দলে থাকার নিশ্চয়তাও।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ‘শিশুকাল’ পেরোয়নি এমন অনেকেই আছেন জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সিরিজের ওয়ানডে দলে। নাজমুল হোসেন শান্ত, আরিফুল হক, মোহাম্মদ মিথুন, সাইফ উদ্দিন...তালিকাটা আরো লম্বা হবে। পাঁচটি ওয়ানডে ম্যাচও খেলেননি, এমন ক্রিকেটারের সংখ্যা দলে পাঁচজনেরও বেশি। অন্যদিকে জিম্বাবুয়ে ফিরে পেয়েছে শন উইলিয়ামস, ক্রেইগ আরভিনের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটারদের। এখানেই নতুনদের সামনে সুযোগ দেখছেন কোচ রোডস, ‘আমি ইতিবাচকভাবেই দেখছি ব্যাপারটা (সাকিব-তামিমের না থাকা)। আমি মনে করি এটা অন্যদের জন্য একটা সুযোগ। তারা যদি এই সুযোগটা কাজে লাগাতে পারে, তাতে বোঝা যাবে যে আমাদের দলের রিজার্ভ বেঞ্চটাও অনেক শক্ত। জায়গা নিয়ে যদি লড়াই থাকে, তাহলে ছেলেরা সব সময় সেটা পাওয়ার জন্য লড়াই করবে, যেটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটা খুবই ভালো একটা লক্ষণ। আমরা চাই দলের বেঞ্চটাও শক্তিশালী হোক।’

রোডসের পূর্বসূরি চন্দিকা হাতুরাসিংহের সময়ে সৌম্য সরকার ও মমিনুল হকের ভাগ্য ছিল বিপ্রতীপ। প্রতিভাবান তাই কোচের আস্থাভাজন হয়ে ব্যাটে রান না থাকলেও সৌম্য সুযোগ পেয়ে গেছেন একের পর এক। অন্যদিকে মমিনুলকে বিচিত্র সব কারণ দেখিয়ে বাদ দিয়েছেন, দলে নিলেও একাদশে সুযোগ দেননি বা দিয়েছেন অনভ্যস্ত জায়গায়। এখন সৌম্য আর মমিনুল আপাতত একই সমতলে, ওয়ানডে দলের বাইরে। তাঁদের নিয়ে রোডসের বক্তব্য, ‘কেউ যখন দল থেকে বাদ পড়ে, তখন তারা খুব একা হয়ে পড়ে, মুষড়ে পড়ে, হতাশায় ভোগে। সৌম্য-মমিনুল মানের ক্রিকেটাদের কাছ থেকে আমরা এটা আশা করি না। তারা জাতীয় দলে ফেরার জন্য জোর লড়াই চালিয়ে যেতে পারে। মোসাদ্দেকও জায়গা হারিয়েছে। আমি অনুশীলন ম্যাচটি দেখব। সৌম্য জাতীয় লিগে দুটি সত্তর রানের ইনিংস খেলেছে, বল হাতে নিয়েছে ৫ উইকেট। দারুণ সময়োপযোগী পারফরম্যান্স। তার সঙ্গে আমার যোগাযোগ আছে, ও এমন একজন ক্রিকেটার যে বেশ কয়েকজনকে পেছনে ফেলতে পারে। কিন্তু তাদের টানা পারফরম করতে হবে আর প্রার্থনা করতে হবে যারা মূল দলে আছে তারা যেন পারফরম না করে। তাহলেই তাদের সুযোগ হবে।’

তামিম ফিরলে না হয় উদ্বোধনী জুটি নিয়ে সমস্যাটা কেটে যাবে, কিন্তু সাত নম্বরে একজন দ্রুত রান তোলার সামর্থ্যের ব্যাটসম্যানের যে খুব দরকার! দলের ভেতর থেকে বেশ কয়েকবার সাব্বির রহমানের নামও নাকি এসেছে, অনুচ্চ প্রস্তাবও আছে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ কমিয়ে তাঁকে ফেরানোর। রোডসও মনে করেন, সাতে একজন ব্যাটসম্যানের গুরুত্ব, ‘একজনের পর একজন ব্যাটসম্যান থাকাটা মানসিকভাবে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ভালো দলে এমনটাই থাকা দরকার। ইংল্যান্ড দলে তো ৯, ১০ পর্যন্তও ব্যাটসম্যান। এমনটা থাকার মানে হচ্ছে এই দল রান তাড়াতেও ভালো।’ এই জায়গাটায় আরিফুল হকের নামটা আসছে বেশ জোরেশোরেই। জাতীয় লিগে ডাবল সেঞ্চুরি করে আসা আরিফুলকে বাজিয়ে দেখতে আগ্রহী কোচও, ‘আরিফুল, সৌম্য, সাইফ উদ্দিন; সবাই একই ধরনের খেলোয়াড়। আরিফুলকে আমরা অবশ্যই পরখ করে দেখতে চাইব। আমরা যদি এখন তাকে বাজিয়ে না দেখি, তাহলে কী করে বুঝব সে ভালো না মন্দ!’

বেশ একটা লম্বা সময় ধরেই গণমাধ্যমে বাংলাদেশ দলকে দুটি ভাগে ভাগ করার প্রবণতা। একদিকে সিনিয়র, অন্যদিকে জুনিয়র। সাকিব-তামিম-মাশরাফি-মুশফিক-মাহমুদ উল্লাহর পঞ্চপাণ্ডবের সঙ্গে রুবেল হোসেন, ইমরুল কায়েসদের নিয়ে সিনিয়র ব্লক। অন্যদিকে সৌম্য, মিথুন, লিটন, মুস্তাফিজরা; যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ যথেষ্ট সুযোগ পেয়েও পারফরম করতে না পারার, ক্রিকেট মাঠের চেয়ে অন্তর্জালের জগতেই বেশি মনোযোগী হওয়ার। অস্ট্রেলিয়া বা ভারতের মতো রোটেশন সংস্কৃতি নেই বাংলাদেশে, তাই সাকিব আর তামিমের চোট দৈবক্রমেই একটা সুযোগের দরজা খুলে দিয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের সামনে। কোচও মনে করেন, এটাই বড় সুযোগ, অন্দরমহলে থিতু হওয়ার। নইলে যে ঠিকানা হবে দরজার ওপাশে। উদাহরণ তো রোডস দিয়েই দিয়েছেন!



মন্তব্য