kalerkantho


লাওসকেই লক্ষ্য বানিয়েছে বাংলাদেশ

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তিন দলের গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ লাওস ছাড়াও ফিলিপাইন। ১১৪ র‌্যাংকিংধারী ফিলিপাইনের বিপক্ষে জয়ের কথা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। সেই প্রত্যয় নেওয়াই যায় ১৭৯ নম্বর দল লাওসের বিপক্ষে। তা ছাড়া তাদের বিপক্ষে ভালো করার অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। ভুটান বিপর্যয়ের দুই বছর পর লাল-সবুজ আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরে লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই। মার্চের সে ম্যাচে অ্যান্ড্রু ওর্ডের দল ২-০ পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র নিয়ে ফিরেছিল লাওসের মাঠ থেকে।

ক্রীড়া প্রতিবেদক : নতুন টুর্নামেন্ট, নতুন সমীকরণ। সাফে ৬ পয়েন্ট নিয়ে দর্শক হয়ে যেতে হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে এক জয়েই খুলে যেতে পারে সেমিফাইনালের দুয়ার। সেই সম্ভাবনা মাথায় রেখে বাংলাদেশ লাওসকেই শিকার বানানোর পরিকল্পনা আঁটছে।

তিন দলের গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ লাওস ছাড়াও ফিলিপাইন। ১১৪ র‌্যাংকিংধারী ফিলিপাইনের বিপক্ষে জয়ের কথা আগেভাগে বলা সম্ভব নয়। সেই প্রত্যয় নেওয়াই যায় ১৭৯ নম্বর দল লাওসের বিপক্ষে। তা ছাড়া তাদের বিপক্ষে ভালো করার অভিজ্ঞতাও আছে বাংলাদেশের। ভুটান বিপর্যয়ের দুই বছর পর লাল-সবুজ আন্তর্জাতিক ফুটবলে ফেরে লাওসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই। মার্চের সে ম্যাচে অ্যান্ড্রু ওর্ডের দল ২-০ পিছিয়ে পড়েও ২-২ গোলে ড্র নিয়ে ফিরেছিল লাওসের মাঠ থেকে। দলটি বাংলাদেশের বিপক্ষে ওই ম্যাচের পর মাস ছয়েক আর কোনো ম্যাচই খেলেনি। এ মাসেই প্রথম মাঠে নামে তারা আরব আমিরাতের বিপক্ষে। ফ্রেঞ্চ কোচ প্যাট্রিস নেভ্যুর অধীনে ৩-০তে হেরেছে তারা সেই ম্যাচ। সাফের পর ছুটি কাটিয়ে ফিরে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের নতুন মিশনে নেমেই জেমি ডে বলেছেন, ‘গ্রুপ পর্ব পেরোনোই বাংলাদেশের প্রথম লক্ষ্য। এর জন্য দুই ম্যাচের একটিতে আমাদের জিততেই হবে।’

প্রতিপক্ষ দুটির শক্তিমত্তা বিচারে তাতে সহজেই আন্দাজ করা যায়, সেই এক জয়ের লক্ষ্য কারা। দলের ডিফেন্ডার তপু বর্মণ তা খুলেই বলেছেন, ‘লাওস শক্তির বিচারে আমাদের শুধু কাছাকাছি না। ওদের বিপক্ষে মার্চে খেলার সুবাদে দলটাকে আমরা বেশ ভালোভাবে জানিও। মার্চের সেই প্রীতি ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে বলতে পারি, ওদের হারানো খুবই সম্ভব। যেমন গ্রুপিং হয়েছে তাতে এই ম্যাচটি জিতেই আমরা সেমির পথে অনেকটা এগিয়ে যেতে পারি।’

শুধু লাওসের বিপক্ষে জয়ে সেমি নিশ্চিতও হয়ে যেতে পারে। যদি তারা পরের ম্যাচে হারে ফিলিপাইনের কাছে। সে সম্ভাবনা ভালোভাবেই রয়েছে। তবে বাংলাদেশ শুধু এক জয়ের কথাই ভাবছে না। শক্তিশালী ফিলিপাইনের কাছ থেকেও পয়েন্ট নেওয়ার আশা ছাড়ছেন না তপু, ‘লাওসের বিপক্ষে জয় ছাড়া আমাদের কোনো বিকল্প নেই। সেভাবেই মাঠে নামব। সেই লক্ষ্য পূরণ হলে আরো গুরুত্ব দিয়ে খেলব আমরা ফিলিপাইনের বিপক্ষে ম্যাচটি। ওদের আমরা সহজে ছেড়ে দেব না। কিছু না কিছু চাই এই ম্যাচ থেকেও।’ এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশ তা দেখিয়েছে। র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা দলকে কিভাবে রুখে দিতে হয়, তাদের কাছ থেকে কিভাবে জয় ছিনিয়ে নিতে হয়, জেমি ডের দলের সেই অভিজ্ঞতা আছে। তপুর আত্মবিশ্বাস যে সেখান থেকেই, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

তবে আগস্টে এশিয়ান গেমস খেলেই সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে সাফ, সেটা শেষ করে দিন পনেরোর মধ্যেই আরেকটি বড় টুর্নামেন্ট খেলাটাও চ্যালেঞ্জের এই ফুটবলারদের মধ্যে। ২০১৬-র অক্টোবরে ভুটান বিপর্যয়ের পর জাতীয় দল বসে কাটিয়েছে দুই বছর। এ বছরের এই শেষভাগে তাদের যেন দম ফেলবার ফুরসত নেই। দুই মাস সময়ের মধ্যে তিনটি আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে তাদের মাঠে নামতে হচ্ছে। শারীরিক মানসিকভাবে খেলোয়াড়দের নতুনভাবে উজ্জীবিত হওয়াটাও বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সাফের গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়ার জেদটা এখনো রয়ে গেছে খেলোয়াড়দের মধ্যে। সেই টুর্নামেন্টটা যেন অপূর্ণই রয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকদের কাছে। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে মিশনটা পূর্ণ করার প্রত্যয় স্ট্রাইকার মাহবুবুর রহমানের কথায়। এমনি এমনিই তিনি ভালো কিছুর স্বপ্ন দেখছেন না। গত দুটি টুর্নামেন্টের সঞ্চিত অভিজ্ঞতা এই আসরে কাজে লাগবে বলেও তাঁর বিশ্বাস, ‘সাফের পর আমরা বাড়িতে যে কয়দিন ছুটি কাটিয়েছি। তাতে আমাদের রিকভারিটা হয়ে গেছে। কিভাবে ছুটিটা কাটাব তারও একটা নির্দেশনা দেওয়া ছিল। সেভাবেই আমরা সময়টা পার করেছি। এই মুহূর্তে ক্যাম্পে যারা আছে সবারই ফিটনেস দেখে কোচ খুশি। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে পারফরম করাটা তাই সমস্যা হবে না আশা করি। আর সাফের অভিজ্ঞতা এবং তার আগে এশিয়ান গেমসে ভালো খেলা এই টুর্নামেন্টে আমাদের আরো ভালো কিছু করতে সাহস জোগাচ্ছে। সেমিফাইনালে জায়গা করে নেওয়াটা কঠিন হবে না বলেই তাই আমার মনে হয়।’

সাফটা অবশ্য শেষ হয়েছে গোলরক্ষক শহীদুল আলমের হাস্যকর এক ভুল এবং গোল করতে না পারার ব্যর্থতায়। বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে সেই শহীদুল নেই, গোলের মানুষও একজন যোগ হয়েছে তৌহিদুল আলম। গত প্রিমিয়ার লিগে স্থানীয়দের মধ্যে সবচেয়ে বেশি গোল করা তৌহিদুল বসুন্ধরা কিংসের হয়ে মালদ্বীপের নিউ রেডিয়েন্ট এফসির বিপক্ষেও অসাধারণ এক গোল করে তাঁর ফর্মের ইঙ্গিত দিয়েছেন। সাফে স্ট্রাইকার হিসেবে খেলা মাহবুবুর রহমানও স্বাগত জানাচ্ছেন তৌহিদুলকে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের দলে। কিংসের হয়েই রেডিয়েন্টের বিপক্ষে ম্যাচে কোস্টারিকান ডেনিয়েল কলিনড্রেসের সঙ্গে চমৎকার লিংকআপ করে আবার নজর কেড়েছেন উইঙ্গার ইব্রাহিম। নিশ্চিত বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের জন্যও কোচের জন্য তিনি হতে পারেন দারুণ বিকল্প। লাওসকে হারিয়ে সেমিতে পা রাখার স্বপ্নও জোরালো হচ্ছে সে কারণে।



মন্তব্য