kalerkantho



এবার কি নতুন কেউ?

২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এবার কি নতুন কেউ?

২০১০ সালটাই ব্যতিক্রম শুধু। সেবার সেরা তিনে ছিলেন না পর্তুগিজ ফুটবল সম্রাট। সর্বশেষ দশকে বাকি ৯ বারই বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের মঞ্চে দুটি নাম অবধারিত—ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। তৃতীয় আরেকজন থাকতেন বটে, তবে তা যেন স্রেফ আনুষ্ঠানিকতার জন্যই। শ্রেষ্ঠত্বের ফয়সালা তো বরাবরই ওই দুই মহাতারকার মধ্যে।

সে তুলনায় আজকের ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ পুরস্কারের মঞ্চ কতটাই না আলাদা! সেরা তিনে মেসির না থাকাটা সবচেয়ে বড় ব্যতিক্রম অবশ্যই। আবার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীর অনুপস্থিতিতে রোনালদোর বিজয়ের নিশ্চয়তা দেওয়ার উপায়ও নেই। লিভারপুলের হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটানো মো সালাহ হয়তো পারবেন না, তবে রোনালদোকে জোর চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে থাকছেন লুকা মডরিচ। এমনকি গ্রহের সেরা ফুটবলারের মুকুট জয়ে পাঁচবারের বিজয়ীকে ছাপিয়ে ওই ক্রোয়াটকেই ধরা হচ্ছে ফেভারিট।

কী দ্রুতই না পরিস্থিতি পাল্টে গেল! গেল মে মাসে কিয়েভের অলিম্পিক স্টেডিয়ামে যখন টানা তৃতীয় চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল রিয়াল মাদ্রিদ, ব্যক্তিগত শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফিটাও রোনালদোর তাতে হয়ে যায় বলে ধারণা ছিল প্রায় সর্বজনে। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী মেসির দল যে ছিটকে গেছে কোয়ার্টার ফাইনালে! বিশ্বকাপের চোখ ধাঁধানো পারফরম্যান্সে সে সমীকরণ বদলে যেতে পারত। কিন্তু রাশিয়াতেও যে বেশি আলো ছড়ালেন রোনালদো। আর্জেন্টিনা ও পর্তুগাল দুই দলই বাদ হয়ে গেছে দ্বিতীয় রাউন্ডে। কিন্তু মেসির এক গোলের বিপরীতে রোনালদোর চার গোল; যার মধ্যে স্পেনের বিপক্ষে অবিস্মরণীয় হ্যাটট্রিক। ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ হতে আর কী চাই!

প্রতিদ্বন্দ্বীর সেই মঞ্চে এরপরই ঝড়ের মতো প্রবেশ মডরিচের। রিয়ালের চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ে মাঝমাঠে তাঁর ভূমিকা অনস্বীকার্য। কিন্তু ১৫ গোল ও তিন অ্যাসিস্টের রোনালদোর পাশে একটি করে গোল-অ্যাসিস্টের মডরিচ কতই না বিবর্ণ! ওই সময় তাঁর বিশ্বসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার জয়ের সম্ভাবনা দেখেননি কেউ। কিন্তু বিশ্বকাপে ক্রোয়েশিয়াকে ফাইনালে তোলার পথে বড় ভূমিকা রেখে পাল্টে দেন সব হিসাব। বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড়ের ‘গোল্ডেন বল’ জেতেন। কিছুদিন পর ইউরোপসেরা খেলোয়াড়ের স্বীকৃতিও। আজ লন্ডনের রয়্যাল ফেস্টিভাল হলে রোনালদোর টপকে ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ জেতায় বাজির পাল্লা হেলে তাই মডরিচের দিকেই।

এই পুরস্কারে ভোট নেওয়া হয়েছে চার বিভাগে। ফিফার অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর কোচ, অধিনায়ক, মনোনীত সাংবাদিক এবং সমর্থক— ভোটে তাঁদের অবদান সমান ২৫ শতাংশ করে। এ চারের যোগফলেই সাফল্যের হাসিতে ভাসবেন রোনালদো, মডরিচ, সালাহর মধ্যে কেউ। ইউরোপসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারটি পাচ্ছেন না জেনে রাগে-ক্রোধে ওই অনুষ্ঠানে যাননি রোনালদো। অমন কোনো খবর আগাম পেয়ে গেলে আজ তাঁর লন্ডনে থাকা নিয়েও সংশয়। ওদিকে মেসি অনুষ্ঠানে যাচ্ছেন বলেই খবর। সেরা তিনে না থাকলেও বিশ্বসেরা একাদশে থাকার সৌজন্যে। এতে অনুষ্ঠানে থাকার পরোক্ষ চাপ কি রয়েছে রোনালদোর ওপর?

আর ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ জেতায় মডরিচের দিক থেকে প্রত্যক্ষ চাপ তো রয়েছেই! এএফপি



মন্তব্য