kalerkantho


চেপে বসেছে ডট বলের সমস্যাও

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



চেপে বসেছে ডট বলের সমস্যাও

দুবাই থেকে প্রতিনিধি : দল জিততে থাকলে ছোটখাটো ভুলত্রুটিও আড়ালে হারিয়ে যায়। কিন্তু হারতে শুরু করলেই যেন নিত্যনতুন হাজারটা সমস্যা সামনে এসে ভিড় বাড়াতে থাকে। যেমন এশিয়া কাপে আফগানিস্তান ও ভারতের কাছে টানা দুই হারের পরও এমন কত সমস্যায় জর্জর বাংলাদেশ!

 

ম্যানেজার খালেদ মাহমুদ বের করলেন তেমনই আরেক সমস্যা, ‘আমরা তো ভেবেছিলাম, রশিদ খান সমস্যা করবে। এখন তো দেখছি আফতাব আলমও আমাদের জন্য ফ্যাক্টর হয়ে উঠছে।’ গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে এই আফগান ডানহাতি পেসার বেশ ভুগিয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের। ৫ ওভার বোলিং করে মাত্র ১১ রান খরচায় ওপেনার লিটন দাশকে তুলে নেওয়া আফতাব নতুন সমস্যা হিসেবে দেখা দেওয়ার পর যথারীতি রশিদও তাঁর লেগস্পিন দিয়ে পুরনো আতঙ্কই ফিরিয়ে এনেছেন বাংলাদেশ শিবিরে।

অথচ তাঁরা যে দুর্বোধ্য নন, সেটি আবুধাবিতে হওয়া সুপার ফোরের ম্যাচ দিয়েই বোঝাতে চাইলেন মাহমুদ, ‘দেখেছেন নিশ্চয়ই, পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা কী মারটাই না মেরেছে আফতাবকে (৯.৩ ওভারে ৬৪ রান)। রশিদের বলেও ওরা রান করেছে।’ বাংলাদেশ ম্যাচে ৯ ওভারে মাত্র ১৩ রান দেওয়া রশিদের পাকিস্তানের বিপক্ষে খরচ হয়েছে ৪৬ রান। পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানরা এই লেগিকে উইকেটও দিয়েছেন, আবার রান তোলার চেষ্টায় সফলও হয়েছেন। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১০ ওভারে মাত্র ২৪ রান দিয়ে ১ উইকেট নেওয়া অফস্পিনার মোহাম্মদ নবীরও সুপার ফোরের পাকিস্তান ম্যাচে হয়েছে ভিন্ন অভিজ্ঞতা। ৫০ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

অন্যরা যেখানে স্ট্রাইক রোটেট করে সিঙ্গেল ও ডাবলের ওপর খেলে রানের চাকা সচল রাখছেন, সেখানে এই এশিয়া কাপের বাংলাদেশ ব্যতিক্রমই। ব্যতিক্রম বলেই আজ আবারও আফগানিস্তানের মুখোমুখি হওয়ার আগে নতুন আরেক সমস্যা এসে জমিয়ে বসেছে। যে সমস্যার সমাধান নিজেদের হাতেই, কিন্তু আগের দুই ম্যাচের ব্যাটিং ঠিক সে ভরসা দিতে পারছে না। আফগানিস্তান ম্যাচে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা সর্বমোট ডট বল দিয়েছেন ১৭১টি। সুপার ফোরের ভারত ম্যাচে এই সমস্যা আরো গভীরও হয়েছে। এবার ডট বলের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১৯০টি।

বাংলাদেশ দলের দৃষ্টিতে তুলনামূলক বেশি বৈচিত্র্যপূর্ণ বোলিং আক্রমণ আফগানদেরই। আজ আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে আবার তাদের মুখোমুখি হওয়ার আগে সে সমস্যার সমাধানও জরুরি হয়ে পড়েছে খুব। জীবন-মরণ ম্যাচে নতুন আর পুরনো সমস্যার ঘূর্ণাবর্তে পড়ে থাকলে বিদায় হয়ে যাবে এশিয়া কাপ থেকেই। নতুন সমস্যা যদি হয় ডট বল দেওয়া, তাহলে পুরনো সমস্যা রশিদের গুগলি বুঝতেই না পারা। গত জুনে ভারতের দেরাদুনে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজজুড়ে রশিদের গুগলিতে নাজেহাল হওয়া একাধিক ব্যাটসম্যান উইকেটও দিয়েছেন। এবার সেই রহস্যের কূল-কিনারা করে ফেলার প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন নেই।

আবুধাবিতে এক মাহমুদ উল্লাহই রীতিমতো খাবি খেয়েছেন রশিদের গুগলিতে। দুইবার বুঝতে ভুল করে আউট হতে হতেও হননি। তবে যে গুগলিটা বুঝেছিলেন, সেই বলেই তিনি আউট। বল যতটা ভেতরে ঢুকবে ভেবে মাহমুদ ব্যাট পেতে দিয়েছিলেন, ততটা ঢোকেনি। তাই বল তাঁর ব্যাটের পাশ ঘেঁষে আঘাত হানে অফস্টাম্পে। অথচ বাংলাদেশের সামনে আগের মতোই কার্যকারিতা নিয়ে হাজিরা দেওয়া রশিদকে এবার ভালোভাবে সামলে দেওয়ার নানা ছকের কথাই শোনা যাচ্ছিল গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচের আগে থেকে।

মেহেদী হাসান মিরাজকে বলতে শোনা গিয়েছিল, ‘টি-টোয়েন্টির সঙ্গে ওয়ানডের পার্থক্য আছে। ওয়ানডে ৫০ ওভারের খেলা। সিঙ্গেল নিয়ে, স্ট্রাইক বদলে খেলার সুযোগ থাকে। ওইরকম তাড়াহুড়া করা লাগে না।’ হেড কোচ স্টিভ রোডসও ওয়ানডেতে টি-টোয়েন্টির মতো ছক্কার চাহিদা নেই বলে এবার আফগান স্পিনারদের ওপর নিজের শিষ্যদের চড়ে বসার আশাবাদের কথা বলেছিলেন। কিন্তু আগের ম্যাচে সেই আশার সমাধি হয়েছে বলে এবার নতুন আশায় বসতি গাড়ার আগে নতুন সমস্যা। সঙ্গে আছে পুরনো সমস্যা রশিদের বোলিং চাতুরীতে চোখে অন্ধকার দেখাও।

আজ রশিদকেও পাল্টা অন্ধকার দেখাতে ব্যাটসম্যানদের নিজ নিজ পরিকল্পনার ওপরই জোর বেশি দিলেন সাকিব আল হাসান, ‘আমি যেভাবে রশিদ খানকে সামলাব, অন্য কারো হয়তো ভিন্ন কোনো ফর্মুলা থাকবে। আশা করব ব্যাটসম্যানরা যার যার জায়গা থেকে নিজের মতো করে রশিদকে সামলানোর পরিকল্পনা করবে।’

শুধু রশিদকে নিয়েই করলে হবে না, করতে হবে আফতাব আলমকে নিয়েও। সেই সঙ্গে কমাতে হবে ডট বলের সংখ্যাও!



মন্তব্য