kalerkantho



ভিনগ্রহে নয়

মরুর দেশে

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



আবুধাবি থেকে প্রতিনিধি : প্রয়াত ক্রিকেট লেখক ট্রেভর চেস্টারফিল্ডের কথাটা এখনো কানে বাজে। ২০১১ বিশ্বকাপের ম্যাচ কাভার করতে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিকরা একে একে হাম্বানতোতা স্টেডিয়ামের প্রেসবক্সে ঢুকছিলেন আর তিনি প্রত্যেককেই স্বাগত জানাচ্ছিলেন এই বলে, ‘ওয়েলকাম টু দ্য ইন দ্য মিডল অব নো হোয়্যার।’

সময়ে যোগাযোগব্যবস্থার উন্নতি হলেও ওই সময় হাম্বানতোতা আসলেই ছিল প্রত্যন্তের এলাকা। সেখানে নির্ধারিত ম্যাচ খেলতে দলগুলোকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল হেলিকপ্টারে করে। স্টেডিয়ামের আশপাশে ছিল না কোনো লোকালয়ও। থাকার কথাও নয়। কারণ জঙ্গল কেটে সাফ করেই বের করা হয়েছিল স্টেডিয়াম নির্মাণের জায়গা। চারপাশটা জঙ্গলঘেরা হওয়ায় প্রায়ই সেখানে বুনো হাতির দলের হানা দেওয়ার ঘটনা এত বছর পরও মাঝেমধ্যেই সংবাদ শিরোনাম হয়।

আবুধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পা রাখা মাত্রই কাল মনে হতে থাকল যে হাম্বানতোতার মতোই কোনো এক জায়গায় চলে এলাম কি না। পার্থক্য বলতে হাম্বানতোতার স্টেডিয়াম ঘিরে রেখেছে জঙ্গল আর এখানে ধূসর মরুভূমি। দুবাইয়ের মতো অত আলো ঝলমলে শহর না হলেও আবুধাবিও খুব একটা পিছিয়ে নেই বলে জানা। কিন্তু স্টেডিয়াম থেকে সেই শহরের ছিটেফোঁটাও বোঝার উপায় নেই। কারণ এটিও তো লোকালয় থেকে দূরে।

নির্দিষ্ট করে বললে আবুধাবি সিটি সেন্টার থেকে ৩০ কিলোমিটার দূরে রুক্ষ মরুভূমিতে গড়ে ওঠা এই স্টেডিয়াম অবশ্য নান্দনিকতায় পৃথিবীর যেকোনো স্টেডিয়ামের সঙ্গেই পাল্লা দিতে পারে। যা দৃষ্টিসীমায় আসামাত্রই যে কাউকে আকৃষ্ট করতেও বাধ্য। এক নিমেষেই চোখ চলে যায় এর ভিআইপি স্ট্যান্ডের ছাদে। যেটিকে দেওয়া হয়েছে ইউএফও-র (আন-আইডেন্টিফায়েড ফ্লাইং অবজেক্ট) আকার। অর্থাৎ কল্পনায় ভিনগ্রহের উড়াল যানকে যেভাবে চিত্রিত করা হয়, ঠিক সেভাবেই সেজেছে শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামের ছাদ।

এখানে আসার আগ পর্যন্ত যেটি বাংলাদেশ দলের কাছেও এক অচেনা ভিনগ্রহই ছিল। এখানে বেশি ম্যাচ খেলতে হলে এই গরমের মধ্যে প্রাণশক্তি শুষে নেওয়া খেলার আগে-পরে দুবাই থেকে আসা-যাওয়ার ক্লান্তির ধকলের কথাও কম ভাবাচ্ছিল না বাংলাদেশ শিবিরকে। তবে আফগানিস্তান ম্যাচ খেলতে আবুধাবিতে যাওয়া-আসায় সেই চিন্তাও অনেকটাই উবে যাওয়ার কথা। কারণ দুবাই থেকে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের নিয়ে আসা শাটল বাস যাত্রা শুরুর ৭০ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে গেল শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে।

এক হিসাবে খুব বেশিও নয়। দুবাই থেকে চওড়া মহাসড়ক ধরে ছুটতে থাকা বাসের চালককে কোথাও তেমন ব্রেকও করতে হলো না, অ্যাকসেলারেটর চেপেই বসে থাকলেন তিনি। ভারত এশিয়া কাপের কোনো ম্যাচ আবুধাবিতে খেলতে না চাইলেও পাকিস্তানের ‘হোম’ সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম এই ভেন্যুতে এসে খেলে যাওয়া অন্য কোনো দলকেও তাই কখনো উচ্চবাচ্য করতে শোনা যায়নি সম্ভবত এ কারণেই। যাত্রার পথের ধকল নেই যে!

২০০৪ সালের মে মাসে উন্মুক্ত হওয়া এই স্টেডিয়ামের টেস্ট অভিষেক আরো ছয় বছর পরে। ২০১০ সালের নভেম্বরে পাকিস্তান-দক্ষিণ আফ্রিকার সেই টেস্ট স্মরণীয় হয়ে আছে এবি ডি ভিলিয়ার্সের ব্যাটে অপরাজিত ২৭৮ রানের ইনিংসের জন্য। এখন পর্যন্ত সেটিই এই মাঠের সর্বোচ্চ টেস্ট ইনিংস হয়ে আছে। আড়াই শ পেরোনো ইনিংস আছে সদ্য অবসরে যাওয়া ইংলিশ ব্যাটসম্যান অ্যালিস্টার কুকেরও। ডাবল সেঞ্চুরি আছে আরো পাঁচজনের, যাঁদের মধ্যে অন্যতম এই এশিয়া কাপের অন্যতম ধারাভাষ্যকার কুমার সাঙ্গাকারারও।

যাঁর নিজের দেশের হাম্বানতোতায় যাওয়ার ঝক্কি যতটা, শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে পৌঁছানোর ক্ষেত্রে ব্যাপারটি এর ধারেকাছেও নয়। তাই ছাদের আকার ভিনগ্রহের উড়াল যানের মতো হলেও এটি ভিনগ্রহের ভেন্যু কিছুতেই নয়!



মন্তব্য