kalerkantho



বাহরাইনের জালে ১০ গোল

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



বাহরাইনের জালে ১০ গোল

অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের একাধিক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া তহুরার এই ম্যাচে একটির বেশি গোল না পাওয়াটাই শুধু হতাশার হতে পারে। তার অভাব পুরিয়ে দিতে অবশ্য কারো আগ্রহ কম ছিল না। স্কোরশিটে দুই ডিফেন্ডার আনাই আর শামসুন্নাহারের নাম তুলে ফেলাও তাই বলছে। লেবাননের কাছে প্রথম ম্যাচে ৮ গোল হজম করা বাহরাইনের মেয়েদের সামর্থ্য জানা গিয়েছিল আগেই। বাংলাদেশেরও লক্ষ্য ছিল বড় জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা। তেমন একটা জয় পেয়ে কোচ গোলাম রব্বানীর মুখেও গর্বের হাসি।

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : গোলবন্যাই হলো কমলাপুরের মাঠে। বাহরাইন ভেসে গেছে তাতে। ৯০ মিনিটে বাংলাদেশ ১০ বার বল জড়িয়েছে তাদের জালে। অধিনায়ক মারিয়া মান্দা, আনুচিং মোগিনি ও শামসন্নাহারের দুটি করে গোল। অন্য গোলগুলো আনাই মোগিনি, সাজেদা, ডিফেন্ডার শামসুন্নাহার ও সারাবান তহুরার।

অনূর্ধ্ব-১৬ পর্যায়ের একাধিক টুর্নামেন্টে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া তহুরার এই ম্যাচে একটির বেশি গোল না পাওয়াটাই শুধু হতাশার হতে পারে। তার অভাব পুরিয়ে দিতে অবশ্য কারো আগ্রহ কম ছিল না। স্কোরশিটে দুই ডিফেন্ডার আনাই আর শামসুন্নাহারের নাম তুলে ফেলাও তাই বলছে। লেবাননের কাছে প্রথম ম্যাচে ৮ গোল হজম করা বাহরাইনের মেয়েদের সামর্থ্য জানা গিয়েছিল আগেই। বাংলাদেশেরও লক্ষ্য ছিল বড় জয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করা। তেমন একটা জয় পেয়ে কোচ গোলাম রব্বানীর মুখেও গর্বের হাসি। তবে তাঁর দলের পরীক্ষা হবে ভিয়েতনাম ও লেবাননের বিপক্ষে। সেই দুই ম্যাচের আগে অবশ্য আগামীকাল আরব আমিরাতের বিপক্ষে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে অনূর্ধ্ব-১৬ দলের এই মেয়েরা। আমিরাত কাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচ হেরেছে লেবাননের কাছে। প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামের বিপক্ষে হজম করেছিল তারা ৪ গোল। কাল লেবাননের বিপক্ষে ৬ গোল খেয়ে অবশ্য ৩টি তারা ফিরিয়ে দিয়েছে। আমিরাতের বিপক্ষে বাংলাদেশের মেয়েদের চ্যালেঞ্জটা অবশ্য ভিন্ন। ঢাকার খরতাপের মধ্যেই সেই ম্যাচটি খেলতে হবে তাদের বেলা সাড়ে ১১টায়।

কাল বাহরাইনের বিপক্ষে যখন ম্যাচ শুরু হচ্ছে তখনো রোদের প্রচণ্ড তাপ। বাংলাদেশ দলের গোলোৎসবের সঙ্গে ক্রমেই সেই সহনীয় পর্যায়ে নেমেছে। ৫-০তে এগিয়ে থেকে প্রথমার্ধ শেষ করে বাংলাদেশ। তহুরা, আনুচিং, মারিয়া বা মনিকাও নয়, ১২ মিনিটে ডিফেন্ডার আনাইয়ের শটে গোলের খাতা খোলে। ডান দিক থেকে ক্রসই ফেলেছিল এই ফুলব্যাক, সৌভাগ্যক্রমে তা পোস্টে ঢুকে যায়। ওই ১২ মিনিট সময়ের মধ্যেই একাধিক সুযোগ হাতছাড়া এবং অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হওয়ায় আনাইয়ের গোলটা স্বস্তি হয়ে আসে দলের জন্য। আসলে গোলের বাঁধটা খুলে যায় তখন। এর পরই বক্সের বেশ বাইরে থেকে শট নিয়ে ২-০ করে ফেলে মারিয়া। তৃতীয় গোলটা চমত্কার মুভে। ডান দিক দিয়ে উঠে আনাইয়ের ব্যাক পাস, তাতে শামসুন্নাহারের শট, সেই বলেই পা ছুঁইয়ে আনুচিংয়ের প্রথম গোল। ততক্ষণে বাহরাইনকে পড়া হয়ে গেছে আসলে। ওদের গোলরক্ষকের দুর্বলতাও প্রকট, ব্যবধান বাড়ানোর জন্য বাংলাদেশের প্রতিটা মুভই তাই গোলমুখী। দূর থেকে পোস্টে রাখতে পারলেই গোল হবে—এমন একটা মনোভাবও যেন তৈরি হয়ে যায়। একের পর এক শট হতে থাকে তাই পোস্টে। সবগুলো মাপে থাকলে ব্যবধান বোধহয় দ্বিগুণ হতো। বিরতির আগেই আনুচিং তার দ্বিতীয় গোল করে। ঋতুপর্ণ চাকমার শট গোলরক্ষক ফিরিয়ে দিলে টোকা দিয়ে সেই বলই জালে পাঠিয়েছে বাংলাদেশ স্ট্রাইকার। পঞ্চম গোলটি আনাইয়ের ক্রসে শামসুন্নাহারের চমত্কার হেডে।

দ্বিতীয়ার্ধে এই আনুচিংকে তুলেই সাজেদাকে নামান কোচ। নেমেই স্টপার আঁখি খাতুনের চমত্কার লং বল ধরে গোল করে বেরিয়ে আসে এই কিশোরী। এরপরই শামসুন্নাহারের দ্বিতীয় গোল। স্কোরলাইন তখন ৭-০। বাহরাইনের দুর্দশা আরো বাড়ে ডিফেন্ডার ডানা বাসেম লাল কার্ড দেখলে। শামসুন্নাহারকেই ফাউল করেছিল সে। আর স্পট কিকের সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্কোরশিটে নাম তুলে ফেলে ডিফেন্সে খেলা বাংলাদেশের আরেক শামসুন্নাহার। মারিয়া তাঁর দ্বিতীয় গোলটিও করে বক্সের বাইরে থেকে। ৮০ মিনিটে অপেক্ষা ফুরায় তহুরারও, দলের ১০ নম্বর গোলটিই করে বাংলাদেশের ১০ নম্বর জার্সিধারী। এএফসি অনূর্ধ্ব-১৬ চ্যাম্পিয়নশিপের এই বাছাই আসরে গতবারের মতো এবারও শিরোপা জয়ের লক্ষ্যেই খেলছে লাল-সবুজ। শুরুটাও হলো ফেভারিটের মতোই।

বাংলাদেশ দল : রুপ্না; শামসুন্নাহার, আঁখি, নাজমা, আনাই; মনিকা (রেহানা), মারিয়া; ঋতুপর্ণ (রোজিনা), তহুরা, শামসুন্নাহার (জুনিয়র); আনুচিং (সাজেদা)।



মন্তব্য