kalerkantho


এখন ৬৩ রান করেও সমালোচনা শুনতে হয়

১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



এখন ৬৩ রান করেও সমালোচনা শুনতে হয়

দুঃস্বপ্নের সেই বছর অনেক পেছনে ফেলে আসা দলটিই এখন যেভাবে নিয়মিত জিতছে, তাতে দলের বিপর্যয় উতরে নেওয়া ইনিংস খেলেও কারো জন্য প্রশংসার পাশাপাশি বরাদ্দ থাকছে সমালোচনাও। যেমন সেই সমালোচনাতে উচ্চারিত হচ্ছে মোহাম্মদ মিঠুনের নামও।

 

দুবাই থেকে প্রতিনিধি : যে ম্যাচে তাঁর ওয়ানডে অভিষেক, সেটিই হয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের খুব বড় এক দীর্ঘশ্বাসের গল্পও। ২০১৪-র জুনে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে ভারতকে ১০৫ রানে অল আউট করে দেওয়ার পর স্বাগতিকরা যে নিজেরাই ডুবেছিল ৫৮ রানের লজ্জায়। দুঃস্বপ্নের সেই বছর অনেক পেছনে ফেলে আসা দলটিই এখন যেভাবে নিয়মিত জিতছে, তাতে দলের বিপর্যয় উতরে নেওয়া ইনিংস খেলেও কারো জন্য প্রশংসার পাশাপাশি বরাদ্দ থাকছে সমালোচনাও। যেমন সেই সমালোচনাতে উচ্চারিত হচ্ছে মোহাম্মদ মিঠুনের নামও।

শ্রীলঙ্কা ম্যাচে দলের ঘোর বিপদের মধ্যে মুশফিকুর রহিমের সঙ্গে ১৩১ রানের পার্টনারশিপ গড়া এই ব্যাটসম্যান তাঁর ‘নতুন শুরু’ রাঙিয়েছেন ৬৮ বলে ৬৩ রানের সময়োপযোগী ইনিংসে। ‘নতুন শুরু’ই কারণ বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে তাঁর সুযোগ পাওয়াটা এত লম্বা বিরতি দিয়ে দিয়ে যে প্রতিবার নতুন করেই শুরু করতে হয় তাঁকে। ২০১৪-র সেই সিরিজে দুই ম্যাচ খেলে (একটি ম্যাচ বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত) বাদ পড়া মিঠুনের পরবর্তী সুযোগ আসে সাড়ে তিন বছর পর। এই বছরের শুরুতে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজে দলে এলেও খেলার সুযোগ মিলছিল না। ওপেনিংয়ে এনামুল হকের টানা ব্যর্থতায় সেই সুযোগ এসে যায় ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। কিন্তু ১০ রানে আউট হওয়ার পর আবার বাদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের ওয়ানডে দলে ঠাঁই হয়নি।

আয়ারল্যান্ড সফরে ‘এ’ দলের হয়ে ভালো ব্যাটিংও হয়তো যথেষ্ট হতো না জায়গা পুনরুদ্ধারের জন্য। শৃঙ্খলাভঙ্গের কারণে সাব্বির রহমান ছয় মাসের জন্য নিষিদ্ধ হওয়াতেই ব্যাটিংয়ে ছয় কিংবা সাতে বিকল্প হিসেবে সুযোগ মিলে যায় মিঠুনের। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এশিয়া কাপের উদ্বোধনী ম্যাচে অবশ্য নেমেছিলেন পাঁচে। নেমে মুশফিকের সঙ্গে পার্টনারশিপে দলের ত্রাতাও হতে পেরেছিলেন। যে ম্যাচে বোলাররাও প্রতিপক্ষকে ছিঁড়ে-খুঁড়ে ফেলায় আসে ১৩৭ রানের বিশাল জয়। তবু সেই ম্যাচের ভুল নিয়ে ভীষণ সোচ্চার বাংলাদেশ শিবির।

না হলে কি আর জয়ের আনন্দ ভুলে ম্যানেজার খালেদ মাহমুদকে বলতে শোনা যায়, ‘জেতার পর আমরা অনেক সময় ভুলে যাই যে আমাদের কিছু ভুল ছিল। ভুলগুলো শুধরে নিতে চাই যত দ্রুত সম্ভব। ওই ভুলগুলো শোধরানো যায়, তাহলে আমাদের আরো ভালো করা সম্ভব।’ এ ক্ষেত্রে ‘আরো ভালো’ না হওয়ার উদাহরণ হিসেবে বারবারই এসে যাচ্ছেন মিঠুন। ম্যাচ শেষে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাও তাঁকে দাঁড় করিয়েছিলেন কাঠগড়ায়, ‘যেভাবে আমরা উইকেটগুলো হারিয়েছি, সেগুলোও দেখার বিষয়। মিঠুনও ভুল সময়ে আউট হয়েছে। ও আউট না হলে আমরা ২৮০-৯০ রান করতে পারতাম।’

সেই না পারার দায় মিঠুনকে দিয়েছেন মুশফিকও। আগের দিন তাঁকে কৃতিত্ব দেওয়ার পাশাপাশি তাই এটিও বলতে ভোলেননি যে, ‘তবে মিঠুন যে সময়ে আউট হয়েছিল, বাজে সময় ছিল সেটি। ওই সময়ে একজন ব্যাটসম্যানের ওভাবে আউট হওয়া উচিত হয়নি।’ এই অনুচিত ব্যাপারটি সবার মুখে মুখে ফিরছে বলেই প্রশংসিত মিঠুন সমানভাবে সমালোচনারও শিকার। তাঁর এই অভিজ্ঞতাই দল হিসেবে বাংলাদেশের অবস্থানগত পার্থক্যটা বুঝিয়ে দেওয়ার পক্ষে যথেষ্ট। যখন অভিষেক, তখন দল হারত। এখন নিয়মিত জেতে বলেই ৬৩ রানের ইনিংসও তুষ্টির কারণ হয় না।

হয় না বলেই মিঠুনের মতো তরুণ ‘নতুন শুরু’ রাঙিয়েও লজ্জায় লাল হন!



মন্তব্য