kalerkantho



বললেন ম্যারাডোনা

লম্বা সময় থাকতেই মেক্সিকোয় এসেছি

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



লম্বা সময় থাকতেই মেক্সিকোয় এসেছি

সেই মেক্সিকো; কিন্তু অন্য ম্যারাডোনা। ১৯৮৬-র মেক্সিকো বিশ্বকাপ দেখেছিল এক সম্রাটকে সিংহাসনে বসতে। পায়ে পায়ে ফুটবলটাকে পোষ মানানো বেড়ালের মতো বাধ্য করা ডিয়েগো আরমান্দো ম্যারাডোনাকে। আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতানো এবং অসাধারণ একক নৈপুণ্যের প্রদর্শনী মেলে ধরে ম্যারাডোনা ঠাঁই করে নিয়েছিলেন অনেকটা ফুটবল ঈশ্বরের আসনে। ২০১৮ সালে ম্যারাডোনা আবার মেক্সিকোতে এলেন। এবার আগের সেই জ্যোতি না থাকলেও যতটা আছে, তাও কম নয়। নইলে দ্বিতীয় বিভাগের একটা দল, যারা এ মৌসুমে এখনো কোনো ম্যাচ জেতেনি, তাদের সংবাদ সম্মেলনে ২০০ সাংবাদিকের উপস্থিতি হয় কী করে! যাঁরা এসেছেন, তাঁদের হতাশ করেননি ম্যারাডোনা। মাঠের খেলা শুরুর আগে শব্দের খেলায় রীতিমতো ট্রফি জেতার মতো পারফরম্যান্স, জানালেন লম্বা সময় থাকতেই তাঁর দোরাদোসে আসা।

‘১৪ বছর ধরে আমি অসুস্থ ছিলাম, এখন আমি সূর্যটা দেখতে চাই। রাতে বিছানায় যেতে চাই। আমি আসলে কখনোই নিয়ম করে ঘুমাতে যেতে অভ্যস্ত ছিলাম না। জানতাম না বালিশ জিনিসটা কী। এ জন্যই আমি দোরাদোসের প্রস্তাব গ্রহণ করি।’—দোরাদোসের প্রথম সংবাদ সম্মেলনে এমন সব কথাই বলেছেন ম্যারাডোনা। মাদক গ্রহণের কারণে বিশ্বকাপ থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার মাধ্যমে জাতীয় দল অধ্যায় শেষ হয়েছিল ম্যারাডোনার। তিনিই এমন এক দলে এলেন কোচ হয়ে যে জায়গাটা মেক্সিকান ড্রাগ জগতের প্রধান আস্তানা হিসেবে পরিচিত! দোরাদোস ক্লাবটার মালিকানাও প্রভাবশালী হাংক পরিবারের মালিকানায়, যাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ আছে। ১০ নম্বর জার্সি পরে আসা ম্যারাডোনা রসিকতা করেই সাংবাদিকদের বললেন, ‘তোমরা যেটা বলবে, আমি সেই গানই গাইব।’

আর্জেন্টিনা জাতীয় দল, আল ওয়াসল, ফুজেইরা—সর্বত্রই কোচ হিসেবে ব্যর্থতার ইতিহাস ম্যারাডোনার। মেক্সিকোর ক্লাবটির সঙ্গে অন্য রকম সম্পর্কই চান তিনি, ‘আমি এখানে লম্বা সময় কাটাতে চাই। লোকে তো অনেক কথাই বলবে। আমি পতনের দিকে যাচ্ছিলাম। নিজেই নিজেকে খেয়ে যাচ্ছিলাম। সেটা ছিল পেছনের দিকে পা ফেলা আর ফুটবল হচ্ছে এগিয়ে যাওয়া। সব কিছু বদলে গেছে আমার মেয়েদের জন্য।’ এএফপি

 



মন্তব্য