kalerkantho


ফাইনালের লড়াই

মালদ্বীপে সুযোগ দেখছে নেপাল

১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



মালদ্বীপে সুযোগ দেখছে নেপাল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : সংবাদ সম্মেলনটা জমিয়ে দিলেন পিটার সেগ্রেট। মাইক নিয়ে মালদ্বীপের এ কোচ বলে ওঠেন, ‘আমি এখনো কোচ আছি মালদ্বীপের। তারা আগামীকাল (আজ) আমার অধীনেই সেমিফাইনাল খেলবে নেপালের বিপক্ষে।’ এ কয়দিনে মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যমের কাছে খালনায়ক হয়ে গেছেন এই জার্মান কোচ। তাঁকে বাদ দিয়েই দ্বীপরাষ্ট্রটি খেলবে সেমিফাইনাল, এমন এক হাওয়াও নাকি তৈরি হয়েছিল, ‘আমি কোচ নেই। সহকারী কোচই দায়িত্ব নিচ্ছেন। এ রকম একটা হাওয়া তৈরি করেছে মালদ্বীপের সংবাদমাধ্যম। এসব শুনে আমার খেলোয়াড়রাও দ্বিধাদ্বন্দ্বে পড়ে গিয়েছিল। আসলে ওই দেশের সংবাদমাধ্যম মালদ্বীপের ভালো চায় না। ওদের কথায় কান দেওয়ার কোনো দরকার নেই। আমি মনে করি, ফাইনালে ওঠার ভালো সুযোগ আছে আমাদের।’

ভালো সুযোগ আসলে কার আছে? যে কোচের ওপর দেশের সাংবাদিকমহলের অনাস্থা, যাঁকে নিয়ে খেলোয়াড়দের মধ্যেও অপ্রকাশ্য অস্বস্তি আছে, সেই কোচ দেখছেন ফাইনালের সুযোগ! এটা বরং ভালো মানায় নেপালের কোচ বালগোপাল মহাজনের মুখে, ‘ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমি খুব খুশি। তারা ভালো খেলে প্রথমবারের মতো ফাইনালে নিয়ে তুলবে নেপালকে।’ ভিন্ন বাস্তবতায় মালদ্বীপ-নেপাল ফাইনালের স্বপ্ন নিয়ে আজ বিকেল ৪টায় মুখোমুখি হবে প্রথম সেমিফাইনালে।

ঢাকা সাফে দুর্দান্ত খেলছে নেপাল। পাকিস্তানের কাছে হেরে শুরু করে তারা পরের দুই ম্যাচে ভুটান ও স্বাগতিক বাংলাদেশকে হারিয়ে সেমিফাইনালে। তারা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে জানে, আছে বিমল-সুনীলের মতো ম্যাচ উইনারও। তাই নেপালি কোচ আস্থা রাখছেন তাঁর খেলোয়াড়দের ওপর, ‘দলের সবাই আত্মবিশ্বাসী। দলের খেলার সঙ্গে আমার খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেরও উন্নতি ঘটছে। আমার সুবিধা হলো বেঞ্চে যারা থাকে তারাও ৭০-৮০ মিনিটে নেমে গোল করতে পারে। তাদের পারফরম্যান্সই আমাদের স্বপ্ন দেখায়।’ নেপালের ফাইনালে ওঠার খুব ভালো সুযোগ ছিল ২০১৩ সালে। সেবার নিজেদের মাঠে খেলার গতি ছিল দেখার মতো। ছিল অনেক প্রতিভাবান ফুটবলারও। কিন্তু যথারীতি আটকে যায় সেমিফাইনালে, আফগানিস্তানের কাছে হারে ০-১ গোলে। এবার ঢাকা দিচ্ছে ফাইনালের হাতছানি। বিশেষ করে শেষ গ্রুপ ম্যাচে স্বাগতিকদের হারিয়ে সেমিফাইনালে উঠে ভীষণ উজ্জীবিত নেপালিরা।

এখন পর্যন্ত টুর্নামেন্টে তাদের গোলই বেশি। তারা করেছে ৭ গোল। আর দুই ম্যাচ খেলে মালদ্বীপের গোলের খাতা শূন্য! ভারতের বিপক্ষে ০-২ গোলে হারার আগে তারা গোলশূন্য ড্র করে ভুটানের সঙ্গে। গোল নিয়ে মালদ্বীপের এমন বেহাল দেখা যায়নি সাম্প্রতিক অতীতে। পিটার সেগ্রেটের হাতে পড়ে দলটা হঠাৎ হারিয়ে ফেলল গোলের জাদু! গোলের ‘বরপুত্র’ আলী আশফাক ও কারিগর উমাইর তো দল থেকেই বাদ। তরুণ স্ট্রাইকার আলী ফাসিরকেও ভারতের ম্যাচে একাদশে রাখেননি কোচ। তাই সব ক্ষোভ-বিক্ষোভের লক্ষ্য পিটার সেগ্রেট। তিনি যে এসব খুব আমলে নিচ্ছেন না বরং টস ভাগ্যে সেমিতে ওঠা মালদ্বীপকে ১৯৮২-র ইতালি বানানোর স্বপ্ন দেখেন, ‘ইতালি ড্র করে গ্রুপ পেরিয়ে শেষে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। নেপালের বিপক্ষে সেমিতে আমরা সব কিছুর জন্য তৈরি। খেলোয়াড়রা তাদের সাধ্যমতো খেলবে, নির্ধারিত সময়ে না হলে পেনাল্টি শ্যুট আউটের জন্যও আমরা তৈরি।’ ইতালি তিনটি ড্র নিয়ে গ্রুপ পার করে। ১ পয়েন্ট নিয়ে সেমিফাইনালে ওঠা মালদ্বীপ প্রস্তুত টাইব্রেকারের জন্যও। টাইব্রেকার মানেই ভাগ্য। কিন্তু নেপালি কোচ ভাগ্যের চেয়ে পারফরম্যান্সে বেশি বিশ্বাসী, ‘৯০ শতাংশ নিজেদের চেষ্টা, বাকিটুকু ভাগ্য।’ মাঠে খেলেই প্রথমবারের মতো ফাইনালে পৌঁছতে চায় বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের চ্যাম্পিয়নরা।

 



মন্তব্য