kalerkantho


সেমিতে উঠেও প্রবল চাপে পিটার সেগ্রেট

সনৎ বাবলা   

১১ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সেমিতে উঠেও প্রবল চাপে পিটার সেগ্রেট

শান্তিতে নেই পিটার সেগ্রেট! ঢাকায় বসেই তিনি অনুভব করেছেন বহুমুখী চাপ। সমালোচনা যে মালদ্বীপেও শুরু হয়েছে, সেটাও বুঝতে পারছেন ক্রোয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত এই কোচ।

 

সেমিফাইনালে পৌঁছেও শান্তিতে নেই পিটার সেগ্রেট! ঢাকায় বসেই তিনি অনুভব করেছেন বহুমুখী চাপ। সমালোচনা যে মালদ্বীপেও শুরু হয়েছে, সেটাও বুঝতে পারছেন ক্রোয়েশিয়ান বংশোদ্ভূত এই কোচ, ‘তারা আসলে বুঝতে পারছে না। আমি কাজ করছি ভবিষ্যতের দল গড়ার লক্ষ্য নিয়ে। অনাগত দিনে মালদ্বীপ যেন একটি শক্তিশালী দল হয়ে লড়তে পারে।’

কিন্তু সেসব বুঝে কাজ নেই মালদ্বীপের মিডিয়ার। চোখের সামনে তারা দেখছে, শক্তিশালী দলের শক্তি ক্ষয়ে যেতে। সাফে এই মালদ্বীপের কোনো গোল নেই দুই ম্যাচে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ড্রয়ের পর ভারতের কাছে হেরেছে ০-২ গোলে। লটারি ভাগ্যে কোনো রকমে সেমিফাইনালে পৌঁছেছে মালদ্বীপ। ১৯৯৭ সালে তাদের প্রথম সাফ থেকে ধরলে এই প্রথম ঘটেছে গ্রুপে গোলহীনতার অঘটন। গ্রুপে এই দুর্দশা দেখে যেন মালদ্বীপ ফুটবলের ভবিষ্যৎ বোঝা হয়ে গেছে তাদের সাংবাদিকদের। মালদ্বীপ সকারের সাংবাদিক আহমেদ ইয়াসু মনে করেন, ‘দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে মালদ্বীপ এখন বড় ফুটবল শক্তি। বড় বিশেষত্ব হলো, এই দলে স্কোরারের অভাব নেই। মানসম্পন্ন খেলোয়াড় অনেক, এই অঞ্চলে দাপট দেখানোর মতো ফুটবল খেলতে পারে তারা। কিন্তু একটা ভুল লোকের হাতে পড়ে সব শেষ হয়ে যেতে বসেছে।’ এই ভুল লোকটি হলেন পিটার সেগ্রেট, মালদ্বীপের দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাঁর বিতর্কে বসবাস।

আগে ছিলেন আফগানিস্তানের দায়িত্বে। মালদ্বীপে তিনি শুরু করেন ‘গোল মেশিন’ আলী আশফাককে দল থেকে বাদ দিয়ে। সাফের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২০ গোল করা এই স্ট্রাইকারের পায়ে গোল ফুরিয়ে গেছে এমন নয়। বরং দু-পায়ে গোলের জাদু ধরে রেখে ৩৩ বছর বয়সেও রাঙাচ্ছেন ক্লাব ফুটবল। একটা প্রি-ম্যাচ কনফারেন্সে আশফাক না যাওয়াতেই ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন কোচ। তারই শোধ নাকি তিনি তুলেছেন দল থেকে বাদ দিয়ে! পিটার বলছেন অন্য কথা, ‘আশফাক দুর্দান্ত খেলোয়াড় কিন্তু ওর বয়স হয়ে গেছে। এখন নতুন প্রজন্মকে সামনে নিয়ে আসতে হবে। বড় ক্যানভাসে দেখতে হবে ফুটবলকে। শ্রীলঙ্কার ম্যাচে আমরা অনেক সুযোগ তৈরি করেছি, কিন্তু গোলটা পাইনি। টুর্নামেন্ট শেষ হয়ে যায়নি।’

আলী আশফাক দলে না থেকেও আছেন। গোলহীন গ্রুপ পর্ব শেষে প্রবলভাবে আছেন। তাঁর সেই অদৃশ্য উপস্থিতির চাপে যেন পর্যুদস্ত কোচ। ভাগ্যগুণে গ্রুপের বাধা টপকে যাওয়ায় অবশ্য সমালোচকদের মুখ বন্ধ করার আরেকটি সুযোগ তিনি পাচ্ছেন। কিন্তু গোলের মানুষকে বেঞ্চে রেখে অন্যদের খেলিয়ে কি সুযোগ সদ্ব্যবহার করতে পারবেন? এই সময়ের তরুণ স্ট্রাইকার আলী ফাসির দারুণ ফর্মে, অথচ ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে একাদশে ছিলেন না তিনি। মালদ্বীপও পায়নি গোলের কোনো পরিষ্কার সুযোগ। তাই ভারতের অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে মাথা নিচু করে মাঠ ছাড়তে হয়েছে মালদ্বীপকে। কিন্তু এই ভারতীয় দলের বেশির ভাগই ১৯ বছর বয়সী ফুটবলার, তাই ০-২ গোলের এই হারে যেন শুরু হয়েছে অন্য রকম অন্তর্দহন। হওয়ারই কথা। মালদ্বীপ ফুটবলের সামগ্রিক মান অনেক এগিয়েছে। তাদের কাছে বাংলাদেশ জাতীয় দলের হার নৈমিত্তিক ঘটনা, এই ধারায় হারে এখন ক্লাব দলগুলোও। ভারত বাদে এই অঞ্চলের বাকিদের সঙ্গে লড়াইয়ে সব সময় ফেভারিট থাকে দ্বীপরাষ্ট্রটি।    

এই সাফকে দারুণ সুযোগ হিসেবে দেখেছিল মালদ্বীপ। আফগানিস্তান এই টুর্নামেন্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়ায় তারা শিরোপার প্রতিদ্বন্দ্বী ভেবেছিল একমাত্র ভারতকে। প্রতিদ্বন্দ্বীর বয়সভিত্তিক দল নিয়ে আসার খবরে তারা ভীষণ উৎসাহী ছিল বৈকি। কিন্তু সেই দলটির কাছেই নাকানি-চুবানি খাওয়ার পর উৎসাহে ভাটার টান। পতনের সব রাগ-ক্ষোভের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়ায় পিটার সেগ্রেট, যিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর ‘বিশ্বকাপ-বটিকা’ খাইয়েছেন মালদ্বীপ ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের কর্তাদের। চার বছরে বিশ্বকাপে নিয়ে তুলবেন এই দ্বীপরাষ্ট্রকে। এই প্রসঙ্গ তুলতেই মালদ্বীপের সাংবাদিকরা হাসেন। হাসির কথাও বটে। সাফের নদীতে হাবুডুবু খাওয়া পিটারও ভাবছেন সমুদ্রে জলকেলির কথা। অবশ্য সাফ অঞ্চলে অলীক স্বপ্ন দেখার এটাই একমাত্র ঘটনা নয়। একদা ‘কাতার বিশ্বকাপ’-এর দিবাস্বপ্ন যেমন হাসির খোরাক জুগিয়েছিল বাংলাদেশের ফুটলাঙ্গনে!

 



মন্তব্য