kalerkantho


ইগলের ডানায় স্বপ্নপূরণ সোহেলের

৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ইগলের ডানায় স্বপ্নপূরণ সোহেলের

দেশের মাটিতে এশিয়ান ট্যুরে খেলা হলেও বিদেশে এশিয়ান ট্যুরে খেলার যোগ্যতা এত দিন ছিল না সোহেলের। পিজিএম মিরি চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর তাঁর সামনে খুলে গেল সেই দরজাটাও।

 

ক্লিন্ট ইস্টউডের ছবির শেষ দৃশ্যের টানা টান উত্তেজনার মতো এক দৃশ্যই তখন তৈরি হয়েছে মালয়েশিয়ার ইস্টউড ভ্যালি গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাবে। চার দিন, ৭২ হোলের খেলা শেষে শীর্ষ দুই গলফারের স্কোরে সমতা। বাংলাদেশের সাখাওয়াত হোসেন সোহেল আর থাইল্যান্ডের নিথিরন থিপং, দুজনেরই স্কোর -৭। অগত্যা প্লে-অফ, ১৮ নম্বর হোলে আবার খেলতে হবে সোহেল আর থিপংকে। এমন সময় ১২ ফুট দূর থেকে পাট করে বার্ডি করেন থিপং, সোহেলের সামনে ৪০ ফুট দূর থেকে বল গর্তে ফেলা ছাড়া জেতার আর কোনো সুযোগ নেই। প্লে-অফের এই স্নায়ুচাপে এর আগে দুইবার হেরেছেন সোহেল, কিন্তু এইবার হারিয়েছেন প্রতিপক্ষকে। ৪০ ফুট দূর থেকে চিপ করেছিলেন সোহেল, বলটা গর্তে পড়তেই উল্লাসে টুপি ছুড়ে দেন আকাশে! অবিশ্বাস্য এক অঙ্ক মিলিয়ে, ইগল অর্থাৎ পারের চেয়ে দুই শট কম খেলে বল গর্তে ফেলেছেন সোহেল। প্লে-অফটা জিতে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুরে পিজিএম মিরি চ্যাম্পিয়নশিপটা জিতে নিয়েছেন সোহেল। সেই সঙ্গে ৯ হাজার ৫০৩ মার্কিন ডলার, অফিশিয়াল ওয়ার্ল্ড গলফ র‌্যাংকিংয়ে ৬টি পয়েন্ট আর আগামী এক বছর এশিয়ান ট্যুরে খেলার যোগ্যতা। সিদ্দিকুর রহমানের পর এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ট্যুরের শিরোপা জেতা দ্বিতীয় বাংলাদেশি গলফার সোহেল।

অথচ এই টুর্নামেন্টে শুরুটা খারাপই হয়েছিল কুর্মিটোলা গলফ ক্লাবে ক্যাডি হিসেবে গলফের সঙ্গে পরিচিত হওয়া সোহেলের। প্রথম দিনে সোহেল খেলেছেন পারের সমান, পরদিন পারের চেয়ে ১ শট বেশি। কোনো রকমে কাট বাঁচালেন। তৃতীয় রাউন্ডটা বেশ ভালো গেল সোহেলের, খেললেন পারের চেয়ে ৩ শট কম। প্রথমবারের মতো স্কোরের আগে বসল বিয়োগ চিহ্নটা! শেষ রাউন্ডটাই সবাইকে অবাক করে দিয়ে আশাতীত ভালো খেললেন সোহেল। ৫ আন্ডারপার খেললেন শেষ দিনের খেলায়, ৫টা বার্ডি। সব মিলিয়ে ৭ আন্ডারপার স্কোর নিয়ে পয়েন্ট টেবিলে যৌথভাবে প্রথম স্থানে। এরপর প্লে-অফে ইগল ম্যাজিক! পারের চেয়ে ১ শট কম খেলাটাই যেখানে রীতিমতো কঠিন, সেখানে পারের চেয়ে ২ শট কম! তাও এমন চাপের মুখে। জয়ের পর সোহেল জানিয়েছেন তাঁর অনুভূতির কথা, ‘যখন দেখলাম আমার চিপ করা বলটা গর্তে পড়ে যাচ্ছে, আমি তো উত্তেজনায় চিত্কার করে উঠেছিলাম আর মাথার টুপিটা ছুড়ে দিয়েছিলাম আকাশে। কয়েক মাস আগে একটা প্লে-অফে হেরে যাওয়াতে খারাপ লেগেছিল, সেই অভিজ্ঞতাটা কাজে দিয়েছে। আমি আজকে (কাল) খুব চাপমুক্তভাবে খেলেছি আর জয় ছাড়া অন্য কোনো দিকে মনোযোগ দিইনি।’

দেশের মাটিতে এশিয়ান ট্যুরে খেলা হলেও বিদেশে এশিয়ান ট্যুরে খেলার যোগ্যতা এত দিন ছিল না সোহেলের। পিজিএম মিরি চ্যাম্পিয়নশিপ জেতার পর তাঁর সামনে খুলে গেল সেই দরজাটাও। এশিয়ান ট্যুর



মন্তব্য