kalerkantho


গোলের ‘বিশেষ অস্ত্র’ বিশ্বনাথ

সনৎ বাবলা   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



গোলের ‘বিশেষ অস্ত্র’ বিশ্বনাথ

আপনার লম্বা থ্রো দেখে পাকিস্তান কি একটু ভ্যাবাচেকা খেয়েছিল?

বিশ্বনাথ : সেটা আমি বলব কী করে? আমি শুধু চেষ্টা করেছি বলটা ওদের বক্সে ফেলতে, আমাদের কারো মাথায় পড়ে যদি কিছু হয়।

শেষমেশ হয়েও গেল...।

বিশ্বনাথ : এটা অসম্ভব এক গোল। বলটা দূরের পোস্ট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার সময় তপুদা কোত্থেকে দৌড়ে এসে হেড করে দিলেন!

শেষ মুহূর্তের সেই হেড জালে পৌঁছে গিয়ে হতাশায় ডুবিয়ে দেয় পাকিস্তানকে। আর এটাই হয়ে ওঠে বাংলাদেশের স্বপ্ন রাঙানো এক গোল। টানা দ্বিতীয় ম্যাচ জিতে উজ্জ্বলতর হয় স্বাগতিকদের সেমিফাইনালের স্বপ্ন। দুই পক্ষের সতর্ক ফুটবলে ম্যাচ গড়াচ্ছিল ড্রয়ের দিকে। ৮৫ মিনিটে বিশ্বনাথের এক লম্বা থ্রো-ইন বদলে দেয় ম্যাচের ভাগ্য। ওই গোলের মিনিট তিনেক আগে পাকিস্তান আসলে ভ্যাবাচেকা খেয়েছিল তাঁর থ্রো-ইন দেখে। তার আগে এই ডিফেন্ডার হাত নেড়ে দর্শকদের জেগে ওঠার আহ্বান জানিয়েছিলেন। ‘‘সত্যি বললে, পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচটি আমার জন্য একটা নতুন অভিজ্ঞতা। কারণ এ রকম গ্যালারি ভরা দর্শকের মধ্যে আমি কখনো খেলিনি। শুধু গল্প শুনেছি। দেশের পতাকা উড়ছে, দর্শকরা চিৎকার করছে ‘বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ বলে। মানুষের এই সমর্থন মাঠের খেলায় স্পিরিট বাড়িয়ে দেয়। এটা দুর্দান্ত এক অনুভূতি’’—গ্যালারি ভরা মাঠে ১৯ বছর বয়সীর থ্রো-ইনগুলো ভয়ংকর হয়ে উঠছিল।

বয়সভিত্তিক ফুটবল পাড়ি দিয়ে তাঁর সিনিয়র জাতীয় দলে অভিষেক হয়েছে এই সাফ টুর্নামেন্টে। এর আগে প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন মাত্র দুই মৌসুম। এ সময়েই নাকি রপ্ত করেছেন লম্বা থ্রো-ইন। শেখ রাসেলের এই ডিফেন্ডারের অনুপ্রেরণা আরেক ডিফেন্ডার রায়হান, ‘রায়হান ভাইকে দেখে আমি লং থ্রো শিখেছি। এটা আমি খুব বেশিদিন প্র্যাকটিস করিনি, প্রিমিয়ারে আসার পর থেকেই লম্বা থ্রো-ইনের চেষ্টা করছি। বক্সের কাছে-ধারে পেলে ভালো সুযোগ তৈরি হয়।’ তখন এটা আর নিরীহ থ্রো থাকে না, ভয়ংকর হয়ে ওঠে কর্নার কিকের মতো। প্রথমে এর কার্যকারিতা দেখা গেছে জাকার্তায় এশিয়ান গেমসে। থাইল্যান্ডের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে গোলের উৎস ছিলেন এই বিশ্বনাথ। তাঁর থ্রো-ইনে গোল করেন সুফিল।

সুবাদে এটা জেমির দলের ‘বিশেষ অস্ত্র’ হয়ে গেছে। দেশে চরম স্ট্রাইকার সংকটের কারণে ইংলিশ কোচের হাতে গোলের অস্ত্র খুব সীমিত। তখন লম্বা থ্রো-ইন যেন বড় এক সহায়। বিশ্বনাথের ‘আইডল’ রায়হানও এভাবে গোলে সহায়ক হয়েছেন বহুবার। ২০১৩-র সাফে পাকিস্তানের বিপক্ষে করা বাংলাদেশের গোলটির উৎস রায়হানের লম্বা থ্রো, তাতে জাহিদ হাসানের হেড পৌঁছে যায় পাকিস্তানের জালে। দুই বছর বাদে ঢাকায় বঙ্গবন্ধু কাপের ফাইনালে মালয়েশিয়া অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের দুই গোলের একটিও হয়েছে তাঁর থ্রো থেকে। দেশে লম্বা থ্রো-ইনের ধারা শুরু করেন মোহামেডানের ডিফেন্ডার আবুল হোসেন। জাতীয় দলের এই ডিফেন্ডার খেলা ছাড়ার পর সাদা-কালোর কোচের দায়িত্বেও ছিলেন। এরপর নব্বইয়ের দশকে আবাহনীর আলমগীরের লম্বা থ্রোয়ের খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। জাতীয় দলে না খেললেও ক্লাব ফুটবলে তাঁর ওই থ্রোয়ের ভীতিজাগানিয়া স্মৃতি আছে অনেকের। আলমগীর বিদায় নেওয়ার পর ব্যাটন তুলে নেন বেলাল। গত দশকের শুরুতে মোহামেডান-মুক্তিযোদ্ধায় খেলার পাশাপাশি তিনি বয়সভিত্তিক ফুটবলে খেলেছেন বাংলাদেশের জার্সিতে। এই ধারায় হালের রায়হান-বিশ্বনাথ হয়ে গেছেন গোলের বিশেষ অস্ত্র।

 



মন্তব্য