kalerkantho


ম্যাচ ধরে ধরে ভাবনা মাশরাফির

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ম্যাচ ধরে ধরে ভাবনা মাশরাফির

অন্য দলগুলোর চেয়ে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। হয়তো ভারত অনেক ভালো দল। পাকিস্তান তাদের ঘরের মাঠে খেলবে। কিছুটা বাড়তি সুবিধা তারা পাবে। তবু আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের হারানোর।

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : এক কেলেঙ্কারির পর যেন আরেক কেলেঙ্কারির আশঙ্কামাখা অপেক্ষা। ক্রিকেটারদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বাংলাদেশ ক্রিকেটাঙ্গনের গেল কয়েক বছরের এটি নিয়মিত চিত্র। তাতে সিনিয়র ক্রিকেটারদের নাম জড়াতে শোনা যায়নি কখনো। ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজা তো কাল পালন করলেন ১৩তম বিয়েবার্ষিকীই। ক্রিকেটজীবনের সঙ্গে ব্যক্তিজীবনের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্নে তাই তাঁর মুখে খেলে যায় হাসি।

‘ক্রিকেটের সঙ্গে সংসার! আসলে যারা চাকরি করছে তারাও তো সংসার করছে। এখানে কঠিন কিছু নেই। পুরোটাই একজন আরেকজনের সঙ্গে বোঝাপড়ার বিষয়। আমার তো মনে হয়, চাকরিজীবীদের চেয়ে ক্রিকেটারদের সংসার করাটা আরো সহজ। আমাদের খেলার মধ্যে বিরতি থাকে, সুযোগ থাকে পরিবার নিয়ে সফর করার। এটা চাকরি বা অন্যান্য পেশায় থাকে না। এটা যুগলদের জন্য আরো ইন্টারেস্টিং, খেলাধুলার কেউ থাকলে পারস্পরিক সম্পর্ক আরো শক্ত করে’—শেরেবাংলা স্টেডিয়ামের সংবাদ সম্মেলনের শেষ প্রশ্নে বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়কের উত্তর।

সময়ের প্রয়োজনেই এমন প্রশ্ন। আগের প্রশ্নগুলো ক্রিকেট নিয়েই। তাতে বাংলাদেশের সম্ভাবনা নিক্তিতে মাপেননি মাশরাফি। তাঁর অনেক সতীর্থ যেমন গেল কয়েক দিনে এশিয়া কাপে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কথা জোরেশোরে বলে গেছেন, তিনি সে দলে নন, ‘অনেকে টুর্নামেন্ট জেতার কথা বলছে। আমি এই টাইপ না, এ ধরনের কথা বলতে চাই না। আমাদের চেয়ে ভালো দল আছে এ টুর্নামেন্টে। তবে বাকি দলের সঙ্গে খুব বেশি পার্থক্য আছে বলে মনে হয় না। সেই পার্থক্যটা আমরা ভালো ক্রিকেট খেলে পূরণ করতে পারি।’ একেবারে শিরোপার স্বপ্ন না দেখে ধাপে ধাপে এগোনোই তাঁর লক্ষ্য, ‘অন্য দলগুলোর চেয়ে আমরা খুব বেশি পিছিয়ে নেই। হয়তো ভারত অনেক ভালো দল। পাকিস্তান তাদের ঘরের মাঠে খেলবে। কিছুটা বাড়তি সুবিধা তারা পাবে। তবু আমাদের সামর্থ্য আছে তাদের হারানোর। আমরা শুরুটা কেমন করি আর পরের রাউন্ডে যেতে পারি কি না, সেটা দেখতে হবে।’ আগের তিন এশিয়া কাপের মধ্যে দুটিতে ফাইনাল খেলেছে বলেই প্রত্যাশার পারদ চূড়াতে। যদিও পেছনের এ ফলকে গুরুত্ব দিতে রাজি নন মাশরাফি, ‘আগের দু-তিন এশিয়া কাপে খেলার গুরুত্ব এখানে তেমন নেই। এবার টুর্নামেন্টের ধরনও আলাদা, একটু অন্যভাবে সাজানো। আমাদের জন্য মূল কথা হচ্ছে, প্রথম ম্যাচটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।’ ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সেই ম্যাচের পর ২০ তারিখ আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়াই। গ্রুপের সেরা দুই দলের মধ্য থেকে পরের রাউন্ডে যাওয়ার ওপরই জোর অধিনায়কের।

প্রতিপক্ষ আফগানিস্তান মানেই অবধারিতভাবে রশিদ খানের চলে আসা। সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি সিরিজে এই লেগস্পিনারের বিপক্ষে রীতিমতো খাবি খেয়েছেন বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা। তবে এবারের ফরম্যাট ওয়ানডে বলে মাশরাফি আরেকটু আশাবাদী, ‘রশিদ খান অবশ্যই বিশ্বমানের লেগস্পিনার। তবে টি-টিয়েন্টিতে তো শট খেলার চাপ থাকে, ওয়ানডেতে ব্যাটসম্যানরা দু-তিন ওভার সময় পাবে তাকে দেখে খেলার।’ তবে এ লেগস্পিনারকে নিয়ে ভাবনার আগে ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ম্যাচ নিয়েই ভাবতে চান মাশরাফি, ‘রশিদ খানের আগে আমাদের শ্রীলঙ্কার স্পিন, পেস বোলিং সামলানো বেশি জরুরি। যদি প্রথম ম্যাচ জিততে পারি, তাহলে যে আত্মবিশ্বাসটা পাব, তা দিয়ে রশিদ, মজিব, নবিদের খেলা সহজ হয়ে যাবে। আর শ্রীলঙ্কার সঙ্গে খারাপ কিছু হলে ওদের সামলানো দ্বিগুণ কষ্টের হবে।’

দল হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট খেলবে প্রায় সিকি শতাব্দী পর। তবে সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মাহমুদ উল্লাহদের মতো ক্রিকেটারদের অভিজ্ঞতা আগে সেখানে পিএসএলে খেলার। তাঁদের অভিজ্ঞতার প্রতিফলনের পাশাপাশি তরুণদের দিকে চেয়ে থাকার কথাও জানান মাশরাফি, ‘দলে ওদের নিজেদেরও তো বড় দায়িত্ব আছে। তামিম, রিয়াদ, সাকিব, মুশফিক খেলেছে ওখানে। তামিম খেলেছে অনেক দিন এবং সে পারফরমও করেছে। তাদের ইনপুট থাকাটা জরুরি। আমাদের তরুণ খেলোয়াড়দের অনেকে তিন-চার-পাঁচ বছর ধরে খেলছে। ওদের তরুণ বলতে একটু বাধো বাধো লাগা উচিত। আমার বিশ্বাস যে তারাও পারফরম করবে।’

সেই তরুণদের প্রতিনিধি হয়ে সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেনরা সম্প্রতি সংবাদ শিরোনামে এসেছেন নেতিবাচক কারণে। অধিনায়ক মাশরাফি অবশ্য মাঠের বাইরের নেতিবাচকতা দূরে থাক, দলের দুর্বলতা নিয়েও কথা বলতে নারাজ। আর সতীর্থরা ‘শিরোপা জয়ের’ কথা যতই বলুন না কেন, অধিনায়কের এশিয়া কাপ আপাতত ওই প্রথম ম্যাচ। ১৫ সেপ্টেম্বর শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে দ্বৈরথ।

এরপর টুর্নামেন্ট এগোতে থাকলে স্বপ্নের সীমানাও না হয় বাড়ানো যাবে।



মন্তব্য