kalerkantho


নেপালের সংস্কৃতিতে মিশে ফুটবল

৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নেপালের সংস্কৃতিতে মিশে ফুটবল

ক্রীড়া প্রতিবেদক : মাত্র শ চারেক দর্শকে মাতিয়ে রাখল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়াম। পুরো ম্যাচে তারা হুল্লোড় তুলেছে নেচে-গেয়ে। পতাকা উঁচিয়ে সমস্বরে সমর্থন করেছে তাদের দলকে। তাদের অকুণ্ঠ সমর্থনে বদলে গেল নেপাল। দুর্দান্ত খেলে তারা ৪-০ গোলে ভুটানকে হারিয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে সেমিফাইনালের সম্ভাবনা জাগিয়ে রেখেছে।

ঢাকা শহর এসব নেপালি দর্শক-সমর্থকদের খুব চেনা। পড়াশোনোর সুবাদে তাদের ঢাকায় থাকা। তারা এখানে পড়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে, তাদের মধ্যে বেশির ভাগই মেডিক্যাল পড়ুয়া। একই ধরনের টি-শার্ট পরে তারা মাতিয়েছে আবাহনী-মোহামেডান গ্যালারি। ম্যাচ শেষে নেপালি খেলোয়াড়রাও গ্যালারির কাছে এসে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন হাততালি দিয়ে। আনোয়ার খান মডার্ন মেডিক্যাল কলেজের ছাত্র ব্রিজেশ ভীষণ খুশি, ‘প্রথম ম্যাচে আসলে আমাদের দলকে সমর্থন করার কেউ ছিল না। আজ সবাই দল বেঁধে এসেছি। তাই তাদের খেলা ভালো হয়েছে। দেশে থাকতেও নিয়মিত খেলা দেখতে যেতাম আমি।’

নেপালি লোকজনের এই একটা জিনিস আছে, খেলা দেখতে তারা মাঠে যায়। ২০১৩ সালে কাঠমাণ্ডু সাফের এখনো তরতাজা। সাফের খেলাটিকে তারা বিশ্বকাপ বানিয়ে ফেলেছিল। বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ থেকেই লালের ঢেউ উঠেছিল গ্যালারিতে। সবার পরনে জাতীয় দলের লাল জার্সি। হাটে-ঘাটে-মাঠে সব জায়গায় লালের উৎসব। নেপালি পত্রিকা কান্তিপুর ডেইলির সাংবাদিক হিমেশের বিশ্লেষণে ফুটবল এখন নেপালি সংস্কৃতির অংশ, ‘আশির দশকে আমাদের ফুটবল জনপ্রিয় হয়। মাঠে গিয়ে খেলা দেখার অভ্যাস তৈরি হয়েছে মানুষের মধ্যে। আমাদের ১ নম্বর খেলা ফুটবল। কোনো বড় আসর হলে দেদার জার্সি বিক্রি হয়।’ একটা নেপালি জার্সির দাম নেপালি মুদ্রায় এক হাজার ১০০ টাকা, এই জার্সি কেনার জন্য ২০১৩ সালে হুমড়ি খেয়ে পড়েছিল তাদের মানুষ। জার্সির পাশাপাশি জাতীয় দলের স্কার্ফও বেশ চলে নেপালে। ইউরোপিয়ান ফুটবলের মতো হয়ে গেছে তাদের ফুটবল সংস্কৃতি। হালে ক্রিকেটের হাওয়ায় নাকি একটু ধাক্কা লেগেছে। নেপালি সাংবাদিক মনে করেন, ‘রোহিত চাঁদ, বিমলদের জার্সি পরে মানুষ ঘুরে বেড়ায়। তাতে আমাদের ফুটবলের আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তা প্রকাশ পায় ঠিক; কিন্তু এখনো পর্যন্ত আমাদের ফুটবলে বলার মতো কোনো সাফল্য নেই। নেপাল ফুটবলের যে মান এবং জনপ্রিয়তা তাতে সাফের একটি শিরোপা জিততেই পারত। এটা ফুটবলের এক নেতিবাচক দিক। ক্রিকেট শুরু হওয়ায় আমাদের লোকজন এ খেলাও পছন্দ করতে শুরু করেছে।’

দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে ক্রিকেটের হাওয়া প্রবল। সেই হাওয়া নেপালে পৌঁছে গেছে। এটাই ফুটবলের জন্য হুমকি। তা ছাড়া ফুটবল নেপালে এত পূজিত হয়, সেই তুলনায় তাদের সাফল্য নেই। ভালো ফুটবল খেলার স্বীকৃতি নেই আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে। তাদের বড় অর্জন বলতে ২০১৬ সালে ঢাকায় এসে বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ জয়। মেডিক্যাল পড়ুয়া ব্রিজেশের আবার সাফল্যের কাঙাল নন, ‘বড় ট্রফি না হলেও ক্ষতি নেই। ফুটবল আমাদের বিনোদন, আনন্দের উৎস।’

 



মন্তব্য