kalerkantho


ফেদেরারকে হারিয়ে বিখ্যাত মিলম্যান!

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



ফেদেরারকে হারিয়ে বিখ্যাত মিলম্যান!

গুগল ট্রেন্ডজ বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় গুগলে যেসব শব্দ সবচেয়ে খোঁজা হয়েছে, এর মধ্যে আছে জন মিলম্যানের নামটাও। থাকারই কথা। কারণ অস্ট্রেলিয়ার এক টেনিস খেলোয়াড়, বিশ্ব র্যাংকিংয়ে যাঁর অবস্থান ৫৫। পাঁড় টেনিসভক্ত না হলে তাঁর হদিস খুব বেশি মানুষের রাখার কথা নয়। কোনো গ্র্যান্ড স্লামে তৃতীয় রাউন্ড ওঠা অবধিই ছিল তাঁর সেরা সাফল্য। সেই মিলম্যান যখন সর্বকালের সেরা খেলোয়াড় রজার ফেদেরারকে হারিয়ে দেন ইউএস ওপেনে, যে আসরে সুইস কিংবদন্তির টানা পাঁচটি শিরোপা, তখন লোকে তো গুগলে তাঁকে খুঁজবেই! কাগজে-কলমে অবশ্য মিলম্যান জয়ী। তবে ফেদেরার জানেন তাঁকে হারিয়েছে নিউ ইয়র্কের গরম। তাই তো ম্যাচটা জেতার চেয়ে শেষ হওয়াতেই বেশি খুশি ফেডেক্স! খেলা শেষে জানিয়েছেন, চতুর্থ সেটে এসে আর নাকি শ্বাস নিতে পারছিলেন না ফেদেরার।

২৯ বছরের মিলম্যান বনাম ৩৭ বছরের ফেদেরার, নিউ ইয়র্কের ৩০ ডিগ্রির বেশি উত্তাপে আর আর্দ্র বাতাসে চ্যাম্পিয়নের শরীরেরও থাবা বসাল বয়স। সুইজারল্যান্ডের মনোরম আবহাওয়ায় বড় হয়ে ওঠা ফেদেরার পারলেন না আট বছরের ছোট ব্রিসবেনের বাসিন্দার সঙ্গে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে ব্রিসবেনে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপর উঠে যায় তাপমাত্রা, মিলম্যানের কাছে তাই নিউ ইয়র্কের গরম পাত্তা পায়নি। কিন্তু আল্পসের উপত্যকায় বেড়ে ওঠা ফেদেরার পারেননি এই গরমে লম্বা ম্যাচের ধকল নিতে। তাই তো ৩-৬, ৭-৫, ৭-৬ (৯/৭) ও ৭-৬ (৭-৩) গেমে হেরে ফ্লাশিং মিডো থেকে বিদায় ফেদেরারের। সব শেষ ইউএস ওপেন জিতেছিলেন ২০০৮ সালে, তাঁর দশক পূর্তিটা শিরোপা জিতে স্মরণীয় করে রাখতে চেয়েছিলেন ফেদেরার। কিন্তু এখন হয়তো ২০১৮ ইউএস ওপেনটা তাঁর মনে থাকবে অন্য কোনো কারণে।

রাত ১টার দিকে শেষ হয় খেলা, তবে গরম তখনো কমেনি। ম্যাচের পর ফেদেরার বলেন, ‘মনে হচ্ছিল আমি শ্বাস নিতে পারছিলাম না। বাতাস একদমই বইছিল না। একটা পর্যায়ে আমারও মনে হচ্ছিল যে ম্যাচটা শেষ হলেই বেঁচে যাই।’ অন্যদিকে ফেদেরারকে হারিয়ে খানিকটা অপরাধবোধেই ভুগছেন মিলম্যান, ‘আমার খানিকটা খারাপই লাগছে। কারণ সে (ফেদেরার) কোনোভাবেই তার সেরা পরিস্থিতিতে ছিল না। তাকে হারাতে আসলে আমার একটা ভালো দিন ও তার একটা খারপ দিনই দরকার ছিল।’

মেয়েদের এককেও ছিটকে গেলেন মারিয়া শারাপোভা। স্পেনের কার্লা সুয়ারেস নাভারোর কাছে ৬-৪, ৬-২ গেমে হেরে বিদায় নিয়েছেন এ রুশ তারকা। হারের পর তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন কি না? শারাপোভার উত্তর, ‘কিশোরী বয়সে বাবার হাত ধরে অচেনা শহরে অল্প কিছু ডলার আর বড় একটা স্বপ্ন সম্বল করে আসাটাই ছিল সবচেয়ে কঠিন সময়। কারণ তখন জানতাম না সামনে কী আছে। আমার মনে হয়, আমি ক্যারিয়ারে অনেক পেয়েছি। নিজেকে পেশাগতভাবে আর মানুষ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি।’

ছেলেদের এককে কোয়ার্টার ফাইনালে রাফায়েল নাদাল খেলবেন ডমিনিক থিয়েমের বিপক্ষে, হুয়ান মার্তিন দেল পোত্রোর প্রতিপক্ষ জন ইসনার, মারিন সিলিচের সামনে কোই নিশিকোরি আর নোভাক জোকোভিচের সামনে ফেদেরারকে হারিয়ে আসা মিলম্যান। এএফপি



মন্তব্য