kalerkantho


নেপালকে হারিয়ে পাকিস্তানের চমক

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



নেপালকে হারিয়ে পাকিস্তানের চমক

ক্রীড়া প্রতিবেদক : রক্ষণে দৃঢ়তা দেখিয়ে ম্যাচটা পাকিস্তান জিততে চলেছে—এমন যখন ভাবা হচ্ছিল তখনই সমতা ফেরায় নেপাল। ম্যাচের তখন মিনিট আটেক বাকি। বালগোপাল মহাজনের দল কাক্ষিত গোলটা পেয়ে আরো বেশি আক্রমণাত্মক। ৮২ মিনিট এগিয়ে থেকে পাকিস্তানিরা শেষ বেলায় নৌকা ডোবাবে নাকি! কিন্তু না, অতিরিক্ত সময়ে আরেকটা তীব্র বাঁক নিল সাফের উদ্বোধনী ম্যাচ। সেই বাঁকেই গতিপথ চূড়ান্ত। তিন বছর আন্তর্জাতিক ফুটবলের বাইরে থাকা পাকিস্তানই ২-১ গোলের জয়ে সাফে পেল শুভ সূচনা।

বুক ভাঙল নেপালের। দক্ষিণ এশিয়ার অধরা শিরোপা জয়ের স্বপ্ন চোখে তারা ঢাকায় এসেছে। শুরুতেই তাতে প্রবল ঝাঁকুনি খেল। পাকিস্তানের কাছ থেকেই তা আসবে বোধ হয় ভাবতে পারেননি ঢাকাতেই বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপের শিরোপা জেতা কোচ বালগোপাল। পাকিস্তান আর সব দলের কাছে অচেনা হলেও তাদের কাছে তো তা হওয়ার কথা নয়। জাকার্তা এশিয়াডেও যে তারা হারের স্বাদ পেয়েছে ব্রাজিলিয়ান আন্তোনিও নগুয়েরার দলের কাছে। সেই অর্থে পাকিস্তান টানা দ্বিতীয় ম্যাচ হারাল কাল নেপালকে। নগুয়েরা নেপালিদের পুরো সমীহ রেখেই কাল দলকে খেলিয়েছেন। নেপালিরা পজেশননির্ভর আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে। ৬ ফুট ২ ইঞ্চি উচ্চতার জেস রহমানের নেতৃত্বে পাকিস্তান ডিফেন্স খুবই দক্ষতার সঙ্গে তা সামাল দিয়েছে। সুযোগে আক্রমণে উঠেছে নগুয়েরার দল থেকে। আর তা থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে হলেও শুরুতে গোল পেয়ে গেছে তারা। নেপালি অধিনায়ক বিরাজ মাহার্জন ডান দিক থেকে আসা একটি ক্রসে মোহাম্মদ রিয়াজকে সামলাতে গিয়ে ফাউল করে বসেন বক্সের মধ্যে। স্পট কিক থেকে হাসান বশির দলকে এগিয়ে দেওয়ার সুযোগ নষ্ট করেননি। সমতায় ফিরতে মরিয়া নেপাল এরপর বারবারই আটকাচ্ছিল অ্যাটাকিং থার্ডে। বিরতির আগে পাকিস্তানি গোলরক্ষক অসাধারণ এক সেভ করে লিড টিকিয়ে রাখেন। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে খুব কাছ থেকে ডাইভিং হেড নিয়েছিলেন সুজল শ্রেষ্ঠা; কিন্তু ইউসুফ বাটের গ্রিপে গেছে সেই বল। দ্বিতীয়ার্ধে সুজলের জোরালো ভলিতেও তাঁকে হারানো যায়নি।

সেট পিসে আসে নেপালের সমতা ফেরানো গোল। কর্নার থেকে উড়ে আসা বলে নিচু হেড নিয়ে সামনে ঠেলেন নিরাজন খারকা, বিমল ঘারতি সাইড ভলিতে সেই বল জালে জড়িয়ে দিয়েছেন। পাকিস্তানের ডিপ ডিফেন্স ভাঙতে এ ধরনের কিছুই চাইছিল নেপাল। তবে সমতায় ফেরার পর চাওয়াটা বাড়ে, জয়সূচক গোলের জন্য যখন তারা মরিয়া, তখনই কাউন্টার অ্যাটাকে মোহাম্মদ আলী ম্যাচ শেষ করে দিয়েছেন নিখুঁত এক হেড নিয়ে।



মন্তব্য