kalerkantho


তারুণ্যের জয়গানে শুরু বাংলাদেশের

৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



তারুণ্যের জয়গানে শুরু বাংলাদেশের

ছবি : মীর ফরিদ

সাফের প্রথম ম্যাচেই জেমি ডে প্রমাণ করলেন দম আর লড়াইয়ের মানসিকতাটাই আসল। অভিজ্ঞতার ঘাটতি তা দিয়েই পুরিয়ে নেওয়া যায়। দলে স্ট্রাইকারের অভাবের কথা কে না জানে। কিন্তু একটা দল হিসেবে খেললে জেতার তৃষ্ণাটা থাকলে সেই বাধাও কেমন পেরিয়ে যাওয়া যায়।

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : যেমনটা ভাবা হয়েছিল, প্রায় এশিয়ান গেমসে খেলা একাদশটাই নামালেন জেমি ডে। ফরোয়ার্ডত্রয়ী সাদউদ্দিন, বিপলু আহমেদ আর মাহবুবুর রহমান সুফিল। তাঁদের পেছনে প্লেমেকিংয়ের ভূমিকায় মাশুক। হোল্ডিংয়ে জামাল ভূঁইয়া ও আতিকুর রহমান। তারুণ্যের এ দলটার কাছেই খাবি খেল বছর দুয়েক আগে বাংলাদেশকে লজ্জা দেওয়া ভুটান।

সাফের প্রথম ম্যাচেই জেমি ডে প্রমাণ করলেন দম আর লড়াইয়ের মানসিকতাটাই আসল। অভিজ্ঞতার ঘাটতি তা দিয়েই পুরিয়ে নেওয়া যায়। দলে স্ট্রাইকারের অভাবের কথা কে না জানে। কিন্তু একটা দল হিসেবে খেললে জেতার তৃষ্ণাটা থাকলে সেই বাধাও কেমন পেরিয়ে যাওয়া যায়। মাহবুবুর রহমান সুফিল তো প্রথাগত স্ট্রাইকার নন। উইঙ্গার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করা তিনিই এখন কেমন গোলের চাহিদাটা পূরণ করে দিচ্ছেন। এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশের করা ৩ গোলের একটি তাঁর। কাল ভুটানের বিপক্ষেও করলেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গোলটি। ম্যাচ শেষে প্রতিপক্ষ কোচের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, ঠিক কোন জিনিসটা ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিয়েছে। তিনি বললেন সুফিলের ওই গোলের কথাটাই, বিরতির পর আমরা একটা ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে মাঠে নেমেছিলাম। কিন্তু সেভাবে শুরু করার আগেই ওই গোলটাতে দ্বিতীয়বার পিছিয়ে পড়াই ম্যাচ থেকে আমাদের একরকম ছিটকে দিয়েছে।’

আরামবাগ অধিনায়ক সুফিলের গোল মিস করারও দুর্নাম রয়েছে। তবে বলা হয় দারুণ পজিশন সেন্সের কারণে তিনি বেশি বল ‘মিট’ করেন বলেই সুযোগ নষ্ট করাটা বেশি চোখে পড়ে। কালও যেমন ওয়ান অন ওয়ানে চিপ করতে ভুলে গিয়ে মারলেন গোলরক্ষকের বুকে। আরো একবার বল পোস্টে রাখতে পারলেন না। তবে যে গোলটা করেছেন, সেটা মিস করলেও খুব বেশি হয়তো দায় দেওয়া যেত না তাঁকে। কিন্তু অসাধারণ ভলিটা ঠিক জালে পাঠালেন তিনি। সাইফুল বারী টিটুর অধীন আরামবাগে তাঁর ক্যারিয়ারের উন্মেষ। তা উইঙ্গার হিসেবেই। তাঁকে স্ট্রাইকার বানায় জাতীয় গত বছর অনূর্ধ্ব-১৯ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানেই প্রথম নাম্বার নাইন হিসেবে খেলা তাঁর। ৩ গোলে পিছিয়ে পড়ে ভারতকে যে ৪-৩ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ, তাতেও লক্ষ্যভেদ ছিল তাঁর। ওই টুর্নামেন্টে তেমন অসংখ্য গোলও মিস করেছেন তিনি।

সিনিয়র জাতীয় দলে এ স্ট্রাইকারই গোলের ভরসা হয়ে গেলেন তাঁর গতি ও পজিশন সেন্সের কারণে। সুযোগ মিসের মাঝে যে গতকালের মতো এমন অসাধারণ গোলও করতে পারেন তিনি। সাখাওয়াত রনির মতো তথাকথিত অভিজ্ঞ স্ট্রাইকারের বদলে জেমির বাজি তাই লেগে গেল শুরুর ম্যাচেই। এই অনেক কিছুতেই নতুনত্ব। ডিফেন্ডার তপু বর্মণ এমন অসাধারণ পেনাল্টি নেন কে জানত। তাঁর মূলত খ্যাতি কর্নার থেকে হেডে অসাধারণ গোল করায়। কাল ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি পাওয়ার পর তাঁকে কিক নেওয়ার প্রস্তুতি নিতে দেখাটা কিছুটা বিস্ময়েরই ছিল। কিন্তু জেমি নিশ্চিত জানেন এই সেন্টারব্যাক হতাশ করবেন না। তা-ই হয়েছে। রক্ষণকাজে পুরো ম্যাচে তেমন ভুল করেননি এ স্টপার। নাসিরউদ্দিন চৌধুরী সেন্টারব্যাক পজিশনে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন তপু ও বাদশার। সুযোগ পেয়ে দুজনই কাল কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন। ম্যাচ শেষে ভুটানের ইংলিশ কোচ ট্রেভর মরগানও স্বীকার করেছেন, ‘নিরেট ডিফেন্সের পাশাপাশি বাংলাদেশের ফরোয়ার্ডরাও গতিময় ফুটবল খেলে আমাদের বিপদে ফেলেছিল।’ ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে জেমির মুখজুড়ে জয়ের উচ্ছ্বাসের চেয়ে স্বস্তির হাসিটাই বেশি ফুটেছিল, ‘দারুণ খুশি আমি এই জয়ে। খেলোয়াড়রা প্রচুর পরিশ্রম করে খেলেছে। ম্যাচটা যেভাবে জিততে চেয়েছিলাম, সেটাই পেরেছি।’ দ্বিতীয় গোল করা সুফিলের প্রসঙ্গেও তৃপ্তি তাঁর কণ্ঠে, ‘খুব ভালো পারফরম্যান্স ছিল। প্রতিপক্ষ ডিফেন্সকে ত্রস্ত করে রেখেছিল, এটাই ছিল গুরুত্বপূর্ণ।’ একেবারে হিসাব মেলানো জয় যেন এটি। এই ধারাবাহিকতা ম্যাচগুলোতে না থাকলে সেটাই বরং হবে এখন বিস্ময়ের।

 



মন্তব্য