kalerkantho


আজ শুরু

প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের সামর্থ্যের পরীক্ষা

শাহজাহান কবির   

৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



প্রথম ম্যাচেই বাংলাদেশের সামর্থ্যের পরীক্ষা

ছবি : লুৎফর রহমান

বাংলাদেশের সাফ মিশন শুরু হচ্ছে কিছুটা নাটকীয় আবহে। যে ভুটানের কাছে হেরে ফুটবলাররা প্রায় আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হতে চলেছিলেন, সেই ভুটানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই আজ নতুন শুরুর স্বপ্ন দেখছেন তাঁরা। নতুন কোচ, নতুন দল নিয়ে শুরু হয়েছে আগেই। তবু এশিয়ান গেমসের পারফরম্যান্স যেন ‘প্রোমো’, আজ থেকেই দেখা যাবে সত্যিকারের ছবিটা।

গত তিন সাফে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশকে নিয়ে শিরোপাস্বপ্ন দেখার বিলাসিতা নেই আর। সাফ নিয়ে সাধারণের আগ্রহ দেখলেও সেটি টের পাওয়া যায়। বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামের সিংহভাগ টিকিট বাফুফে সৌজন্য হিসেবে বিলিয়ে দিয়েছে ক্লাব আর জেলা অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে। চার ভাগের এক ভাগ টিকিট নিয়ে স্টেডিয়ামের গেটে টুল পেতে বসে বিক্রেতারা। আজ বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচের আগেও সেই টিকিটের অনেকটাই কাল বিকেল পর্যন্ত অবিক্রীত। দক্ষিণ এশিয়ার বিশ্বকাপের উন্মাদনাও যেন ছুঁইছে না কাউকে। তবে এ দেশে এসব ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা আছে ভোজবাজির মতো দৃশ্যপট বদলে যাওয়ার। বাংলাদেশ-ভুটানের আজকের ম্যাচই ঘটাতে পারে দর্শক আগ্রহের অগ্ন্যুত্পাত! স্বাগতিকদের আশাজাগানিয়া নৈপুণ্যই ঢল নামাতে পারে বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে।

চার দলের গ্রুপ। তাই সেমিফাইনালে যাওয়ার সুযোগ থাকবে পরের দুই ম্যাচেও। কিন্তু ভুটানের বিপক্ষে আরেকটি অঘটন অবশ্য সেই বারুদে জল ঢেলে দিতে পারে। প্রতিপক্ষ ভুটানের চোখও শুরুর ম্যাচে। জেমি ডের স্বদেশি ট্রেভর মরগ্যান দলটির কোচ হিসেবে মুখিয়ে ভালো শুরুর জন্য, ‘সব দল পাঁচ দিনের মধ্যে তিনটি কঠিন ম্যাচ খেলবে। তাতে প্রথম ম্যাচটাই হেরে গেলে দুই ম্যাচে তা রিকভার করা সত্যি কঠিন হয়ে যাবে।’ স্বদেশি হলেও বাংলাদেশি কোচের চেয়ে মরগ্যানের প্রোফাইল খানিকটা ভারী, অন্তত এ অঞ্চলের অভিজ্ঞতার বিচারে তো বটেই।

ডে যখন বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছেন, প্রায় একই সময়ে ট্রেভর কোচ হয়েছেন ভুটানের। মালদ্বীপ ও মালয়েশিয়ার বিপক্ষে ৭-০ গোলের দুটি বড় হারে তাঁর যাত্রা শুরু। সেই অভিজ্ঞতায় গত পাঁচ মাসে দলটিকে কতটা বদলে দিতে পেরেছেন, তা দেখার অপেক্ষায় আছেন মরগ্যান নিজেই, ‘ওই দুই ম্যাচ হারের পর দলটিকে আমি একেবারে ঢেলে সাজিয়েছি। এখানে আসার আগে থাইল্যান্ডে আমরা সপ্তাহ দুয়েকের ক্যাম্প করেছি। সেখানে সব কিছু নিয়ে বিস্তারিত কাজ হয়েছে। তাতে সত্যিই দলটা কোন অবস্থানে এসে দাঁড়িয়েছে, তা জানতে সাফের চেয়ে ভালো মঞ্চ আর হয় না।’ বাংলাদেশকে হারানোর পর গত বছর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে পাঁচটি ম্যাচ খেলেছে ভুটান। তাতে মিশ্র অভিজ্ঞতা তাদের, কোনো ম্যাচে বড় হার, কোনোটিতে তারা লড়াই করেছে। মরগ্যানকে সঙ্গী করে এ বছর সাফে নতুন শুরু তাদেরও।

বাংলাদেশের কোচ জেমি ডে একটি বাজি খেলছেন এশিয়ান গেমসের তরুণ দলটিকে নিয়ে। এ ছাড়া অবশ্য বিকল্পও নেই তাঁর হাতে। পুরনো, জীর্ণকে ঝেড়ে ফেলেই নতুন বাংলাদেশের পরীক্ষা হয়েছে এশিয়াডে। মাহবুবুর রহমান, সাদ উদ্দিন, বিপলু আহমেদ, আতিকুর রহমান, মাশুকরাই এখন স্থানীয়দের মধ্যে সেরা পারফরমার। দলবদলের বাজারে তাঁদের নিয়েই হাঁক বেশি। জাতীয় দলে এই ধারা সঞ্চারিত হতে সময় নেয়নি। ২০১৬ সালে ভুটানের বিপক্ষে ৩-১ গোলে হারা ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করা ১৪ খেলোয়াড়ের ১০ জনই নেই সাফের দলে। অভিজ্ঞ যাঁরা আছেন সেই নাসিরউদ্দিন, তপু, মামুনুল, জামালরা দলটাকে আরো শক্ত গাঁথুনি দিয়েছেন। কোচের বিশ্বাস এশিয়াডের মতো একই রকম উপভোগের মন্ত্রে খেলতে পারলে সাফল্য আসবে সাফেও, ‘আমার প্রতিটি খেলোয়াড় দারুণ চাঙ্গা। মাঠে নিজেদের বিলিয়ে দিতে মুখিয়ে আছে। গত কয়েকটি মাস কঠিন পরিশ্রম করা, মাঠে নিজেদের ঢেলে দেওয়া—সব কিছুই করেছে তারা উপভোগের মন্ত্রে। আশা করি কাল (আজ) সাফটাও আমরা শুরু করব সেভাবে।’ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে নীলফামারীর ম্যাচের হার আমলেই নিচ্ছেন না তিনি, ‘ওটা স্রেফ প্রস্তুতি ম্যাচ ছিল। এশিয়াডে না খেলা খেলোয়াড়দের সুযোগ দিয়ে আমি আমার স্কোয়াডটা চূড়ান্ত করতে চেয়েছি। সেটা খুব ভালোভাবেই হয়েছে। আমি সত্যিকার অর্থেই বলছি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওই ম্যাচের হারটা আমাদের মধ্যে কোনো নেতিবাচক প্রভাবই ফেলবে না।’ আসলেও তাই, জেমির দলের মূল শক্তি শ্রীলঙ্কা সেদিন দেখেইনি বলতে গেলে। সাফে ভুটানের বিপক্ষে আজ নতুন করে উন্মোচিত হবে।

বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে আজ সেই ‘বিগ ম্যাচ’। যাঁরা জাতীয় দল থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন তাঁদের আবার জাগিয়ে তোলার এই ম্যাচ। জাকার্তায় কাতারকে হারানো, থাইল্যান্ডের সঙ্গে ড্রয়ে ফুটবলারদের মধ্যে সেই জাগরণ এসেছে বলেই ধরা হচ্ছে, আজ তা সাধারণে ছড়িয়ে দেওয়ার পালা। দুই ইংলিশ কোচের ট্যাকটিক্যাল লড়াইটাও দেখার অপেক্ষায় থাকা যেতে পারে। মরগ্যানও ভুটানের আগের দলের খোলনলচে বদলে ফেলেছেন। চেনচো গেলশেনের মতো দু-একজন ছাড়া তারাও তরুণ দল। সহজেই কেউ কাউকে হারিয়ে দেবে—এমনটা বলার অবকাশই নেই। জেমি নিজে অন্তত এই ব্যাপারে ভীষণ বাস্তববাদী, ‘ফাইনাল খেলব, চ্যাম্পিয়ন হব—এমন কোনো ভাবনাই আমার মধ্যে নেই। সে রকম কোনো প্রতিশ্রুতিও দিইনি। গ্রুপ পর্বটা পেরোনোই আমার প্রথম চ্যালেঞ্জ। এখানের তিনটি ম্যাচই নিচ্ছি ভীষণ গুরুত্বের সঙ্গে।’ ভুটান পার হলে পাকিস্তান, এরপর নেপাল। দলগুলোর সামর্থ্য বলছে বাংলাদেশকে সেমির টিকিট পেতে সবটুকু নিংড়ে দিতে হবে ফুটবলারদের।

 



মন্তব্য