kalerkantho


সোনা জিতে সেনায় যেতে হলো না

রাহেনুর ইসলাম , জাকার্তা থেকে   

২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০



সোনা জিতে সেনায় যেতে হলো না

ফাইনালে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতল রেকর্ড পঞ্চমবার। দক্ষিণ কোরিয়ার দুই গোলেরই কারিগর সন। ম্যাচ শেষে তাঁকে ঘিরে পুরো কোরিয়ান দল মাতে উৎসবে।

 

তিনি সোনা জিতেছেন। এর পরও মুখ ভার! কোনো উদ্যাপন নেই কিম উ জিনের। থমথমে মুখে এগিয়ে এসেছিলেন নিজেরই দেশের লি উ সিউকের দিকে। কাঁধে হাত দিয়ে জানাচ্ছিলেন সান্ত্বনা। কারণ আর্চারির রিকার্ভ ব্যক্তিগত ইভেন্টে সোনা জিততে না পারায় সিউক তীর-ধনুক ফেলে চলে যাবেন দক্ষিণ কোরিয়ার সেনা ব্যারাকে। কাটাতে হবে ২১ মাস।

একই শঙ্কা নিয়ে জাকার্তা এসেছিলেন সন ইউং মিন। সোনা না জিতলে লন্ডনের আলো ঝলমলে জীবন ছেড়ে যোগ দিতে হতো সেনাবাহিনীতে। পাকানসারি স্টেডিয়ামের দর্শকরাও চাননি সেটা। তাঁর পায়ে বল গেলেই করতালিতে উৎসাহ জুগিয়েছেন সবাই। ক্যারিয়ারের বাঁকবদলের সেই ম্যাচে শেষ হাসি সনের দক্ষিণ কোরিয়ার। অতিরিক্ত সময়ে গড়ানো ফাইনালে জাপানকে ২-১ গোলে হারিয়ে এশিয়ান গেমসে সোনা জিতল রেকর্ড পঞ্চমবার। দক্ষিণ কোরিয়ার দুই গোলেরই কারিগর সন। ম্যাচ শেষে তাঁকে ঘিরে পুরো কোরিয়ান দল মাতে উৎসবে। বুক থেকে পাথর নামার স্বস্তি তাতে। কারণ দুই বছর ব্যারাকে কাটিয়ে ফিরলে ফুটবলেই ধরত মরচে।

ম্যাচ শেষের মিনিটখানেক আগে মাঠ ছেড়েছিলেন সন। শেষ বাঁশি বাজতেই মাঠে ঢুকলেন দুহাত দুদিকে ছড়িয়ে। তাঁর দৌড়ে মিশে জীবনের জয়গান। একে একে সতীর্থদের তুলে নিচ্ছিলেন কাঁধে। তাঁদের কীর্তিতেই যে ফুটবল ক্যারিয়ারে পেলেন ‘লাইফলাইন’। সঙ্গে দলের বাকিরাও। দক্ষিণ কোরিয়ার আইন অনুযায়ী সুস্থ যেকোনো পুরুষকে বয়স ২৮ হওয়ার আগে অন্তত ২১ মাস কাটাতে হবে সেনা ব্যারাকে। এশিয়ান গেমসে সোনা আর অলিম্পিক পদকজয়ীরা ছাড় পান শুধু। জাকার্তায় সোনা জিতে মুক্তি মিলল সনসহ পুরো ফুটবল দলের।

সময়ের অন্যতম সেরা উইঙ্গার ধরা হয় সনকে। গত বিশ্বকাপেও করেছেন দুই গোল। এর একটি জার্মানির বিপক্ষে। টটেনহাম পাঁচ বছর চুক্তির মেয়াদও বাড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার এই ফুটবলারের সঙ্গে। কোরিয়া সোনা না জিতলে কাটাছেঁড়া হতো তাতে। ইংলিশ মিডিয়ায় গুঞ্জন, সনকে ধারে কোনো ক্লাবে পাঠিয়ে কমানো হতো বেতনের চাপ! পেশাদার দুনিয়া এমনই নির্মম, চোখের মণি চোখের বালি হয়ে যায় মুহূর্তে। টটেনহাম ম্যানেজার মরিসিও পচেত্তিনো কি ফাইনালের আগে শুভ কামনা জানিয়েছিলেন প্রিয় খেলোয়াড়টিকে? না, চাপ বাড়াতে চাননি তিনি, ‘শুভ কামনা জানাইনি ওকে। আমার ফোনে কারো ওপর চাপ বাড়ুক চাইনি। আমার বিশ্বাস জিতবে কোরিয়া।’ জয় হয়েছে সেই বিশ্বাসেরই।

ষষ্ঠ মিনিটে হি চান পেয়েছিলেন সেরা সুযোগটা। সনের পাস থেকে হুয়াং ইনবিয়মের ক্রসে শুধু পা ছোঁয়াতে পারলেই হতো। কিন্তু পারেননি সেটাই। তবে যোগ্য নেতা হয়েই সন পিঠ চাপড়ে দিয়েছিলেন সতীর্থটির। খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়ানোর পর প্রথম মিনিটেই জাপানের রক্ষণের ভুলে বল পেয়ে যান সন। চিতার গতিতে পোস্টে ঢুকে নিলেন শট। পোস্ট ঘেঁষে অল্পের জন্য গেল বাইরে দিয়ে। ৯৩ মিনিটে আর দুর্ভাগ্য নয়। ডি বক্সে সন কাটাতে চাইছিলেন সামনে থাকা ডিফেন্ডারদের। তাঁর টোকায় বল সামনে গিয়েছিল কিছুটা। বুলেট শটে লি শিংউড বল জড়ালেন জালে। বুক থেকে পাথর নামল যেন। ২০ বছরের এই তরুণের গোলেই দক্ষিণ কোরিয়ার মনে ফেরে স্বস্তি। এরপর সনের নেওয়া কর্নারে লাফিয়ে নেওয়া হেডে দ্বিতীয় গোল হুয়াং হি চেনের। কোরিয়ান দলের সবার সেনাবাহিনীর কঠিন জীবন থেকে মুক্তিও নিশ্চিত হয়ে যায় তাতে। ১১৫ মিনিটে উয়েদা আয়াসের হেডে জাপান এক গোল ফেরালেও সমতা আনতে পারেনি আর। 

এর আগে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ভিয়েতনামকে টাইব্রেকারে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছে আরব আমিরাত। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতা ছিল ম্যাচটিতে। মেয়েদের ফুটবলে চীনকে ১-০ গোলে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে জাপান। সবচেয়ে বেশি ১২ গোল চীনের ওয়াং শানসানের। কাজাখস্তানের বিপক্ষে একাই করেছিলেন ৯ গোল। হ্যাটট্রিকের হ্যাটট্রিক আবার বদলি হয়ে নেমে!

 

 



মন্তব্য