kalerkantho



ইতিহাস গড়ে গর্বিত জামাল-জেমি

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : বাংলাদেশ, বাংলাদেশ, বাংলাদেশ—বেকাসির প্যাট্রিয়ট চন্দ্রভাগা স্টেডিয়ামে দেশের নাম ধরেই চলছিল ফুটবলারদের গলা ছেড়ে গান। কোনো মিউজিক নেই, একটাই শব্দ; কিন্তু কত মধুর হয়েই না বাজছিল কানে! একটা জয়ে নতুন ইতিহাস বাংলাদেশের ফুটবলে। প্রথমবারের মতো তারা এখন এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে। সংবাদ সম্মেলনেও থাকল এর রেশ। প্রথমে এসেছিলেন কোচ জেমি ডে আর অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া। এরপর ওয়ালি ফয়সাল, নাসিরসহ দলের আরো পাঁচ-ছয়জন ঢুকে পড়লেন সংবাদ সম্মেলনে। এসেই ‘বাংলাদেশ’, ‘বাংলাদেশ’ স্লোগান তাঁদের। এভাবে আসা বারণ; কিন্তু কে শোনে কার কথা। বিশ্বকাপ জিতে ফরাসি খেলোয়াড়রা মেতেছিলেন এর চেয়ে বেশি উল্লাসে। দিদিয়ের দেশমকে শ্যাম্পেনে সিক্ত করে নেচে-গেয়ে মাতিয়েছিলেন পল পগবারা। বাংলাদেশ বিশ্বকাপ জেতেনি; কিন্তু ২০২২ বিশ্বকাপের আয়োজক কাতারকে হারিয়ে এমন কিছু করতেই পারে! চন্দ্রভাগা স্টেডিয়ামজুড়ে তাই উৎসবের আবহ। 

কাতারকে ১-০ গোলে হারানোটাকে ঐতিহাসিক বললেন কোচ জেমি ডে, ‘বাংলাদেশ কখনো এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে পৌঁছেনি। এটা ঐতিহাসিক। আমি আর পুরো দল গর্বিত। বাংলাদেশের মানুষও গর্ব করবে ছেলেদের নিয়ে।’ প্রথম রাউন্ডের বাধা পেরিয়ে এখন কি আরো অনেক দূর যেতে চান? জেমি ডে জানাচ্ছেন, ‘আমাদের মাথায় এখন দ্বিতীয় রাউন্ড নেই। কার সঙ্গে খেলব, কিভাবে খেলব এসব মাথায় আনছি না। দ্বিতীয় রাউন্ডে যাই হোক না কেন, এটাই আমাদের অনেক প্রাপ্তি। এখন শুধু উৎসবের সময়। ছেলেরা কঠিন পরিশ্রম করেছে। এর ফল পেয়েছে এই ম্যাচে। অনেকে অনেক কথা বলেছে, আমরা এর জবাব দিয়েছি। এই দল এখন অনেক আত্মবিশ্বাসী।’

কোচ কখনো কঠোর আবার প্রয়োজনে বন্ধুর মতোই মিশে যান খেলোয়াড়দের সঙ্গে। এরই প্রমাণ সংবাদ সম্মেলনে হুট করে ঢুকে পড়া খেলোয়াড়দের গান ‘জিমি জিমি জিমি, আযা আযা আযা!’ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়াও কৃতিত্ব দিচ্ছেন জেমি ডেকে, ‘ড্রেসিংরুমে জেমি বলছিলেন কাতারের টাকা আছে, আমাদের আছে পরিশ্রম। তিনি উৎসাহিত করেছেন ভীষণভাবে।’ জামাল কৃতিত্ব দিলেন পুরো দলকে, ‘এটা পুরো দলের ফল। গোলটা উৎসর্গ করছি বাংলাদেশকে।’



মন্তব্য