kalerkantho



কাবাডিতে পদক জয়ের স্বপ্ন শেষ!

২০ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



কাবাডিতে পদক জয়ের স্বপ্ন শেষ!

বেকাসির গারুদা থিয়েটারে চাইনিজ তাইপের কাছে শাহনাজ পারভিন মালেকারা দাঁড়াতেই পারলেন না। হারলেন ২৮-৪৩ পয়েন্টে। অথচ গ্রুপে সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছিল চাইনিজ তাইপেকেই।

জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : ২০১৬ এসএ গেমসের পর থেকে কাবাডির কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। আড়াই বছরের বেশি সময় না খেলে যে মরচে পড়েছে, সেটা বোঝা গেল প্রথম ম্যাচেই। বেকাসির গারুদা থিয়েটারে চাইনিজ তাইপের কাছে শাহনাজ পারভিন মালেকারা দাঁড়াতেই পারলেন না। হারলেন ২৮-৪৩ পয়েন্টে। অথচ গ্রুপে সবচেয়ে সহজ প্রতিপক্ষ ভাবা হচ্ছিল চাইনিজ তাইপেকেই। সেই দলের কাছে হারার পর নির্বাক হয়ে পড়েছিলেন কোচ আব্দুল জলিল। একই ভেন্যুতে গতকাল ছেলেদের দল মুখোমুখি হয় শক্তিশালী ভারতের। হারটাই ছিল নিয়তি। শেষ পর্যন্ত হারের ব্যবধান ২১-৫০। সব মিলিয়ে সম্ভাবনার কাবাডিতে শুরুটা হলো বিপর্যয় দিয়ে।

গত দুই আসরে কাবাডির ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশের মেয়েরা। এবারও সেই লক্ষ্য নিয়েই এসেছে জাকার্তায়। সহজ প্রতিপক্ষ চাইনিজ তাইপেকে হারিয়ে বাড়াতে চেয়েছিল আত্মবিশ্বাস। সেই ম্যাচেই কিনা বিধ্বস্ত মালেকা, শারমিনরা। বিরতির আগে স্কোর ছিল ১৬-২৩। দুই দলের লোনা সমান ২টি। ম্যাচ শেষে তাই কোচ জলিলের আফসোস, ‘এবার হয়তো প্রথম ম্যাচেই পদক হারালাম। আসলে ওরা টানা আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে ৭-৮টা। আর আমরা দুই বছরের বেশি সময় হলো ম্যাচই পাইনি। ইরান ও দক্ষিণ কোরিয়া আরো শক্তিশালী দল। খুব কঠিন হবে ওদের হারানো।’

বিরতির পর একের পর এক বোনাস পয়েন্ট তুলে নিয়ে প্রথম দেখাতেই বাংলাদেশকে হারিয়ে পদক জয়ের স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছে চাইনিজ তাইপে। দুই দলের লড়াইয়ে অনেক কিছুই স্পষ্ট হয়েছে। বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়দের বয়স যেখানে ২০ থেকে ৩৩, সেখানে চাইনিজ তাইপের ১৯-২০ বছর। ফিটনেসের পার্থক্যও চোখে পড়ার মতো। লাল-সবুজদের পারফরম্যান্স দেখে হতাশ ভারত কাবাডি ফেডারেশনের টেকনিক্যাল ডিরেক্টর প্রসাদ রাও, ‘তোমাদের প্লেয়ারদের গড় বয়স অনেক বেশি। ফিটনেসেও পিছিয়ে। পুরনো নিয়মেই আটকে আছে বাংলাদেশ। এভাবে চলতে থাকলে একটা সময় কাবাডি থেকে হারিয়ে যেতে হবে।’

প্রতিপক্ষ হিসেবে চাইনিজ তাইপে পুরোপুরি অচেনা ছিল বাংলাদেশের কাছে। তবু আত্মবিশ্বাসী ছিলেন মালেকারা। কিন্তু গত এশিয়ান গেমসে ছয় দলের মধ্যে ষষ্ঠ হওয়া দলটি যে কী পরিমাণ উন্নতি করেছে, সেটা কল্পনাও করতে পারেনি লাল-সবুজরা। গত এশিয়ান গেমসে ব্রোঞ্জ পদক জয় করা বাংলাদেশের ওপর আধিপত্য ধরে রেখেই ম্যাচ জিতে নেয় তাইপে। রেইডিং-ক্যাচিংয়ে অসামান্য দক্ষতা দেখিয়েছে তারা। ম্যাচ শেষে একরাশ হতাশা নিয়েই আব্দুল জলিল জানালেন, ‘জয়ের আশা নিয়েই এখানে এসেছিলাম; কিন্তু সেটা হয়নি। আসলে আমরা যতটা উন্নতি করেছি, এর চেয়ে অনেক বেশি উন্নতি করেছে চাইনিজ তাইপে।’

ছেলেদের ম্যাচে বাংলাদেশ বিরতির আগে পিছিয়ে ছিল ১২-২০ পয়েন্টে। একটা পর্যায়ে ব্যবধান দাঁড়ায় ১৫-২৫। বাংলাদেশকে সেখানেই আটকে রেখে ভারত স্কোর করে ফেলে ১৫-৪৫! শেষ পর্যন্ত ম্যাচ শেষ ভারতের দাপুটে জয় ৫০-২১ ব্যবধানে। এমন পারফরম্যান্সে হতাশ অধিনায়ক মাসুদ করিম ‘ভারতের সঙ্গে আমরা পারব না জানতাম। এর পরও আমাদের স্কোর আরোও ভালো হওয়া উচিত ছিল।’ পরের ম্যাচগুলোয় এই ব্যর্থতা পেছনে ফেলতেই খেলবে বাংলাদেশ।



মন্তব্য