kalerkantho


স্বপ্নদুয়ার খুলতে চায় বাংলাদেশ

১৯ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



স্বপ্নদুয়ার খুলতে চায় বাংলাদেশ

বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে দূরতম কল্পনায় ছিল না কারো। সেই স্বপ্নই সত্য হয়ে উঠতে পারে। আজ কাতারকে হারালেই মিলতে পারে প্রথমবার এশিয়ান গেমসে নক আউটে খেলার টিকিট।

টিকিট বাতিলের খোঁজ করছেন নাকি? প্রশ্নটা শুনতেই হেসে উঠলেন বাংলাদেশ ফুটবল দলের টিম লিডার শওকত আলী খান জাহাঙ্গীর, ‘আমরা এখন ফাইনালের তারিখ ২৯ আগস্ট পর্যন্ত হোটেল বুক করে ফেলেছি!’

জাকার্তা আসার আগে ২১ আগস্টের ফিরতি টিকিট কাটা ছিল ফুটবল দলের। অথচ নক আউট পর্ব শুরু এর পরে। বাংলাদেশ ইতিহাস গড়ে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে দূরতম কল্পনায় ছিল না কারো। সেই স্বপ্নই সত্য হয়ে উঠতে পারে। আজ কাতারকে হারালেই মিলতে পারে প্রথমবার এশিয়ান গেমসে নক আউটে খেলার টিকিট। স্বপ্নদুয়ারের এতটা কাছে থেকে খালি হাতে ফিরতে চান না কোচ জেমি ডে। কাতার শক্তিতে এগিয়ে থাকলেও ভয়ের কিছু দেখছেন না তিনি, ‘আমি আশাবাদী। এই ছেলেরা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে দারুণ খেলায় আত্মবিশ্বাসী হয়ে উঠেছে। সবাই পরের রাউন্ডে খেলতে প্রত্যয়ী। উজবেকিস্তানের কাছে কাতারের ৬ গোল খাওয়া বাড়িয়েছে বিশ্বাস। তবে কাতারকে ছোট করে দেখার কিছু নেই। ওরা আমাদের চেয়ে অনেক এগিয়ে।’

বাংলাদেশ ও কাতার উঠেছে বেকাসির একই হোটেল অ্যালিসনে। বাংলাদেশ অনুশীলন সেরে ফেরার পর টিম বাসে করে স্টেডিয়ামে যাচ্ছিলেন কাতারের ফুটবলাররা। গাড়িতে ওঠার আগে এক খেলোয়াড়ের জন্মদিন উদ্‌যাপনে ‘হ্যাপি বার্থ ডে’ বলে করতালি চলল কিছুক্ষণ। সেখানেই কোচ উনাই ম্যালগোসা প্রশংসাই করলেন জামাল ভুঁইয়াদের খেলার, ‘থাইল্যান্ডের সঙ্গে খুব ভালো খেলেছে বাংলাদেশ। আমাদেরও কিন্তু সুযোগ আছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার। আমরা জেতার জন্যই খেলব।’

বাংলাদেশের ঝিমিয়ে পড়া ফুটবলকে জাগাতেই দরকার বড় একটা সাফল্য। সেই স্বপ্নদুয়ারের খুব কাছে বাংলাদেশ। আজ একটি জয় কিংবা ড্রতেও সম্ভব পরের রাউন্ডে যাওয়া। দুই ম্যাচ শেষে ৬ পয়েন্ট নিয়ে পরের রাউন্ডের টিকিট নিশ্চিত উজবেকিস্তানের। থাইল্যান্ডের পয়েন্ট ২। বাংলাদেশ ও কাতারের সমান ১। আজ উজবেকিস্তান বড় ব্যবধানে থাইল্যান্ডকে হারালে বাংলাদেশের কাজটা সহজ হবে আরো। তখন কাতারের সঙ্গে ড্র করেও সম্ভব পরের রাউন্ডে যাওয়া। কারণ গোল গড়ে কাতারের চেয়ে এগিয়ে জামাল ভুঁইয়ার দল। অধিনায়ক জামাল তাই কষছেন পরের রাউন্ডের ছক, ‘আমাদের দলের তরুণরাই ভরসা দিচ্ছে। দল কাউন্টার অ্যাটাকে ভালো খেলছে, কারণ দ্রুতগতির কয়েকজন তরুণ এসে গেছে দলে। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে কোচ যেসব জায়গা ব্লক করে খেলতে বলেছিল, আমরা সেটা করেছি। দুর্ভাগ্যে একটা গোল খেয়েছি শেষ দিকে।’

ভুল বলছেন না জামাল। বাংলাদেশের ফুটবলারদের টানা ৬-৭টা পাস খেলতে না পারার অভিযোগ পুরনো। সেখান থেকে বের করে আনার চেষ্টা করছেন আতিকুর রহমান, মাহবুবুর রহমান সুফিল, বিশ্বনাথ ঘোষ, সাদ উদ্দিন, বিপলু আহমেদরা। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে খারাপ খেললেও গোলবন্যায় ভেসে যায়নি দল। র‍্যাংকিংয়ে ৭২ ধাপ এগিয়ে থাকা থাইল্যান্ডের বিপক্ষে শরীরী ভাষায় ছিল প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ। ফিনিশিংয়ের অভাব থাকলেও অ্যাটাকিং থার্ডে আত্মবিশ্বাস আর রক্ষণ দেয়াল ভাঙার চেষ্টা ছিল চোখে পড়ার মতো। বিরতির আগে দুটি সহজ সুযোগ তৈরি হয়েছে তাতে। দুটিই মিস করেছেন মাহবুবুর রহমান সুফিল। তবে আজ এমন সুযোগ পেলে আর হাতছাড়া করতে চান না তিনি, ‘আমার উচিত ছিল গোল দুটি করা। তাহলে দল জিততে পারত। এমন সুযোগ আবারও পেলে আর মিস করতে চাই না।’

এ জেদটাই শক্তি বাংলাদেশের তরুণদের। গত বছরের অনূর্ধ্ব-১৮ সাফে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের স্মৃতি ফিকে হয়ে যাওয়ার কথা নয়। তিন গোলে পিছিয়ে পড়েও বাংলাদেশ জিতেছিল ৪-৩ ব্যবধানে। রূপকথা রীতিমতো। সেই দলেরই কয়েকজন খেলেছেন গত মার্চে লাওসের বিপক্ষে। সেবারও পিছিয়ে পড়ে ২-২ ড্র। লক্ষ্য ভেদ করেছিলেন এশিয়ান গেমসে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মূল্যবান গোলটি করা মাহবুবুর রহমান সুফিল। এমনকি জাতীয় দল জয় না পেলেও গত বছর অনূর্ধ্ব-১৬ ফুটবলে কাতারকে হারানোর সুখস্মৃতি আছে বাংলাদেশের। সেটাও কাতারের মাঠে। জাতীয় দল তিনবার মুখোমুখি হয়ে হেরেছে দুটিতে আর ড্র এক ম্যাচে। সেই ড্রও আবার ১৯৭৯ সালের এএফসি এশিয়ান কাপে। তবে বর্তমান তারুণ্যনির্ভর দলটা হারার আগে হারতে চায় না বলে কোচ জেমি ডে আশাবাদী শিষ্যদের নিয়ে, ‘কেউ আর বলতে পারবে না আমরা লড়াই করি না। থাইল্যান্ডের সঙ্গে লড়াই করেছি। এবার সর্বোচ্চ দিয়ে খেলব কাতারের সঙ্গে।’

থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র না হলে অঙ্কটা সহজ হতো বাংলাদেশের জন্য। সেটা হয়নি গোলরক্ষক আশরাফুল ইসলামের ভুলে। দায়টা নিয়ে আজ নিজেকে উজাড় করে খেলার কথা জানালেন তিনি, ‘সব ভুলে আজ গোলপোস্টে পারলে প্রাচীর তুলে ফেলব আমি। আমরা আগে গোলের সুযোগ তৈরি করতে পারতাম না সেভাবে। এখন তরুণরা সেটা করছে। সুফিল, বিপলুদের গতি দুর্দান্ত। এই ছেলেরাই ঠিক কক্ষে ফেরাতে পারবে বাংলাদেশকে।’

বহু আগে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বলে গিয়েছিলেন, ‘ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।’ বাংলাদেশের এই নবীনরাই টেনে তুলতে পারে ডুবতে বসা ফুটবলকে। এ জন্য দরকার স্মরণীয় একটা কিছু, যা হয়ে যেতে পারে আজই।



মন্তব্য