kalerkantho


উদ্বোধনের অপেক্ষায়

রোমাঞ্চ নিয়ে অভিষেকের অপেক্ষায় ১০ খেলা

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



রোমাঞ্চ নিয়ে অভিষেকের অপেক্ষায় ১০ খেলা

জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : সাজ সাজ রব জাকার্তাজুড়ে। বিমানবন্দরে নেমেই মনে হবে উৎসবের দেশে এসে পড়েছি। পুরো সুকর্ণ হাত্তা বিমানবন্দর ছেয়ে গেছে এশিয়ান গেমসের ব্যানারে। সেখান থেকে সামনে যতই ট্যাক্সি এগোয় গেমসের ব্যানার বাড়তে থাকে তত।  গেলোরা বুং কার্নো স্টেডিয়ামের আশপাশজুড়ে খেলোয়াড়, ভলান্টিয়ার, দর্শনার্থী মিলে অন্য রকম পরিবেশ। এবারের ১৮তম এই এশিয়ান গেমসে প্রথম অন্তর্ভুক্ত হওয়া ১০টি খেলার খেলোয়াড়রাও অন্য সবার মতো মুখিয়ে নিজেদের মেলে ধরতে।

এমনিতে আয়োজক দেশ হিসেবে ইন্দোনেশিয়ার সামনে সুযোগ ছিল নতুন তিনটি খেলা অন্তর্ভুক্তির। সবার আগে তারা বেছে নিয়েছে ‘পেনকাক সিলাত’। এটা মার্শাল আর্টের এক ফরম্যাট। পথচলা শুরু সুমাত্রায়। স্থানীয় বিয়ের অনুষ্ঠানে পারফরমাররা পেনকাকের নানা কৌশলে মুগ্ধ করতেন দর্শনার্থীদের। এরপর ধীরে ধীরে ছড়িয়ে পড়ে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে। পাশের কয়েকটি দেশ মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড আর ভিয়েতনামেও জনপ্রিয় হয়ে ওঠে এটা। এবার জাকার্তা এশিয়ান গেমসে অভিষেকের অপেক্ষায় পেনকাক।

থ্রি অন থ্রি বাস্কেটবলও রোমাঞ্চ নিয়ে অপেক্ষায় আছে এই গেমসে অভিষেকের। সাধারণত রাস্তায় মজা করে তরুণরা খেলে থ্রি অন থ্রি। সেখান থেকেই এশিয়ান গেমসের মঞ্চে। বাস্কেটবলের সাধারণ নিয়মের চেয়ে পুরো আলাদা এই ফরম্যাট। ৪০ মিনিটের বদলে ১০ মিনিটে সীমাবব্ধ থ্রি অন থ্রির ব্যাপ্তি। কোর্টে খেলতে পারেন তিনজন আর বেঞ্চে থাকবেন একজন। বদলি হয়ে নামতে পারবেন তিনি। কোচ খেলোয়াড়দের ইশারা দেবেন গ্যালারিতে বসে। ভিয়েতনামের দানাংয়ে বিচ গেমসে আন্তর্জাতিক অভিষেক হয়ে গেছে থ্রি অন থ্রির। সেখানে অংশ নিয়েছিল বাংলাদেশও। দেশ-বিদেশের কয়েকটি টুর্নামেন্ট খেলা হয়ে গেছে বাংলাদেশ দলের। কীর্তি আছে চীনকে হারানোরও। বাস্কেটবল ফেডারেশন বিজয় দিবস ও জাতীয় দিবসে আয়োজন করে থ্রি অন থ্রি। তাই খেলাটা অপ্রচলিত নয় বাংলাদেশে। এশিয়ান গেমসে খেলতে এসেছেন সাইফুল ইসলাম, মিঠুন কুমার বিশ্বাস, নাইমুর রহমান ও তারেক আজিজ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে চায়নিজ তাইপে, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়া ও কাজাখস্তান।

নতুন অন্তর্ভুক্ত আরেক খেলা ব্রিজেও আছে বাংলাদেশ। গত বছর অক্টোবরে ব্রিজ বিশ্বকাপে খেলেছিল বাংলাদেশ। গত বছর জাকার্তায় অংশ নেয় টেস্ট টু এশিয়ান গেমস ব্রিজে। বাংলাদেশের প্রণব কুমার সাহা ও বাহার-এ আলম জুটি পৌঁছেছিলেন সেমিফাইনালে। তাতে সুযোগ আসে এশিয়ান গেমসে খেলারও। কিন্তু অবিশ্বাস্যভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে প্রণব ও আলম জুটিকেই! এশিয়ান গেমসের আগে উন্মুক্ত ট্রায়ালে অংশ নেননি বলেই নেই তাঁরা। লাল-সবুজের প্রতিনিধি হয়ে অংশ নিচ্ছেন এম এ বনি আমিন, দেওয়ান মোহাম্মদ হানজালা, মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন, সাঈদ আহমেদ ও নুরুল হুদা শামসুজ্জামান। শ্যুটিং, আর্চারি, কাবাডি নিয়ে আশা করলেও এশিয়ান গেমসে প্রথমবার পা রাখতে চলা ব্রিজেও চমকে দিতে পারে বাংলাদেশ।

এ ছাড়া প্রথমবার এশিয়ান গেমসে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে রোলার স্পোর্টস স্কেটবোর্ডিং অ্যান্ড রোলারস্কেটিং, সামবো, কুরাশ, জিউ জিত্সু, জেটস্কি, রক ক্লাইম্বিং ও প্যারাগ্লাইডিং। এই ইভেন্টগুলোতে নেই বাংলাদেশ। রোলার স্পোর্টসে সব সময়ই নিজেদের স্কিল তুলে ধরে তরুণরা। সামবো হচ্ছে ভেঙে যাওয়া সোভিয়েত ইউনিয়নের মার্শাল আর্টের এক ফরম্যাট। উজবেকিস্তানে প্রসিদ্ধ হয় এটা। তেমনি উজবেকিস্তানে জনপ্রিয় মার্শাল আর্টের ‘কুরাশ’ও। একই খেলার ভিন্ন ফরম্যাট জিউ জিত্সু। এগুলোতে সোনা একরকম বরাদ্দ উজবেকিস্তানের। তবে পাল্লা দিতে পারে চীন ও দক্ষিণ কোরিয়া। রোমাঞ্চ নিয়ে সেই লড়াই দেখার অপেক্ষা এখন।



মন্তব্য