kalerkantho


কাতারকে হারানোর স্বপ্ন এখন

১৮ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



দুই ম্যাচ শেষে উজবেকিস্তানের পয়েন্ট ৬, থাইল্যান্ডের ২, বাংলাদেশ ও কাতারের সমান ১। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে হতে পারে রানার্স-আপ। এমনকি ড্র করলেও গোল গড়ে এগিয়ে থেকে হতে পারে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা।

 

জাকার্তা থেকে প্রতিনিধি : জিততে না পারার হতাশা আছে। এর পরও একটি ড্রতে বদলে গেছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ড্রর মূল্যবান ১ পয়েন্ট দেখাচ্ছে স্বপ্নও। শেষ ম্যাচে কাতারকে হারাতে পারলে রানার্স-আপ হওয়া একপ্রকার নিশ্চিত। তাহলেই মিলবে এশিয়ান গেমস ফুটবলে প্রথমবার নক আউট রাউন্ড খেলার টিকিট। অথচ বাংলাদেশ ফুটবল দলের দেশে ফেরার টিকিট কাটা আছে নক আউট শুরুর অগেই! গতকাল স্মরণ করিয়ে দিতেই হাসলেন সহকারী কোচ মাহবুব হোসেন রক্সি। এসব ভুলে কাতার ম্যাচ নিয়েই এখন ভাবছেন তিনি, ‘আমাদের চেয়ে থাইল্যান্ড অনেক এগিয়ে। ওদের হারানোর মতো জায়গায় ছিলাম আমরা। জিততে না পারলেও এক ড্রতে আত্মবিশ্বাস বেড়েছে সবার। এখন আমাদের লক্ষ্য কাতার। ওদের হারাতেই খেলব আমরা।’

 

দুই ম্যাচ শেষে উজবেকিস্তানের পয়েন্ট ৬, থাইল্যান্ডের ২, বাংলাদেশ ও কাতারের সমান ১। শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ জিতলে ৪ পয়েন্ট নিয়ে হতে পারে রানার্স-আপ। এমনকি ড্র করলেও গোল গড়ে এগিয়ে থেকে হতে পারে গ্রুপের দ্বিতীয় সেরা। কারণ বাংলাদেশ ০-৩ গোলে হেরেছিল উজবেকিস্তানের বিপক্ষে। সেই উজবেকিস্তান ৬-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে কাতারকে। থাইল্যান্ডেরও শক্তিশালী উজবেকিস্তানের সঙ্গে পেরে ওঠার কথা নয়। তাই মাহবুব হোসেন রক্সির স্বপ্ন, ‘নক আউটে খেলাটা বাড়াবাড়ি স্বপ্ন নয়। কারণ টুর্নামেন্টটা অনূর্ধ্ব-২৩ দলের। কাতারের প্রথম দুটি ম্যাচ দেখেছি, ওরা র‍্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকলেও ভয় পাওয়ার দল নয়। আমাদের কোনো ইনজুরি নেই, কার্ড সমস্যাও নেই। খেলোয়াড়দের বলেছি দুটি দিন অনুশীলন করে তৈরি হয়ে নিতে।’

আফসোস হয়ে আছে থাইল্যান্ডের বিপক্ষে মাহবুবুর রহমানের দুটি সহজ সুযোগ মিস। একবার তো গোলরক্ষককে একা পেয়েও পারেননি বল জালে জড়াতে। এ জন্য তাঁকে দোষ দিচ্ছেন না বাংলাদেশি কোচ জেমি ডে। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন শিষ্যটির, ‘আমি কাউকে দোষ দিচ্ছি না। ফুটবল কারো একার ঘাড়ে দোষ চাপানোর খেলা না। সবারই ভুল হয়। মাহবুবুরেরও হয়েছে। ও চেষ্টা করেছে কিন্তু পারেনি। ফরোয়ার্ডরা সব সময় গোলে চেষ্টা করলেই গোল পাবে এমন কথা নেই। আমরা জিততে চেয়েছিলাম। কাউকে দোষ দিচ্ছি না। আমার দলের সবাই নিজেদের সেরাটা খেলেছে। কাতার ও দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুশীলনের পর কঠোর পরিশ্রম করেছে ওরা।’

উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হারের ধকল কাটিয়ে উঠেছেন বাংলাদেশি খেলোয়াড়রা। এরপর থাইল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র। কাগজ-কলমে এখনো সম্ভব পরের রাউন্ডে যাওয়া। তাহলেই ইতিহাস। প্রথমবার এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলার গৌরব হবে তাতে। হাল ছাড়ছেন না কোচও, ‘প্রথম ম্যাচে আমরা ৩ গোলে হেরেছিলাম। কারণ উজবেকিস্তান আমাদের চেয়ে ট্যাকটিক্যালি এগিয়ে থাকা দল। থাইল্যান্ডও এগিয়ে থাকা গোছানো দল। আমরা আক্রমণের ঢেউ হয়তো তুলতে পারিনি। তবে ভালো খেলেছি। এখন কেউ আর বলতে পারবে না এই দল হারার জন্য মাঠে নামে। আমরা লড়াই করতে পারি, ভালোভাবে বুঝিয়েছি।’



মন্তব্য