kalerkantho


গোল আর উন্মাদনায় রোনালদোর শুরু

১৪ আগস্ট, ২০১৮ ০০:০০



প্রথম গোলের জন্য তাঁর সময় লেগেছে? ৮ মিনিটেরও কম! মাঠে সমর্থকদের ঢুকে পড়া সামাল দিতে না পেরে ২০ মিনিট বাকি থাকতেই শেষ বাঁশি বাজানো হয় ম্যাচের।

 

৯ বছর ধরে ছিলেন শুধুই ‘সাদা’। এ মৌসুম থেকে যোগ হয়ে গেল ‘কালো’ও। রিয়াল মাদ্রিদের সাদা জার্সি ছেড়ে জুভেন্টাসের সাদা-কালো জার্সিতে পরশু অভিষেক হয়ে গেল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। আর নতুন ক্লাবের হয়ে প্রথম গোলের জন্য তাঁর সময় লেগেছে? ৮ মিনিটেরও কম!

প্রতিযোগিতামূলক কোনো খেলা নয়। মৌসুমের শুরুতে প্রথা মেনে প্রীতি ম্যাচ জুভেন্টাসের অনূর্ধ্ব-১৯ দলের বিপক্ষে। সেই ১৯৫৫ সাল থেকে হয়ে আসা এ দ্বৈরথেই কাল জুভ জার্সি গায়ে পথচলা শুরু হয়ে গেল পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর। ম্যাচের অষ্টম মিনিটে দারুণ এক গোল করে সাদা-কালোয় অভিষেকটা রাঙিয়েও দেন রোনালদো। প্রিয় ক্লাবের জার্সি গায়ে এমন এক ফুটবলারের শুরু দেখার জন্য জুভ সমর্থকদের মুখিয়ে থাকাটাই স্বাভাবিক। সে উত্তেজনা আর রোমাঞ্চ সীমা ছাড়িয়ে যায় বলে তো ৯০ মিনিটের পুরোটা খেলা হতে পারেনি। মাঠে সমর্থকদের ঢুকে পড়া সামাল দিতে না পেরে ২০ মিনিট বাকি থাকতেই তড়িঘড়ি শেষ বাঁশি বাজানো হয় ম্যাচের।

জুভেন্টাসের আলিয়াঞ্জ স্টেডিয়ামে হয়নি ম্যাচটি। তুরিন শহর থেকে ৪০ কিলোমিটার বাইরে পাহাড়ের পাদদেশের ছোট্ট শহর ভিলার পেরোসায় হয়েছে তা। ক্লাবের মালিক আগনেল্লি পরিবারের নিজস্ব এলাকায় প্রতি মৌসুম শুরুর আগের শেষ ম্যাচটি হয়। ছোট্ট শহর; নিরাপত্তার তেমন বালাই নেই—মাঠের মধ্যে জুভেন্টাস সমর্থকদের ঢুকে পড়া ফি বছরেরই ঘটনা। আর এবার তো বাড়তি আকর্ষণ রোনালদো। তাঁকে ছুঁয়ে দেখা, তাঁর সঙ্গে ছবি তোলার লোভ সামলাতে পারবে কিভাবে সমর্থকরা! অমন এক ঘটনার পর আবার খেলা শুরু করা গিয়েছিল। রোনালদোর গোলের পাশাপাশি আত্মঘাতী এবং পাউলো দিবালার জোড়া গোলে ৪-০ ব্যবধানে এগিয়েও যায় জুভেন্টাস। বিরতির পর ক্লাউদিও মার্কিসিও দেন আরেক গোল। কিন্তু এর খানিকক্ষণ পর জনজোয়ার আর ঠেকানো যায়নি। বাধ্য হয়ে ম্যাচ পরিত্যক্ত ঘোষণা করতে বাধ্য হয় কর্তৃপক্ষ।

এমন প্রীতি ম্যাচের আবহ অবশ্য সামনের সপ্তাহ থেকে থাকছে না আর। শনিবার শিয়েভোর বিপক্ষে দ্বৈরথ দিয়ে সিরি ‘এ’-র শিরোপা ধরে রাখার মিশন শুরু হবে জুভেন্টাসের। নতুন ক্লাবের জার্সিতে সত্যিকারের অভিযান শুরু হবে রোনালদোরও। ইতালিয়ান লিগের সর্বশেষ ছয় শিরোপা জয়ী তুরিনের ক্লাবটির জন্য তা ধরে রাখা তত বড় চ্যালেঞ্জ না; যত বড় চ্যালেঞ্জ চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা। ১৯৯৫-৯৬ মৌসুমে সর্বশেষ ইউরোপসেরা হয়েছিল জুভ। রোনালদোকে দলে টেনে সেই ইউরোপসেরা হওয়ার চ্যালেঞ্জটা নিতে উন্মুখ জুভেন্টাস। কোচ মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি অবশ্য সর্বজয়ের লক্ষ্যই স্থির করেছেন, ‘অবশ্যই গেল বছরগুলোর তুলনায় এবার চ্যাম্পিয়নস লিগ জয়ের উচ্চাশা আরো বেশি। একই সঙ্গে জিততে চাই স্কুদেত্তো, ইতালিয়ান কাপ, ইতালিয়ান সুপার কাপও।’ তাতে তুরুপের তাস যে রোনালদো, সেটি না বললেও চলত কোচের। এই পর্তুগিজের দায়বদ্ধতার প্রশংসা আলেগ্রির কণ্ঠে, ‘আমাদের দলে অনেক অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছে রোনালদো। তরুণ ফুটবলারদের জন্য ও বাড়তি প্রেরণা। ও পাঁচ ব্যালন ডি’অর এমনি এমনিই জেতেনি। সে জন্য কী পরিশ্রম যে করে—তা আমাদের দেখাচ্ছে রোনালদো।’

আর শুধু রোনালদোর সংযোজনেই নয়, সামগ্রিকভাবেই জুভেন্টাসের উন্নতি হয়েছে বলে দাবি কোচ আলেগ্রির, ‘রোনালদো, এমরে কান, কানসেলো, স্পিনাসসোলা, বনুচ্চিরা আসায় দলে অভিজ্ঞতা বেড়েছে। অন্য যেকোনো বছরের চেয়ে এবার তাই অন্যদের হারানোর তাড়নাটা আমাদের বেশি।’ দলে একজন রোনালদো থাকায় প্রেরণাও অনেক বেশি নিঃসন্দেহে। ডেইলি মেইল



মন্তব্য