kalerkantho



আমার সমালোচনাটা বড্ড বেশি করা হয়েছে

২৩ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



আমার সমালোচনাটা বড্ড বেশি করা হয়েছে

বললেন নেইমার

হাঁটুর ওপর ছয় বছর বয়সী ছেলে ডেভি লুকাকে বসিয়ে নেইমার বলছিলেন, ‘আমি আর কখনোই ফুটবল খেলব না, বিশ্বকাপের পর এমনটা বলিনি কখনোই। তবে এটা ঠিক আমি কোনো ফুটবল চোখে পড়ুক এটা চাচ্ছিলাম না, এমনকি খেলাও দেখতে চাচ্ছিলাম না। আসলে আমি একটা শোকের ঘোরের ভেতর ছিলাম। তবে শোকও কেটে যায়। আমার ছেলে আছে, পরিবার আছে, বন্ধুরা আছে। তারা আমাকে সারাক্ষণ বিমর্ষ দেখতে চায় না। আমার দুঃখী হওয়ার চাইতে সুখী হওয়ার কারণ অনেক বেশি।’

 

পর পর দুটি বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত গন্তব্যে পৌঁছানোর আগেই ঝরে যাওয়া। কখনো প্রতিপক্ষের হাঁটুর আঘাত তো কখনো সতীর্থের আত্মঘাতী গোল। নেইমারের কাছে বিশ্বকাপ যেন দুঃসহ স্মৃতিরই নামান্তর। সব কোলাহল থেমে যাওয়ার পর শিশুদের সরলতার কাছেই আশ্রয় খুঁজে ফিরছেন নেইমার। নিজের ফুটবল অ্যাকাডেমিতে ফাইভ-এ-সাইড টুর্নামেন্ট দেখতে দেখতে বার্তা সংস্থা এএফপির সঙ্গে আলাপে মনের অনেক জানালাই খুলে দিয়েছেন এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। যেখানে উঠে এসেছে তাঁকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ-রসিকতার অংশটুকুও।

হাঁটুর ওপর ছয় বছর বয়সী ছেলে ডেভি লুকাকে বসিয়ে নেইমার বলছিলেন, ‘আমি আর কখনোই ফুটবল খেলব না, বিশ্বকাপের পর এমনটা বলিনি কখনোই। তবে এটা ঠিক আমি কোনো ফুটবল চোখে পড়ুক এটা চাচ্ছিলাম না, এমনকি খেলাও দেখতে চাচ্ছিলাম না। আসলে আমি একটা শোকের ঘোরের ভেতর ছিলাম। তবে শোকও কেটে যায়। আমার ছেলে আছে, পরিবার আছে, বন্ধুরা আছে। তারা আমাকে সারাক্ষণ বিমর্ষ দেখতে চায় না। আমার দুঃখী হওয়ার চাইতে সুখী হওয়ার কারণ অনেক বেশি।’ ইদানীং রিয়াল মাদ্রিদের সঙ্গে তাঁর নামটা যেভাবে জড়িয়ে যাচ্ছে, সাক্ষাৎকারে সে ব্যাপার নিয়েও মুখ খুলেছেন নেইমার, ‘এই সবই গণমাধ্যমের ধারণা। এই সব গল্প যারা বানিয়েছে, তারা আমার চাইতেও আমার সম্পর্কে বেশি জানে। আমি এ রকম প্রশ্নের কোনো উত্তর দিই না, কারণ কিছু হয় না।’

আকাশছোঁয়া দামে বার্সেলোনা থেকে গেলেন পিএসজিতে। সেই চাপটাই কি কাল হয়ে দাঁড়িয়েছিল বিশ্বকাপে? এমন প্রশ্নে নেইমারের উত্তর, ‘মোটেও না, চাপ সবাইকেই নিতে হয়। তবে এটা সত্যি যে যখন আমার বেলায় হয়, তখন প্রত্যাশাটা যেন বেড়ে দুই গুণ হয়ে যায়! আমি আমার এই দায়িত্ব নিয়ে সব সময়েই সচেতন। শুধু ব্রাজিল দলে নয়, যখন থেকে আমি ক্লাব ফুটবল খেলি, যখন বয়স ১৭, ১৮, তখন থেকেই। নিজেকে তৈরিই করেছি ওসব চাপ সামলানোর জন্য। আমি ভালো করেই জানি, প্রত্যাশিত ফলটা যখন হবে না তখন চাপটা বেশিই হবে।’ নাটুকেপনা নিয়েও নেইমারের ব্যাখ্যা, ‘আমার সমালোচনাটা বড্ড বেশি করা হয়েছে। যে ফাউলটা করছে, লোকে তার চাইতেও দ্রুততম সময়ে ফাউল করা নিয়ে কথাটা বলে বসে। আমি বিশ্বকাপে গিয়েছি খেলতে, শিরোপা জিততে, অন্যের লাথি খেতে নয়। আমিও তো কম বড় হইনি। এসব সামলাতে সামলাতে অভ্যস্ত হয়ে গেছি। আমি তো একই সঙ্গে রেফারি আর খেলোয়াড় হতে পারব না, তবে মাঝেমধ্যে মনে হয়েছে সেটা হলেই বোধহয় ভালো হতো।’

কদিন পর আবার পিএসজির হয়ে মাঠে ফেরা। এবারে নতুন কোচ, টমাস ট্যুশেল। তাঁর সম্পর্কে নেইমারের মূল্যায়ন, ‘সে খুবই চমৎকার একজন কোচ আর আশা করি তাঁর সঙ্গে দারুণ একটা মৌসুম কাটবে আমাদের। আমি খুবই মুখিয়ে আছি তাঁর সঙ্গে কাজ করতে।’ নতুন মৌসুমে নেইমার সতীর্থ হিসেবে পাবেন জিয়ানলুইজি বুফনকেও। এই কিংবদন্তি গোলরক্ষককে পেয়ে আরো নির্ভার নেইমার, ‘আমরা একজন কিংবদন্তিকে দলে পেয়েছি। আশা করছি আসছে মৌসুমে তিনি তাঁর সব অভিজ্ঞতা কাজে লাগাবেন আমাদের হয়ে।’ এএফপি



মন্তব্য