kalerkantho


ক্লপ উদ্বিগ্ন, পগবায় খুশি মরিনহো

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



দলবদল দিয়ে এর মধ্যেই শুরু হয়ে গেছে ক্লাব ফুটবলের উত্তেজনা। দলগুলো একে একে দেশ ছাড়ছে প্রাক-মৌসুম প্রস্তুতির জন্য। বিশ্বকাপ শেষে নতুন চ্যালেঞ্জ এখন কোচদের সামনে। বিশেষ করে যাঁদের খেলোয়াড়রা সেমিফাইনাল-ফাইনাল খেলেছেন। সেই খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই এখন ছুটিতে। ক্লাব মৌসুম খুব দ্রুত শুরু হয়ে যাচ্ছে। ইংলিশ লিগেরই যেমন প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াবে ১০ আগস্ট। সেমিফাইনালিস্ট-ফাইনালিস্টরা সপ্তাহ তিনেকের ছুটি কাটালেও ফের পুরোপুরি ফিট হওয়ার আগেই মাঠে নেমে যেতে হবে তাঁদের। অথবা কোচদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁদের না খেলানোর।

লিভারপুলের চারজন খেলোয়াড় ছিলেন সেমিফাইনালে। তাঁদের মধ্যে নিয়মিত একাদশের ডিফেন্ডার দেয়ান লভরেন ফাইনাল খেলেছেন ক্রোয়েশিয়ার হয়ে। জর্ডান হ্যান্ডারসন খেলেছেন সেমিফাইনাল। এই দুজনকে ৫ আগস্টের আগে আশা করছেন না ইয়ুর্গেন ক্লপ। ২১ দিনের ছুটি কাটিয়ে চার দিনের মধ্যে ওয়েস্টহামের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচেও তাঁদের খেলার সম্ভাবনা নেই বলেই জানিয়েছেন। এই জার্মান কোচ একটু বেশিই উদ্বিগ্ন খেলোয়াড়দের ক্লাব ও আন্তর্জাতিক ফুটবলের ব্যস্ততা নিয়ে। আগামী সেপ্টেম্বরে নতুন উয়েফা নেশনস লিগ মাঠে গড়াচ্ছে ইউরোপের দলগুলোর আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচের সূচিতে। সেই টুর্নামেন্টের যেমন ফরম্যাট, তাতে যতটা গুরুত্ব আরোপ করা হচ্ছে, তা করতেই হবে; কারণ সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত প্রথম পর্বের খেলা শেষে জুনে এর সেমিফাইনাল আর ফাইনালও হবে। তার মানেই চ্যাম্পিয়নশিপের ব্যাপার। দলগুলোর জন্য যা বাড়তি মর্যাদার। শুধু তা-ই নয়, ইউরোতে জায়গা পাওয়ারও সুযোগ থাকবে এই আসর থেকে। বিশ্বকাপ, ইউরো, সঙ্গে নতুন যোগ হওয়া এই নেশনস লিগে খেলার পর ক্লাবে মাঠে খেলোয়াড়দের হাড় ছাড়া আর কিছু পাওয়া যাবে না বলেই আশঙ্কা ক্লপের, ‘এটা সত্যিই ভাবনার বিষয়। নেশনস লিগটাকে তারা যেভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে, তাতে বিশ্বকাপে খেলা প্রতিটি খেলোয়াড়ই ওই সময় আবার দেশে ফিরে যাবে। পরের গ্রীষ্মে আবার তার ফাইনাল। সব কিছুই যদি এত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে, শেষ পর্যন্ত তো মাঠে আমরা খেলোয়াড়দের হাড় ছাড়া আর কিছুই খুঁজে পাব না।’

ক্লপের ভাবনা হয়তো নতুন করে ভাবতে বাধ্য করবে অনদেরও। টটেনহামের ৯ জন খেলেয়াড় ছিলেন এবার সেমিফাইনালে, তাতে তাঁদের মৌসুমটা তো শুরু হবে আরো দুর্বিষহভাবে। তবে যে দলগুলো চ্যাম্পিয়ন খেলোয়াড়দের পাচ্ছে, তারা আবার এর ইতিবাচক দিকটাও খুঁজে নিতে পারে। যেমন—হোসে মরিনহো নিচ্ছেন পল পগবাকে নিয়ে, ‘ওকেও আমরা মৌসুমের শুরুতে পাচ্ছি না। কিন্তু ও বিশ্বকাপ জিতে ফিরছে, এটাই আমাদের  জন্য এখন একমাত্র ইতিবাচক দিক। সে প্রথমবার এই টুর্নামেন্টে গিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়ে ফিরেছে. ওর জন্য এর চেয়ে ভালো কিছু হআর হতে পারে না।’ ২০১৬-তে তখনকার রেকর্ড ট্রান্সফার ফিতে পগবার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁর ওপর প্রত্যাশার বাড়তি চাপ তৈরি। তাতে কখনো ভালো করেছেন, কখনো নয়। মরিনহোর বিশ্বাস, বিশ্বকাপে পগবা নিজেকে আবার ফিরে পেয়েছেন, ‘সে এখন নিশ্চয় বুঝতে পারছে সে কেন এত ভালো, সেটাই আমাদের জন্য হবে প্রাপ্তি।’ এএফপি



মন্তব্য