kalerkantho


জাতীয় দলের মতোই দুশ্চিন্তার ‘এ’ দলের পারফরম্যান্সও

২০ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



আশার কথা, বাংলাদেশ ‘এ’ দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়ানডেতে। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে শেষ বলে ২ রানের নাটকীয় জয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল পেছনে ফেলতে পেরেছে লম্বা দৈর্ঘ্যের ম্যাচে ব্যর্থতার স্মৃতি।

 

 

ক্রীড়া প্রতিবেদক : একটি দেশের জাতীয় দলের দুর্দান্ত হয়ে উঠতে এর ঠিক নিচের স্তরের দলটিকেও হতে হয় প্রায় কাছাকাছি পর্যায়ের। এই মুহূর্তে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের সফল দলগুলোকে বিশ্লেষণ করে এমন উপসংহারেই পৌঁছাচ্ছেন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সাবেক প্রধান নির্বাচক ফারুক আহমেদ, “খেয়াল করলে দেখবেন, এখন যে দলগুলো ভালো করছে, তাদের ভালো ‘এ’ দলও আছে। যাদের এই দলটি ভালো, তাদের জাতীয় দলটিও ভালো করছে।”

জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়কের এই সূত্র দিয়ে অবশ্য আপাতত মেলানো যাচ্ছে না বাংলাদেশ দল এবং এর ‘এ’ দলকে। বিশেষ করে লম্বা দৈর্ঘ্যের ম্যাচে এই দুই দলের ব্যর্থতা যেন একই সমান্তরালে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুই টেস্টের সিরিজে জাতীয় দলের ভরাডুবির মধ্যেও আছে অ্যান্টিগায় প্রথম ইনিংসে নিজেদের ইতিহাসের সর্বনিম্ন ৪৩ রানের লজ্জা। সেই সঙ্গে আছে চার ইনিংসের একটিতেও দুই শ পেরোতে না পারার ব্যর্থতা। একই সময়ে দেশে শ্রীলঙ্কা ‘এ’ দলের বিপক্ষে চলতে থাকা তিন ম্যাচের আন-অফিশিয়াল টেস্ট সিরিজে অবশ্য ব্যাটিংয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু পারফরম্যান্স আছে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যানদের। চট্টগ্রামে বৃষ্টিবিঘ্নিত সিরিজের প্রথম ম্যাচে যেমন সেঞ্চুরির দেখা মিলেছিল মোসাদ্দেক হোসেন ও সাব্বির রহমানের ব্যাটে। কিন্তু সিলেটে শেষ ম্যাচের ব্যর্থতা এমন চরম পর্যায়ের যে সেটির কথাই আলোচিত হচ্ছে বেশি।

হওয়ারই কথা। কারণ সিলেটে শেষ চার দিনের ম্যাচের ব্যাটিং ব্যর্থতা একটু বিস্ময়করই। কারণ এই ম্যাচে ইনিংস ও ৩৮ রানের ব্যবধানে হারা বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দুই ইনিংস মিলিয়ে ২০ উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন লঙ্কান স্পিনাররা। এর মধ্যে ১৪টিই আবার নিয়েছেন দুই বাঁহাতি স্পিনার মালিন্দা পুষ্পকুমারা (৩/৪৮ ও ৬/৪৬) এবং প্রবথ জয়াসুরিয়া (৩/১২ ও ২/২২) মিলে। অফস্পিনার শিহান জয়াসুরিয়াও (৩/৪৭ ও ২/২৩) নিয়েছেন বাকি ৫টি। নিজেদের মাঠে স্পিন ঘূর্ণিতে নাকাল হওয়ার ব্যাপারটিই বিস্ময়ের জন্ম দিচ্ছে বেশি। তাহলে কি নিজেদের পাতা ফাঁদেই পা দিল স্বাগতিকরা? এমন প্রশ্নও উঠছে। তবে এর চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, সারা বছর ঘরোয়া ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনারদেরই সামলে আসা ব্যাটসম্যানরা তাহলে এবার লঙ্কানদের বিপক্ষে এতটা নাজেহাল কেন হলেন?  অ্যান্টিগায় সবুজ ঘাসের গতিময় বাউন্সি উইকেটে খেলার অনভ্যস্ততা জাতীয় দলের ব্যাটসম্যানদের না হয় বেশিই ঘাবড়ে দিয়ে থাকতে পারে, কিন্তু ‘এ’ দলের ব্যাটসম্যানরা নিজভূমে পরবাসীর মতো ব্যাটিং কেন করবেন?

ইত্যাকার প্রশ্ন আসছেই। ফারুক যেমন প্রশ্ন তুলেছেন পরিকল্পনা নিয়েও, “আমি কিন্তু খেলা দেখিনি। তবে দেশের মাটিতে ‘এ’ দলের ব্যর্থতা আমাকে ব্যথিতই করেছে। শেষ ম্যাচটিতে স্পিনাররা যেমন ছড়ি ঘুরিয়েছে, তাতে মনে হচ্ছে আমরা স্পিন উপযোগী উইকেটই বেছে নিয়েছিলাম। আমরা নিশ্চয়ই ওয়েস্ট ইন্ডিজ কিংবা ইংল্যান্ডের সঙ্গে এই ম্যাচ খেলিনি। খেলেছি শ্রীলঙ্কার সঙ্গে, যাদের ব্যাটসম্যানরা স্পিনও ভালো খেলে। আবার ওদের ভালো স্পিনারও আছে। তাহলে আমরা ওদের বিপক্ষে খেলার জন্য এ রকম উইকেট বেছে নিলাম কেন?” ম্যানেজার নাফিস ইকবাল অবশ্য এর একটি ব্যাখ্যা দিলেন, ‘আসলে উইকেট ঠিকই ছিল, ছিল ঘাসও। কিন্তু বৃষ্টির কারণে ঢাকা থাকায় উইকেট ড্যাম্প পড়ে যাওয়াতেই স্পিনাররা বাড়তি টার্ন পেয়েছে।’ তাতেই বাংলাদেশ ‘এ’ দলের দুই ইনিংস শেষ ১৬৭ ও ১০৭ রানে। তা-ও আবার কোন ধরনের বোলারদের সামলে? যে ধরনের বোলারদের বিপক্ষে ঘরোয়া ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি খেলতে হয় ব্যাটসম্যানদের। ওয়েস্ট ইন্ডিজে টেস্ট সিরিজের কোনো ম্যাচই যেমন পুরো তিন দিনও আয়ু পায়নি, দেশে সিলেটের ম্যাচেও তা-ই।

তবে আশার কথা, সিলেটের হারে আন-অফিশিয়াল টেস্ট সিরিজও খোয়ানো বাংলাদেশ ‘এ’ দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে ওয়ানডেতে। যে সিরিজে লঙ্কান দল শক্তি বাড়িয়েছে থিসারা পেরেরার মতো ক্রিকেটারকে উড়িয়ে এনে, সেই দলের বিপক্ষে তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথমটিতে শেষ বলে ২ রানের নাটকীয় জয়ে বাংলাদেশ ‘এ’ দল পেছনে ফেলতে পেরেছে লম্বা দৈর্ঘ্যের ম্যাচে ব্যর্থতার স্মৃতি। গতকাল সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচের হারেও সিরিজ জেতার সুযোগ রয়ে গেছে এখনো। ওয়েস্ট ইন্ডিজে থাকা জাতীয় দলের সামনেও এখন টেস্ট সিরিজের দুঃস্বপ্ন ভুলে সামনে তাকানোর চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জে মাশরাফি বিন মর্তুজার দল ভালো করবে বলেও আশাবাদী ফারুক, ‘ওয়ানডে নিয়ে আমি খুবই আশাবাদী। আশা করব ওরা টেস্ট সিরিজটি মাথা থেকে বের করে দিয়ে ওয়ানডেতে ভালো করবে।’



মন্তব্য