kalerkantho



ক্রোয়েশিয়ায়ও উৎসব

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ক্রোয়েশিয়ায়ও উৎসব

ফাইনালে হার ৪-২ গোলে। দাপট দেখিয়ে, ভালো খেলেও হার ক্রোয়েশিয়ার। তবু দেশে বীরের সম্মানই পেয়েছেন লুকা মডরিচ-ইভান রাকিটিচরা। শত শত ক্রোয়াট ফুটবলভক্ত প্রিয় তারকাদের দেখতে নেমে আসে রাস্তায়। প্রেসিডেন্ট কোলিন্দা-গ্রাবার কিটারোভিচ তো বিশ্বকাপ ফাইনালেই ছিলেন মাঠে। দেশে ফেরার পর বীরদের বরণ করে নিল জনতাও।

১৯৯১ সালে স্বাধীনতা অর্জনের পর ১৯৯৪ সালে, পোপ জন পলের জাগরেব ভ্রমণের সময় সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়েছিল জাগরেবে। মডরিচদের দেখার জন্য ভিড় হলো তার চেয়েও বেশি! জনপ্রিয় ক্রোয়াট গায়ক মার্কো পার্কোভিচ থম্পসন বাসে খেলোয়াড়দের সঙ্গে ঘুরে ঘুরে গান শুনিছেন। পরে খেলোয়াড়রা সবার সঙ্গে একসঙ্গে গেয়েছেন জাতীয় সংগীত। মডরিচদের নিয়ে আসা বিমানটি ক্রোয়েশিয়ার আকাশসীমায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই সামরিক বিমান গার্ড অব অনার দিয়ে নিয়ে আসে বিমানটিকে। তাদের অপেক্ষায় থাকা ভক্তরা প্রহর গুনেছে দেশাত্মবোধক সংগীত গেয়ে।

ছোট্ট জনসংখ্যার দেশ ক্রোয়েশিয়া। ফুটবল সাফল্যও ফ্রান্সের মতো নয়। তবু ফাইনালে খেলায় খেলোয়াড়দের নিয়ে গর্বিত গোটা জাতি। তাদেরই একজন ডাক্তার সানইয়া ক্লাইচ জানালেন, ‘আমি অফিস বন্ধ করে দিয়ে এখানে খেলোয়াড়দের স্বাগত জানাতে এসেছি। সাইনবোর্ড টাঙিয়ে দিয়েছি, খেলোয়াড়দের সংবর্ধনায় আসার কারণে বন্ধ।’ জায়গায় জায়গায় ব্যানার টাঙিয়ে স্বাগত জানানো হয় বীর ফুটবলারদের, তাতে লেখা ছিল, ‘এভাবেই ক্রোয়েশিয়া তোমাদের ভালোবাসে’, ‘আমরা সংখ্যায় অল্প হয়েও আমরা বিশ্বাস করেছিলাম, সেটাই যথেষ্ট।’ বিশ্বকাপের সাফল্যে অর্থনীতিতে চাঙ্গা ভাব আশা করছে ক্রোয়াটরা। প্রেসিডেন্ট তাঁর বার্তায় জানিয়েছেন, ‘আমাদের এই উচ্ছ্বাসকে কাজে লাগিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে হবে।’ বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়ে গেছেন প্রেসিডেন্ট নিজেও, জনসংযোগ বিশেষজ্ঞ বোজো স্কোকো মনে করেন, এতে করে পর্যটকরা আকৃষ্ট হবে ক্রোয়েশিয়া আসতে, ‘গণমাধ্যমের মনোযোগ ও দলের পারফরম্যান্স—সব কিছুই নিঃসন্দেহে পর্যটনের আয় বাড়িয়ে তুলবে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলবে।’ এএফপি



মন্তব্য