kalerkantho


প্রেসিডেন্টের বাসভবন

ঘরে ফেরা তো একেই বলে!

১৮ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



ঘরে ফেরা তো একেই বলে!

মজার কাণ্ড করেছে ফ্রান্সের মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। ছয়টি ট্রেন স্টেশনের নাম সাময়িকভাবে তারা বদলে রেখেছে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের নামে।

ইংলিশ চ্যানেলের ওপারের প্রতিবেশীদের সঙ্গে ফরাসিদের আভিজাত্যের প্রতিযোগিতাটা রীতিমতো প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকেই চলে আসছে! আবার দুই দেশের রাজপরিবারে আত্মীয়তার নজিরও কম নেই। বলা হয়, ফরাসি আর ব্রিটিশরা হচ্ছে একে অন্যের ‘প্রিয় শত্রু’। সেমিফাইনালে উঠে ইংরেজদের ‘ইটস কামিং হোম’ গানকে কাঁচকলা দেখিয়ে বিশ্বকাপের স্বপ্নদ্রষ্টা জুলে রিমের দেশ ফ্রান্সেই বিশ্বকাপের ফিরে আসাটাই তো সত্যিকারের ঘরে ফেরা। এ জন্যই কি প্যারিসে উন্মাদনাটা বেশি! নাকি তরুণ দলের কাছে শিরোপা জয়ের প্রত্যাশা না থাকায় আশাতীত সাফল্যেই এমন বাঁধনহারা উদ্‌যাপন। যে উৎসবে অংশ নিতে গিয়ে ঘটেছে প্রাণহানির ঘটনাও।

বিশ্বকাপ জয়ের পর থেকে যে আনন্দস্রোত বইছে ফরাসি দেশে, সেটা পূর্ণতা পেল গতকাল। ছাদ খোলা বাসে, বিশ্বকাপ ট্রফি নিয়ে গোটা প্যারিস প্রদক্ষিণ করেছেন ফুটবলাররা। ফরাসি বিমানবাহিনীর ৯টি যুদ্ধবিমান লাল, নীল, সাদা ধোঁয়ায় জাতীয় পতাকা এঁকে করেছে ফ্লাইপাস্ট। শাঁ-এলিসেতে ১০ লাখ মানুষের গণজমায়েত, তারা সবাই পতাকা নেড়ে, স্কার্ফ উড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছে দলকে। মজার কাণ্ড করেছে ফ্রান্সের মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ। ছয়টি ট্রেন স্টেশনের নাম সাময়িকভাবে তারা বদলে রেখেছে বিশ্বকাপজয়ী ফুটবলারদের নামে। ঔপন্যাসিক ভিক্তর হুগোর নামে স্টেশন ছিল আগেই, সেটা হয়ে গেছে ‘ভিক্তর হুগো লরি’ স্টেশন। ‘নতর দেম দে শাম্প’ হয়ে গেছে ‘নতর দেম দেশম’! ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ বিশ্বকাপজয়ী ফুটবল দলকে ডেকেছিলেন এলিসি প্রাসাদে। এরপর নৈশভোজে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শতবর্ষের চেয়ে প্রাচীন এবং ফরাসি ঐতিহ্যের আতিথেয়তার জন্য বিখ্যাত হোটেল দে সিরিলঁতে।

ছাদ খোলা বাসে প্রদক্ষিণ শেষে ফুটবলাররা গায়ে চড়ান বিখ্যাত দরজির হাতে বানানো নীল রঙের স্যুট। তাঁদের স্বাগত জানাতে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁ এবং ব্রিজেতও সেজেছিলেন নীল রঙের পোশাকে। ম্যাখোঁ এরই মধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যদের লিজিওন অব অনার উপাধি দেওয়ার, যেটা পেয়েছিলেন ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যরাও। সবাইকে ধন্যবাদ দিয়ে ম্যাখোঁ বলেন, ‘এই দলটা সুন্দর, কারণ দলের সবাই একতাবদ্ধ।’ তাৎক্ষণিকভাবে র‌্যাপ গান গেয়ে অতিথিদের আনন্দ দেন ফাইনালে গোল করা পল পগবা।

এলিসি প্রাসাদের বাগানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল তিন হাজার অতিথিকে, তাদের ভেতর এক হাজার ছিল খুদে ফুটবলার, যারা এসেছে এমবাপ্পের আবাসস্থল প্যারিসের শহরতলি থেকে। বিশ্বকাপ জেতা এই ১৯ বছরের তরুণ ফরাসি টিভি চ্যানেল টিএফ-১-কে বলেছেন, ‘ফ্রান্সের বাসিন্দাদের সুখী করতে পেরে আমরা গর্বিত।’ আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান জানালেন, ‘সত্যি বলতে কী, এখনো ঠিক বিশ্বাস হচ্ছে না। বিশ্বকাপের ওজনটা অনেক বেশি। আমরা চাইছি ফ্রান্সের একটা ভালো ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে, ফ্রান্সের ফুটবলকে একটা মানদণ্ডে পৌঁছে দিতে। আমি আশা করব, তরুণরা ম্যাচটা দেখেছে এবং তারাও একসময় এমন কিছু করে দেখাবে।’

বিশ্বকাপ শেষ, উৎসবের বাজনাও থেমে যাবে। দিনকয়েক পরই ফের ক্লাবের জার্সিতে প্রতিপক্ষ হয়ে উঠবেন গ্রিয়েজমান-ভারান-উমতিতিরা। এর আগে অবশ্য বিশ্রামের পালা! দলের প্রধান মুখপাত্র জানিয়েছেন, ‘খেলোয়াড়রা এখন ছুটিতে।’

ম্যাখোঁ নিজে ছিলেন অলিম্পিক মার্শেইর সমর্থক। ১৯৯৩ সালে, যে বছর তারা চ্যাম্পিয়নস লিগ জিতল, সেবার দলীয় অধিনায়ক ছিলেন দেশম। মিউনিখে দলের ইউরোপসেরা হওয়ার পর নিশ্চয়ই আনন্দে গলা ফাটিয়েছিলেন ১৬ বছরের কিশোর ম্যাখোঁ। ৪১ বছর বয়সে তিনি প্রেসিডেন্ট, এলিসি প্রাসাদে তাঁর সঙ্গে বিশ্বকাপ হাতে দেখা করতে এসেছেন দিদিয়ের দেশম। ফুটবলের মতো গোল পৃথিবীতে এমন অবাক কাণ্ড হয় বলেই বোধ হয় ফুটবল সবচেয়ে জনপ্রিয় খেলা! এএফপি



মন্তব্য