kalerkantho


সেরা মঞ্চেই সব সমালোচনার জবাব

১৭ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



সেরা মঞ্চেই সব সমালোচনার জবাব

পল পগবাকে যখন বিশ্বরেকর্ড গড়া ট্রান্সফার ফি’তে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড দলে নেয়, তখন অনেকেরই চোখ উঠেছিল কপালে। কী অমন জাদু আছে এই ফরাসির পায়ে? ১০৫ মিলিয়ন ইউরো দিয়ে কেন সেই খেলোয়াড়টিকেই ফিরিয়ে আনা, যে আসলে ম্যানইউর একাডেমি থেকেই উঠে আসা ফুটবলার এবং তাঁর ভবিষ্যৎ খুব একটা উজ্জ্বল নয় বলেই জুভেন্টাসের কাছে বিক্রি করে দেওয়া। তাঁকেই যখন আকাশছোঁয়া দামে ফিরিয়ে আনা হলো ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে, তখন চাপা ফিসফিস নানা দিকে। ২০১৪ বিশ্বকাপের সেরা তরুণ খেলোয়াড় পগবা ২০১৮ বিশ্বকাপের ফাইনালের অন্যতম নায়ক। সেরা মঞ্চে জ্বলে উঠেই পগবা বুঝিয়ে দিলেন, জ্বলে উঠতে দেরি করলেও ফুরিয়ে যেতে আসেননি।

ফরাসি ঔপন্যাসিক আলেক্সান্ডার দ্যুমার অমর সৃষ্টি তিন মাস্কেটিয়ার। ফরাসি রাজার বিশেষ এই বাহিনীর নানা রোমাঞ্চকর অভিযানের গল্প এখনো মুগ্ধ করে পাঠককে। যদিও দ্যুমার গল্পে দেখা পাওয়া যায় চার মাস্কেটিয়ারের; অ্যাথোস, পোর্থোস, অ্যারামিস আর দার্তাইন। দেশমের বিশ্বকাপ মিশনের চার মাস্কেটিয়ার নিঃসন্দেহে কিলিয়ান এমবাপ্পে, আন্তোয়ান গ্রিয়েজমান, এনগালো কান্তে আর পল পগবা! আক্রমণ, প্রতিআক্রমণ, রক্ষণে প্রতিপক্ষকে দিশেহারা করে দিয়েছেন তো মূলত এই চারজনই।

ফাইনালে তখন ২-১ গোলে ফ্রান্স এগিয়ে থাকলেও খেলায় দাপট ক্রোয়েশিয়ারই। বলের দখল লুকা মডরিচদের পায়েই বেশি। এমন সময় প্রতিআক্রমণের সূচনা পগবার পায়ে। লম্বা বল বাড়ালেন ডান প্রান্তে, দৌড়ে গিয়ে ধরলেন এমবাপ্পে। বাড়ালেন গ্রিয়েজমানকে। পায়ে বল নাচিয়ে গ্রিয়েজমান দিলেন সেই পগবাকেই, কারণ ততক্ষণে পগবা যে ছুটে চলে এসেছেন! প্রথম শটটা ডিফেন্ডারের পায়ে লেগে প্রতিহত হয়ে পগবার কাছে ফিরে এলো, এবার একটু বাঁয়ে সরিয়ে মারলেন পগবা। সুবাসিচ স্রেফ দর্শক হয়ে থাকলেন। পগবার এই গোলটাই মনোবল ভেঙে দেয় ক্রোয়াটদের। ঝুলে পড়ে রাকিটিচ-মডরিচদের কাঁধ। বুঝতে পারছিলেন, নক আউটে টানা তিনটি ম্যাচ পিছিয়ে পড়ে জিতলেও ফাইনালে আর পারা যাবে না।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পগবার যতরকম অ্যাকাউন্ট আছে; ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম সবগুলোতেই ‘ডিসপ্লে পিকচার’ বদলে ফেলেছেন পগবা। সবখানেই বিশ্বকাপের ট্রফি হাতে ছবি। কোথাও ট্রফিটাকে নবজাতকের মতো বুকে জড়িয়ে চুমু খাচ্ছেন, কোথাও মাথায় তুলে নাচছেন। একজন ফুটবলারের জীবনে, সবচেয়ে আরাধ্য যে স্মারক, সেটা হাতে পাওয়ার পর বাঁধনহারা উল্লাসে তো মেতে ওঠারই কথা!

ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের ওয়েবসাইটেও শুধু পগবা আর পগবা। বিশ্বকাপজয়ীকে অভিবাদন জানিয়েছেন রিও ফার্ডিনান্ড, রয় কিন, নিকি বাট, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচসহ অনেকেই। পগবাও জানিয়েছেন, ‘অবিশ্বাস্য অনুভূতি, অসাধারণ এক স্বপ্নপূরণ। লোকে বিশ্বকাপ শুরুর আগে আমাদের নিয়ে সমালোচনা করেছিল, খারাপ কথা বলেছিল। এখন আমরা জিতেছি এবং তাদের কথা শুনতে চাই। কারণ তারাও তো আমাদের সঙ্গে উদ্‌যাপন করবে। কোনো অসুবিধা নেই। আমরা তাদেরকে আমন্ত্রণ জানাব। লোকেরা যখন আমাদের ওপর ভরসা করে না আর আমরা তাদের দেখিয়ে দিতে পারি, সেটা আমরা খুব উপভোগ করি।’

বিশ্বকাপ জেতার পর ড্রেসিংরুম থেকেই ফেসবুক লাইভে এসে পগবা জানিয়ে দিয়েছেন, ‘চ্যাম্পিয়ন, একটাই কথা, আর কোনো কথা হবে না।’ সমালোচকদের উদ্দেশেও পগবার এখন একটাই কথা—কোনো কথা হবে না! ম্যানইউ ওয়েবসাইট



মন্তব্য