kalerkantho


বীরের মর্যাদা পেলেন হ্যাজার্ডরা

১৬ জুলাই, ২০১৮ ০০:০০



তিনটি দিন কেটেছে যন্ত্রণায়। স্বপ্নের এত কাছে এসে স্বপ্নভঙ্গ, কারই বা সহ্য হয়! হচ্ছিল না ভিনসেন্ট কোম্পানিরও। সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে বিশ্বকাপস্বপ্ন ভেঙে যাওয়ার তিন দিন পর সেই দুঃখ ভোলার একটা উপলক্ষ পেলেন তিনি, সান্ত্বনার তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে। পেছন ফিরে তাকিয়ে এখন আর হতাশা নয়, গর্বই অনুভব করছেন বেলজিয়ামের এই ডিফেন্ডার। এবারই যে ইতিহাসের সেরা সাফল্য পেল বেলজিয়াম!

‘তৃতীয় হয়ে আমি খুবই গর্বিত। তিনটি দিন আমরা খুব ভুগেছি, ফ্রান্সের কাছে হারটা খুব কষ্টকর ছিল। তবে আজ আমরা সত্যিই দেখিয়েছি যে তৃতীয় হওয়াটাও খুব করে চাইছিলাম। বেলজিয়ামের ফুটবল ইতিহাসে এবারই প্রথম তৃতীয় হলাম আমরা, এর চেয়ে গর্বের আর কী হতে পারে’—পরশু রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে জয়ের প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন কোম্পানি।

তাঁর সঙ্গে পুরোপুরি একমত তাঁদের কোচ রবার্তো মার্তিনেস। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা দলটা এত দিন ছিল বেলজিয়ানদের কাছে অনুপ্রেরণার নাম। এবার এর সঙ্গে যোগ হলো নতুন এক প্রেরণা, কোম্পানি-হ্যাজার্ড-লুকাকু-ডি ব্রুইনদের ‘সোনালি প্রজন্ম’। সেবার অবশ্য সেমিফাইনালের পর তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও হেরেছিল এনজো শিফো-ইয়ান কিউলেম্যান্সদের দল। কোম্পানিরা অন্তত সেই দুঃখটা ভুলতে পেরেছেন, তাই বেলজিয়ান ফুটবলে সাফল্যের ইতিহাসটাও লেখা হয়েছে নতুন করে, ‘এটা নিঃসন্দেহে ঐতিহাসিক ঘটনা। ৩২ বছর লাগল এই সাফল্য পেতে, তাই সত্যিই এটা আমাদের আনন্দের উপলক্ষ এনে দিয়েছে।’

মার্তিনেসকে বেশি তৃপ্তি দিচ্ছে যেভাবে এই অর্জনটা এসেছে সেটা, ‘ব্রাজিলকে হারিয়ে সেমিফাইনালে ওঠার পর বিশ্বকাপ জয়ের কথাই মাথায় আসে, আমাদেরও লক্ষ্য ছিল সে রকমই। কিন্তু বাস্তবতাটাও বুঝতে হবে। পেছন ফিরে তাকিয়ে আমার মনে হচ্ছে এই খেলোয়াড়রা বেলজিয়ান ফুটবলে ইতিহাস গড়েছে, আর সেটাই শেষ কথা।’

এই সাফল্যের স্বীকৃতিও পেয়েছে তারা। গতকালই দেশে ফেরার পর ‘রেড ডেভিল’দের জন্য রীতিমতো গণসংবর্ধনার আয়োজন করেছিল বেলজিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। ব্রাসেলসের সিটি সেন্টারে বীরের মতোই বরণ করে নেওয়া হয়েছে তাঁদের।

তবে মার্টিনেজের দৃষ্টি এখন সব কিছু ছাপিয়ে আরো দূরে, তিনি চান এই সাফল্যকে পুঁজি করে নতুন যুগ আসুক বেলজিয়ান ফুটবলে। আর সে জন্য তাঁর পরামর্শ, বয়সভিত্তিক ফুটবলে আরো বেশি মনোযোগ দেওয়া। ‘এই সাফল্য বেলজিয়ামের নতুন প্রজন্মকে ফুটবলে আগ্রহী করে তুলবে। এখনই সময় এই নতুন প্রজন্মের দিকে নজর দেওয়ার। বয়সভিত্তিক ফুটবলের ওপর জোর দিলেই শুধু জাতীয় দলের জন্য নতুন প্রতিভা বিকাশের পথটা খোলা রাখা সম্ভব’—মনে করিয়ে দিয়েছেন এই স্প্যানিয়ার্ড। রয়টার্স, এএফপি



মন্তব্য